coochbehar municipality

বিপুল অংকের করের বোঝা চাপতে চলেছে কোচবিহার শহরের নাগরিকদের ঘাড়ে, বাড়ছে উৎকণ্ঠা

জেলা

কোচবিহার পৌরসভা। ছবি:- অমিত কুমার দেব।

পৌরবোর্ডের সিদ্ধান্তে বিপুল অংকের করের বোঝা চাপতে চলেছে কোচবিহার শহরের নাগরিকদের উপর। উৎকন্ঠা বাড়ছে শহরবাসীর। সম্প্রতি তৃণমূল পরিচালিত কোচবিহার পৌরসভার বোর্ড মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে ২০১০সালের পর থেকে পুনরায় মূল্যায়ন করা হবে সম্পত্তি করের। এভাবেই পৌরসভার আয় বাড়াতে চাইছে এই পৌরবোর্ড। এর আগেও কোচবিহার শহরবাসীর ওপর বাড়তি কর চাপানোর উদ্যোগ নিয়েছিল এই পৌরসভা। ব্যবসায়ী সহ শহরের নাগরিকদের চাপের মুখে পড়ে এই পৌরবোর্ড। এরপর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী ভোটের কথা চিন্তা করে এই কর বৃদ্ধি স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন পৌরসভাকে। আর ভোট ফুরিয়ে যাওয়ার পর আবারও শহরের নাগরিকদের ওপর এই করের বোঝা চাপাতে চলেছে সংশ্লিষ্ট এই পৌরবোর্ড। পৌরসভার বর্তমান পৌর প্রধান দিলীপ সাহাকে পাশে দাঁড় করিয়ে রেখে ইতিমধ্যেই এব্যাপারে প্রকাশ্যে জানিয়েছেন এই পৌরসভার প্রাক্তন পৌরপ্রধান রবীন্দ্রনাথ ঘোষ।
কোচবিহার শহরের জনগণের ওপর এই করের বোঝা চাপিয়ে পৌরসভার আয় বৃদ্ধি করতে চাইছে এই তৃণমূলী পৌর বোর্ড। খুব শীঘ্রই এই বিষয়ে রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন জানানো হবে। এই মর্মে সিদ্ধান্ত হয়েছে বোর্ড মিটিংয়ে বলে স্পষ্ট জানান রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। এই কর পুনর্মূল্যায়নের পর বাৎসরিক সংগৃহীত করের পরিমান দাঁড়াবে প্রায় ২৫কোটি টাকার বেশি বলে দাবি তার। আর এই পরিমাণ টাকা সংগৃহীত হলে স্বচ্ছল ভাবে চলতে সক্ষম হবে এই পৌরসভা বলে দাবি এই প্রাক্তন পৌর প্রধানের। অর্থাৎ অন্য কোনও বিকল্প পরিকল্পনা নয়, কোচবিহার শহরের নাগরিকদের ওপর করের বোঝা চাপিয়েই আয় বাড়াতে চাইছে এই পৌরবোর্ড। আর এর ফলে বিপুল পরিমাণ অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়তে চলেছেন কোচবিহার শহরের নাগরিকরা, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
 উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসের বিভিন্ন দিনে কোচবিহার শহরের পৌরকর দাতাদের বাড়ি বাড়ি পৌরসভার পক্ষ থেকে পশ্চিমবঙ্গ মূল্যায়ন পর্ষদের ৫৪/ ডব্লিউবিভিবি-তাং -০৬-১০-২০২৩, বিজ্ঞপ্তি নম্বরের একটি নোটিশ পাঠানো হয়। তাতে ত্রৈমাসিক সম্পত্তিকর আরোপ করা হয়। কারও কারও ক্ষেত্রে এই কর বর্তমানের তুলনায় প্রায় ৬০০ থেকে ১হাজার গুণ বাড়ানো হয় এই খসড়া মূল্যায়নে। এমনকি ফাঁকা জায়গার ক্ষেত্রেও অবিশ্বাস্য কর ধার্য্য করা হয়। এই নোটিশ পাবার দুমাসের মধ্যে আপত্তি জানানোর সময় দেওয়া হয় কোচবিহার শহরের নাগরিকদের। এই সময় এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আন্দোলনে শামিল হয় সিপিআই(এম) সহ কোচবিহার নাগরিক অধিকার রক্ষা মঞ্চ। প্রতিবাদে মুখর হন কোচবিহার শহরের ব্যবসায়ীরা। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে এব্যাপারে হস্তক্ষেপ করেন রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী এবং স্থগিত রাখা হয় এই প্রক্রিয়া। এই সময় পৌর প্রধানের দায়িত্বে ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। পরবর্তীতে তাকে এই পৌর প্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দেয় তৃণমূল। এবার আবারও এই পথেই হাঁটতে চলেছে কোচবিহার পৌরসভা বলে মনে করা হচ্ছে।
  তবে এই প্রসঙ্গে কোচবিহার পৌরসভার ১৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মধুছন্দা সেনগুপ্ত স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই কর পুনর্মূল্যায়ন সম্পর্কিত কোন আলোচনাই হয়নি মঙ্গলবারের বোর্ড মিটিংয়ে। এই মিটিং থেকে বাইরে বের হয়ে মনগড়া কথা বলছেন প্রাক্তন পৌর প্রধান। শহরের নাগরিকদের ওপর বাড়তি করের বোঝা চাপানো হলে তীব্র বিরোধিতা করা হবে বলে জানান তিনি। 

Comments :0

Login to leave a comment