মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েলের সংঘাত শেষ করার জন্য তিনটি শর্ত সামনে রাখলো ইরান। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তেহরানের ‘বৈধ অধিকার’ স্বীকৃতি না দিলে এবং ভবিষ্যতে হামলা না করার নিরাপত্তা নিশ্চিত না করলে যুদ্ধ থামার কোন সম্ভাবনা নেই।
এক্সহ্যান্ডেলে ইরানের রাষ্ট্রপতি পেজেশকিয়ান বলেন, এই যুদ্ধ বন্ধের একমাত্র পথ হলো, আন্তর্জাতিক মহলে ইরানের সার্বভৌমত্ব ও অধিকারকে মেনে নেওয়া। যুদ্ধের ফলে ইরানের যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য আর্থিক ও অবকাঠামোগত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ভবিষ্যতে ইরান আর কোন আগ্রাসনের শিকার হবে না এই মর্মে দৃঢ় আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতির দাবি করেছে ইরান।
মাসুদ পেজেশকিয়ানের কথায়, ‘এই যুদ্ধ জায়নবাদী গোষ্ঠী ও যুক্তরাষ্ট্র শুরু করেছে। শান্তি তখনই সম্ভব যখন আমাদের শর্তগুলো পূরণ হবে।’
শান্তির প্রস্তাব দিলেও তেহরানের সুর কিন্তু যথেষ্ট নরম নয়। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র আবুলফজল শেকারচি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবি-তে (IRIB) কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, ওয়াশিংটন যদি ইরানের কোন বন্দরে হামলা চালায়, তবে পারস্য উপসাগরের কোন অর্থনৈতিক কেন্দ্র বা বন্দর নিরাপদ থাকবে না।
শেকারচি হুঙ্কার দিয়ে বলেন, ‘আমাদের ডক বা বন্দরে আঘাত করা হলে ওই অঞ্চলের প্রতিটি বন্দর আমাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।’ তিনি এই অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনাদের বিতাড়িত করার জন্য প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইজরায়েলি কর্মকর্তারা এখন স্বীকার করছেন যে, ব্যাপক বোমাবর্ষণ সত্ত্বেও ইরানের বর্তমান সরকারের পতন হওয়ার কোন নিশ্চিত লক্ষণ নেই। যদিও হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং বেশ কয়েকজন সামরিক আধিকারিক নিহত হয়েছেন। কিন্তু সাধারণ জনগণের মধ্যে বড় ধরনের কোন গণ-অভ্যুত্থান দেখা যাচ্ছে না।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার ইঙ্গিত দিলেও ইজরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, ওয়াশিংটন এখনই অভিযান বন্ধ করার কোন নির্দেশ দেওয়ার পর্যায়ে নেই।
তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত থাকায় সাধারণ মানুষের জীবন বিপর্যস্ত। একদিকে মার্কিন-ইজরায়েলি বোমাবর্ষণ, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ কঠোর বিধিনিষেধ —সব মিলিয়ে ইরানি নাগরিকরা এখন এক ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। যদিও গত জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী প্রতিবাদ কঠোরভাবে দমন করা হয়েছিল। তবুও বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ইরানের দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতাকে বড় প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
Iran Israel War
যুদ্ধ থামাতে তিন শর্ত ইরানের
×
Comments :0