দেশের উন্নতি, সাফল্য নিয়ে প্রতিদিন কতই না উৎসাহব্যঞ্জক গল্প, তথ্য পরিসংখ্যান পাওয় যায় প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে বিজেপি-র নেতা মন্ত্রীদের কাছ থেকে। প্রতিদিনের আবহাওয়া সংবাদের মতো গোদী মিডিয়া জানিয়ে দেয় অর্থনীতি বুদ্ধির হার, মূল্যবৃদ্ধি তলানিতে নামার কথা। বুক বাজিয়ে সবচেয়ে যেটা প্রচার হয় সেটা হলো ভারতের অর্থনীতির বিকাশ হচ্ছে বিশ্বের যে কোনও দেশ থেকে বেশি হারে। মোদী ঘোষিত বিকশিত ভারতের স্বপ্নকে জীবন্ত রাখতে হলে বিকাশের উচ্চ বা সর্বোচ্চ দেখানো ছাড়া উপায় নেই। যদিও ভারতের অর্থনীতি এখন যে জায়গায় দাঁড়িয়ে এবং যে হারে বৃদ্ধি ঘটছে তাতে মোদী ঘোষিত বিকশিত ২০৪৭ সালে অলীক স্বপ্ন ছাড়া আর কিছুই নয়। বর্তমানে মোদী সরকারের বিতর্কিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী যে হারে অর্থনীতি অর্থাৎ জিডিপি-র বৃদ্ধি ঘটছে তাতে ২০৬০ সালেও বিকশিত ভারত বা উন্নত ভারত হবার সম্ভাবনা নেই। প্রতিনিয়ত প্রচার চলছে এবং সরকার পরিসংখ্যান দিচ্ছে দেশে নাকি মূল্যবৃদ্ধির হার শূন্যের কাছাকাছি অর্থাৎ মোদী জমানায় দেশে জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে না। কিন্তু বাজারে গেলে প্রত্যেকেই বুঝতে পারছে প্রতিটি জিনিসের দাম কিভাবে বাড়ছে। সম্প্রতি জিএসটি-র হার কমিয়ে জোর প্রচার হয়েছে জিনিসের দাম আরও কমে যাবে। কিন্তু সত্যি সত্যি কোনও জিনিসের দাম কমেছে এমনটা কেউ টের পাননি। সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতাই বুঝিয়ে দিচ্ছে সাফল্যের ঢাক পেটানোর জন্য মোদী সরকার সরকারি শিলমোহর দিয়ে যে সব তথ্য পরিসংখ্যান বাজারে হাজির করছে তার আদৌ বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। তেমনি জিডিপি-র যে হার বাজারে ছাড়া হচ্ছে তাতে কতটা জল মেশানো বলা মুশকিল।
তার অর্থ এই নয় যে দেশে কোনও উন্নয়ন হচ্ছে না, অর্থনীতির বৃদ্ধি ঘটছে না। জিডিপি অবশ্যই বাড়ছে, আয় বাড়ছে, সম্পদ বাড়ছে। তবে প্রশ্ন হলো সেই আয়, সম্পদ কি সত্যি সত্যি সাধারণ মানুষের ঘরে যাচ্ছে, নাকি উপরতলার অল্প সংখ্যক মানুষ সব লুটেপুটে খাচ্ছে। এই গুরুতর প্রশ্নের জবাব খানিকটা মিলবে আয় ও সম্পদের বৈষম্য সংক্রান্ত বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক রিপোর্ট। ওয়াল্ড ইনইকোয়ালিটি ল্যাব রিপোর্ট অনুযায়ী দেশের অগণিত মানুষ প্রতিদিন শ্রম দিয়ে যে সম্পদ সৃষ্টি করে চলেছেন ন্যায়সঙ্গত হারে সেই সম্পদ তাদের ঘরে আসে না। চলে যায় উপরতলার মুষ্টিমেয় বিত্তবানের হাতে। ভারতের মোট সম্পদের ৪০ শতাংশের মালিকানা ভোগ করে মোট জনসংখ্যার মাত্র এক শতাংশ মানুষ। আর উপর তলার ১০ শতাংশ মানুষের হাতে আছে দেশের ৬৫শতাংশ সম্পদ। তেমনি আয়ের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। মোট আয়ের ৫৮শতাংশ উপরের ১০ শতাংশের কাছে। অর্থাৎ মোদীরা উন্নতি, বিকাশের যে গল্প প্রতিদিন মানুষকে শোনাচ্ছেন সেটা আদৌ দেশের সাধারণ মানুষের গল্প না। সেটা আসলে বিত্তবানদের গল্প। মোদী তাদেরই প্রতিনিধিত্ব করেন। তথ্য, পরিসংখ্যানের মারপ্যাঁচে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হয়। বাস্তবে মানুষের আয় বাড়ে না, সম্পদ বাড়ে না। শুধু বৈষম্য বেড়ে যায়। গত এক দশকে বৈষম্য বৃদ্ধির দৌড়ে মোদীর ভারত বিশ্বে এক নম্বর স্থান দখল করে নিয়েছে।
India and Inequality
বুদ্ধিতে নয় বৈষম্যে সেরা
×
Comments :0