আর্থীক সমীক্ষা রিপোর্টে স্কুল ছুটের কথা মেনে নিলো কেন্দ্রীয় সরকার। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন সংসদে যে 'আর্থিক সমীক্ষা ২০২৫-২৬ পেশ করেছেন, তাতে দেখা যাচ্ছে অষ্টম শ্রেণির পর পড়ুয়াদের মধ্যে ড্রপ আউটের প্রবনতা দেখা দিচ্ছে। সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশে মাধ্যমিক স্তরে নির্দিষ্ট বয়স-ভিত্তিক নিট এনরোলমেন্ট রেট মাত্র ৫২.২ শতাংশ। বলা হয়েছে ‘ওপেন স্কুলের’ কথাও।
সমীক্ষায় মাধ্যমিক স্তরে এই পিছিয়ে পড়ার পেছনে মূল কারণ হিসেবে পরিকাঠামোগত অসাম্যকে দায়ী করা হয়েছে। গ্রামের মাত্র ১৭.১ শতাংশ স্কুলে মাধ্যমিক স্তরের পঠনপাঠনের সুবিধা রয়েছে। অথচ ৫৪ শতাংশ স্কুল শুধুমাত্র প্রাথমিক ও বুনিয়াদি শিক্ষা প্রদান করা হয়।
শহরের চিত্র কিছুটা ভালো, সেখানে মাধ্যমিক স্কুলের হার প্রায় ৩৮.১ শতাংশ। সরকারের দাবি এই বৈষম্যের ফলে গ্রামের পড়ুয়াদের শহরের স্কুলে আসতে হয় লেখা পড়ার জন্য। আর এই যাতাযাতের সমস্যার জন্য অনেকে আর লেখা পড়া করছেন না।
আর্থিক সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, গ্রামীণ এলাকায় বুনিয়াদি স্তর থেকে মাধ্যমিক স্তরে পড়ুয়াদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাচ্ছে। অন্যদিকে শহরাঞ্চলে মাধ্যমিক স্তরে এনরোলমেন্টের হার ঊর্ধ্বমুখী।
সরকারি স্কুলের সংখ্যা বৃদ্ধি বা পরিকাঠামো গত উন্নয়নের বদলে ‘ওপেন স্কুল’ তৈরি করার ওপর জোড় দেওয়া হয়েছে। নয়া জাতীয় শিক্ষা নীতিতে ক্লাস্টার স্কুল তৈরির কথা বলা হয়েছে। এই রাজ্যেও সেই নীতি চালু হয়েছে।
উল্লেখ্য বিভিন্ন রিপোর্ট বলছে গোটা দেশে স্কুলমুখি পড়ুয়ার সংখ্যা কমেছে প্রায় ৩৭ লক্ষ। আমাদের রাজ্য তার থেকে কোন ভাবে ব্যাতিক্রম নয়। করোনা পরবর্তী সময় থেকেই এই রাজ্যে ড্রপ আউট বাড়ছে। গোটা দেশে ৫৭ শতাংশ স্কুলে কম্পিউটার রয়েছে, ৫৪ শতাংশ স্কুলে রয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবা।
২০১৪-১৫ থেকে ২০২৩-২৪ প্রায় দশ বছরে গোটা দেশে সরকারি স্কুলের সংখ্যা কমেছে আট শতাংশ। বেসরকারি স্কুলের সংখ্যা দেশে বেড়েছে ১৪.৯ শতাংশ। কোন সংস্থার তথ্য নয়, সরকারি তথ্য। চলতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে এই পরিসংখ্যান সংসদে পেশ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। সরকারি তথ্য বলছে এই সময়কালে দেশে ১১,০৭,১০১ থেকে সরকারি স্কুলের সংখ্যা কমে হয়েছে ৮৯,৪৪১। সেই জায়গায় বেসরকারি স্কুল ৪২,৯৪৪ থেকে বেড়ে হয়েছে ৩,৩১,১০৮।
Financial survey report
ড্রপ আউটের কথা মানলো কেন্দ্র, সরকারি স্কুলের বদলে রিপোর্টে উল্লেখ ‘ওপেন স্কুল’
×
Comments :0