SFI Rally Kolkata

নীতি বদলায়নি, বদলাতে হবে সরকার; আহ্বান কলকাতার ছাত্র সমাবেশে

কলকাতা

বুধবার এসএফআই কলকাতা জেলা সম্মেলনের প্রকাশ্য সমাবেশে ‘সুদীপ্ত মিছিল’। ছবি ও ভিডিও: প্রিতম ঘোষ

পূজা বোস
নবীন প্রজন্মের মেরুদণ্ড টান রাখতে চেয়েছিল পূর্বতন বামফ্রন্ট সরকার।   শিক্ষাকে অবৈতনিক করা হয়েছিল। সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থায় জোর দেওয়া হয়েছিল। তাকেই ধ্বংস করতে নেমেছে কেন্দ্রের বিজেপি এবং রাজ্যের তৃণমূল সরকার। নীতি বদলায়নি, তাই সরকার বদলাতে হবে। ছাত্রসমাজকেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হবে। দুর্নীতিবাজ আর দাঙ্গাবাজের হাত দেশ বা রাজ্যকে ছেড়ে দেওয়া যাবে না। 
বুধবার গোলপার্কে সাউথ সিটি কলেজের সামনে ছাত্র সমাবেশে এই আহ্বান জানিয়েছেন এসএফআই’র প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক এবং গণ আন্দোলনের নেতা শমীক লাহিড়ী। এসএফআই কলকাতা জেলা ৩৪তম সম্মেলনের প্রকাশ্য সমাবেশ হয় বুধবার। বক্তব্য রাখেন সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে, জেলা সভাপতি বর্ণনা মুখার্জি এবং জেলা সম্পাদক দীধিতি রায়। 


বক্তব্য রাখছেন শমীক লাহিড়ী। মঞ্চে দেবাঞ্জন দে, দীধিতি রায় ও বর্ণনা মুখার্জি। 

এদিন হাজরা ল’ কলেজ এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দু’টি মিছিল আসে সমাবেশ স্থলে। 
সিপিআই(এম) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য লাহিড়ী বলেন, ‘‘নির্বাচন হচ্ছে। ছাত্রদের শিক্ষা, যুবকদের কাজ দিলে তার উপরে ভোট হবে। কিন্তু এরা কোনোটাই করেনি। তাই ওরা চাইছে মন্দির, মসজিদ, বিভাজন দিয়ে ভোট করছে। তিনি বলেন, কেন্দ্রের বিজেপি সেনাবাহিনীতেও ‘অগ্নিবীর’ প্রকল্পে অস্থায়ী নিয়োগ চালু করে। আর এ রাজ্যে তো স্কুল, কলেজ থেকে পুলিশ সর্বত্র অস্থায়ী। এদের নীতি হলো সব অস্থায়ী থাকবে। কেবল স্থায়ী থাকবে দিদি, মোদী আর ভাইপো।’’
লাহিড়ী বলেন, ‘‘এই অবস্থা পরিবর্তনের বার্তা দিতে হবে ছাত্রছাত্রীদের।  স্বাধীনতা আন্দোলনেও ষোল থেকে কুড়ি বয়স জীবন দিয়েছিল। সেই স্বাধীনতা আজকে কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। আপনারাই পারবেন রাজ্যের অবস্থার পরিবর্তন করতে। এই জন্য সরকার পাল্টাতে হবে, এই লড়াইতে আপনাদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।’’


আমেরিকা-ইজরায়েলের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ আর নরেন্দ্র মোদী সরকারের আত্মসমর্পণের নীতির বিরুদ্ধেও ছাত্রছাত্রীদের সরব হওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা। 
দেবাঞ্জন বলেন যে ক্যাম্পাসের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে এসএফআই ঢুকতে পারবে কিনা তার ওপর। তিনি বলেন, ‘‘ক্যাম্পাসের ভিতরে তৃণমূল বলে কিছু নেই। এমন জায়গায় নিয়ে এসেছে যে একজন ছাত্রও নেই যে তৃণমূল করবে। কলকাতা সহ রাজ্যের সব ক্যাম্পাস আমাদের ডাকছে। এসএফআই ক্যাম্পাসের ভিতরে ঢুকতে পারবে কিনা তার উপরে নির্ভর করছে ক্যাম্পাসের ভবিষ্যৎ।’’
এই ছাত্রনেতা বলেছেন, ‘‘স্কুল বাঁচানোর লড়াই সবাইকে একসাথে নিয়ে গড়ে তুলতে হবে। ছাত্র সংসদ নির্বাচন ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে হলে এসএফআই জিতবে।’’ তিনি বলেন, ‘‘সিলেবাস থেকে আকবরকে মুছে দিচ্ছে যাতে  ছেলেমেয়েরা ধর্ম নিরপেক্ষতা বিষয়টিই ভুলে যায়। তাই চাইছে নাগপুরের আরএসএস। ষাটের দশকের আন্দোলনের বাদ দেওয়া হচ্ছে, গণআন্দোলনের ইতিহাস বাদ দিচ্ছে যাতে গণকণ্ঠ যাতে না জেগে ওঠে।’’

Comments :0

Login to leave a comment