জয়ন্ত সাহা: মাথাভাঙ্গা
মাথাভাঙা হাইস্কুল ১৫০ বছরের পুরোনো। স্কুলে পঞ্চম শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্র ছাত্রীর সংখ্য ১ হাজার ২৩০জন। জানালেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক। অথচ স্কুলের মিড ডে মিলের কিচেন শেডে গিয়ে দেখা গেল মিড ডে মিল খেতে এসেছে সাড়ে চারশো পড়ুয়া। কোচবিহার জেলায় এই প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে অনেক দিন ধরে তবে কি মিডে মিলে আগ্রহ কমছে পড়ুয়াদের! মঙ্গলবার স্কুলের প্রধান শিক্ষক জানালেন, ‘‘মোট পড়ুয়ার ৮০ শতাংশ স্কুলে হাজির থাকে। এরমধ্যে সবাই মিড ডে মিল নিতে যায় না। শুধু যেদিন মাংস দেওয়া হয় সেদিন পড়ুয়ার সংখ্যা ৭৫০ ছাড়িয়ে যায়। প্রধান শিক্ষকের কথাতেই স্পষ্ট মিড ডে মিলের মেনু আকর্ষণ করছে না পড়ুয়াদের। স্বাদহীন খাবারে নেই পুষ্টিও। ফলে মিড ডে মিলের উদ্দেশ্যই ব্যহত হচ্ছে স্কুলে স্কুলে। মিড ডে মিলে পড়ুয়াদের পাতে কি আদৌ নতুন সরকারের আমলে ‘পুষ্টি’ ফিরবে? এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে জেলার স্কুল শিক্ষকদের মধ্যে।
উল্লেখ্য গত তিন বছরে প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিকে বরাদ্দ বেড়েছে নাম মাত্র। এই প্রকল্পে কেন্দ্র ও রাজ্যের বরাদ্দ ৬০: ৪০ শতাংশ। নতুন সরকারের শিক্ষামন্ত্রী কে সেটাই এখনও চূড়ান্ত করে উঠতে পারে নি রাজ্যের বিজেপি সরকার। ফলে মিড ডে মিলের পাতে পুষ্টি ফিরবে কিনা সেটা নিয়ে কোন মন্তব্যই করছেন না জেলা শিক্ষা দপ্তরের আধিকারিকেরা।
এবিপিটিএ’র জেলা সভাপতি চন্দ্রকুমার বর্মন বলেন, ‘‘আগের সরকারের আমলে দেদার দান খয়রাতি চললেও মিড ডে মিলে বরাদ্দ অনীহা ছিল। এখন বাজারে সব জিনিসের দাম বাড়ছে হু হু করে। নতুন সরকার ক্ষমতায় এসে পড়ুয়াদের মিড ডে মিলের বরাদ্দ বাড়াবে সেটা আশা ছিল। কিন্তু এই সরকারের কাছেও পড়ুয়াদের পুষ্টি ব্রাত্য রয়ে গেছে।’’
সূত্রের খবর ২০২২ সালে মিড ডে মিলের প্রাথমিকের পড়ুয়াদের মাথা পিছু বরাদ্দ ছিল মাত্র ৫.৪৫ টাকা! এবং উচ্চ প্রাথমিকে মাথাপিছু বরাদ্দ ছিল মাত্র ৮.১৭ টাকা। পরে ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বরে সেই বরাদ্দ নামমাত্র বেড়ে হয় যথাক্রমে ৬.১৯ টাকা এবং ৯.২৯ টাকা। শেষবার ২০১৫ সালের ১ মে থেকে বরাদ্দ বেড়ে হয়েছিল যথাক্রমে ৬.৭৮ টাকা এবং ১০.১৭ টাকা। গ্যাসের দাম এক লাফে বেড়েছে অনেকটাই। বেড়েছে ভোজ্যতেল থেকে আনাজের দামও। পুষ্টি বাড়ানোর বদলে কেন্দ্রীয় সরকার মিড ডে মিলের রান্নায় ভোজ্যতেলের পরিমান কমানোর নির্দেশ দিয়েছে! ফলে মিড ডে মিলের গুনগত মান ক্রমশ কমছে জেলার সর্বত্র। অভিযোগ মিড ডে মিলের মেনুতেও আসে নি কোন বদল। এখন মিড ডে মিলে সপ্তাহে দুদিন ডিম ভাত, দুদিন সবজি ভাত, একদিন সয়াবীনের তরকারি ভাত এবং একদিন ডাল আলুভাতে দেওয়ার কথা। জেলার সিংহভাগ স্কুলেই দুদিন ডিম পাতে পড়ে না এমন অভিযোগও উঠছে। গ্যাসের দাম বাড়ায় মিড ডে মিলের হেঁসেল বন্ধের উপক্রম হতে বসেছে। মিড ডে মিলে রাঁধুনির মজুরি ধরা নেই। এখনকার বাজারদর অনুযায়ী পড়ুয়া পিছু প্রাথমিকে বরাদ্দ ১৫ টাকা এবং উচ্চ প্রাথমিকে ২০ টাকা হলে পড়ুয়ার পাতে পুষ্টি দেওয়া সম্ভব। নাহলে মিড ডে মিল থাকবে, শুধু পড়ুয়ার পাত থেকে পুষ্টি উধাও হবে।
Comments :0