কলকাতার আনন্দপুরের নাজিরাবাদে ওয়াও মোমোর কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে শ্রমিকদের মৃত্যুর ঘটনাকে প্রাতিষ্ঠানিক খুন বলে অভিহিত করলো সিআইটিইউ কেন্দ্রীয় কমিটি। বৃহস্পতিবার বিবৃতি প্রকাশ করে একথা জানিয়েছে সিআইটিইউ। ওই কোম্পানির মালিকদের গ্রেপ্তারি ও সংশ্লিষ্ট সরকারি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে এটি কোনও ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগ’ বা ‘নিছক দুর্ঘটনা’ নয়, এটি শ্রমিকদের ঠান্ডা মাথায় প্রাতিষ্ঠানিক হত্যা। লোভী কর্পোরেট এবং রাজ্যের তৃণমূল সরকারের অপরাধমূলক আঁতাতের কারণে তা ঘটেছে।
সিআইটিইউ বলেছে, শ্রমিকরা গুদামটিকে অস্থায়ী রাত্রিকালীন আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার করতেন। ওই দিন রাতে আগুন লাগার সময় বাইরে থেকে তালাবন্ধ ছিল। ফলে আগুন লাগার পর কারখানা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেননি শ্রমিকরা। এটি আধুনিক দাসত্বের এক ভয়াবহ লক্ষণ।
নাজিরাবাদে অগ্নিকাণ্ডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৫। এখনও প্রায় ২৮ জন শ্রমিক নিখোঁজ, যাঁদের বেশিরভাগই পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বাসিন্দা ছিলেন। আশঙ্কা করা হচ্ছে প্রকৃত মৃতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে এবং রাজ্য সরকার সংখ্যাটি চেপে রাখার চেষ্টা করবে এমন সম্ভাবনা রয়েছে।
সিআইটিইউ বলেছে, এই ধরণের বৃহৎ কর্পোরেট সংস্থাগুলি সমস্ত শ্রম আইনকে সরাসরি লঙ্ঘন করে, কাজের নির্দিষ্ট সময়, ওভারটাইমের ভাতা এবং সংগঠিত হওয়ার অধিকার হরণ করে সাম্রাজ্য তৈরি করে। এই শ্রমিকদের ইএসআই এবং প্রভিডেন্ট ফান্ডের মতো সামাজিক সুরক্ষার অধিকারও নেই।
সিআইটিইউ তৃণমূল পরিচালিত রাজ্য সরকারের কাছে প্রশ্ন করেছে যে এই হত্যাকাণ্ডের তিন দিন পরেও কেন 'ওয়াও মোমো' ব্র্যান্ডের মালিকদের গ্রেপ্তার করা হয়নি?
সিআইটিইউ দাবি করেছে, প্রত্যেক মৃত শ্রমিকের পরিবারের জন্য ন্যূনতম ২৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ, পরিবারের সদস্যদের জন্য আজীবন মাসিক পেনশন, মৃতদের পরিবারের একজন সদস্যকে সরকারি চাকরির নিশ্চয়তা এবং রাজ্য সরকারকে ক্ষতিগ্রস্তদের সন্তানদের পড়াশোনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিনামূল্যে উচ্চশিক্ষা সুনিশ্চিত করতে হবে।
রাজ্যের শ্রমিক শ্রেণিকে এই কর্পোরেট-দাস তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আন্দোলন তীব্র করার আহ্বান জানিয়েছে সিআইটিইউ।
CITU
কর্পোরেট-তৃণমূলের আঁতাতে প্রাতিষ্ঠানিক খুন, নাজিরাবাদ কাণ্ডে বলল সিআইটিইউ
×
Comments :0