UGC Supreme Court

ইউজিসি-র নতুন বৈষম্যবিরোধী বিধিতে স্থগিতাদেশ সুপ্রিম কোর্টের

জাতীয়

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) আনা নতুন বৈষম্য বিরোধী বিধি কার্যকরের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করলো দেশের শীর্ষ আদালত। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট এই নির্দেশ দিয়ে জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির কিছু অংশ অত্যন্ত ‘অস্পষ্ট’ এবং এর অপব্যবহার হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই বিধি প্রয়োগ স্থগিত থাকবে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী নতুন নির্দেশিকাগুলি সমাজে বিভাজন তৈরি করবে এবং বিভিন্ন অংশে এর প্রভাব পড়বে। নির্দেশিকা গুলির প্রয়োগ পদ্ধতি নিয়ে অস্পষ্টতা থাকায় এর অপব্যবহারের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না দাবি করেছে সুপ্রিম কোর্ট।
আপাতত ২০১২ সালের পুরনো নির্দেশিকাগুলিই কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
চলতি মাসের শুরুতেই ইউজিসি এই নতুন নিয়মাবলি বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করে। সেখানে দেশের প্রতিটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একটি করে ইকুইটি কমিটি গঠন করা বাধ্যতামূলক করা হয়। এই কমিটির কাজ ছিল বৈষম্যের অভিযোগ খতিয়ে দেখা। 
নিয়ম অনুযায়ী, এই কমিটিতে ওবিসি, তপশিলি জাতি, তপশিলি উপজাতি, বিশেষ সক্ষম ব্যক্তি এবং মহিলাদের প্রতিনিধি থাকা আবশ্যক ছিল। এই নির্দেশিকার পরই দেশের বিভিন্ন রাজ্যে পড়ুয়াদের মধ্যে বিক্ষোভ শুরু হয়। সমালোচকদের দাবি ছিল, এই নিয়মগুলি নির্দিষ্ট লক্ষ্য পূরণের বদলে অপপ্রয়োগের হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।
শীর্ষ আদালতের এই হস্তক্ষেপের ফলে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে আপাতত পুরনো নিয়মই বজায় থাকছে। কেন্দ্র বা ইউজিসি এই স্থগিতাদেশের প্রেক্ষিতে আগামীতে কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার।
গত ১২ জানুয়ারি জারি হয়েছে ইউজিসি’র এই নির্দেশিকা। এর আগে, ২০১২ থেকেও নির্দেশিকা ছিল, তবে সেখানে ওবিসি-র উল্লেখ ছিল না। রোহিত ভেমুলার মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর মা সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েছিলেন ২০১৯ সালে। ২০২৫-এ সুপ্রিম কোর্টের তৎকালীন দুই বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং উজ্জ্বল ভুইঁঞা ‘সমতা বিধি’ প্রয়োগের মতো নির্দিষ্ট নিয়ম চালু করার নির্দেশ দেয়। ২০২৫’র ফেব্রুয়ারিতে খসড়া নিয়ম প্রকাশ করেছিল ইউজিসি। সম্প্রতি তা চালু করা হয়েছে।
সিপিআই(এম) বলেছে যে পাঠক্রমে ‘মনুস্মৃতি’ রেখে সমতায় পৌঁছানো যায় না। মনুস্মৃতিতেই বর্ণভেদের পক্ষে সওয়াল করা হয়েছে। শোষণভিত্তিক সামাজিক বন্দোবস্তের পক্ষে সওয়াল করা হয়েছে। পাঠক্রম থেকে মনুস্মৃতি সরাতে হবে। 
সেই সঙ্গে বলা হয়েছে যে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রী ও সংশ্লিষ্ট সব অংশের উচিত একতা বজায় রাখা। কারণ, সকলের মিলিত প্রয়াসেই জাতপাত ভিত্তিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে কার্যকর লড়াই গড়ে তোলা সম্ভব।

Comments :0

Login to leave a comment