রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে অসম্মান করার বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্র সরকার রাজ্যকে চিঠি লিখে দুই আধিকারিককে ডেপুটেশনে পাঠানোর দাবি জানিয়েছে। প্রোটোকল লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে দার্জিলিঙ জেলা শাসক মনীশ মিশ্র এবং শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনার সি সুধাকরকে ডেপুটেশনে পাঠানোর দাবি জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। রাষ্ট্রপতির সফরের দায়িত্বে ছিলেন দার্জিলিং জেলা শাসক মনীশ মিশ্র। কেন্দ্র সরকার তিন দিনের মধ্যে ডেপুটেশনের দাবিতে চিঠি লিখেছে। বৃহস্পতিবার চিঠিটি পাঠানো হয়। শুক্রবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি’র সরকার দার্জিলিং জেলা শাসক মনীশ মিশ্রকে বদলি করে দেয়। তাঁকে স্বরাষ্ট্র বিভাগের বিশেষ সচিব নিযুক্ত করা হয়েছে। তাঁর জায়গায় দার্জিলিংঙ’র জেলা শাসক হিসেবে সুনীল আগরওয়ালকে নিযুক্ত করা হয়েছে। তিনি নর্থ বেঙ্গল ডেভেলপমেন্ট অথরিটির স্পেশাল সেক্রেটারি ছিলেন।
গত ৭ মার্চ সাঁওতাল সম্মেলনে শিলিগুড়িতে আসেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। মঞ্চে রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি। শিলিগুড়ির কাছে গোঁসাইপুরে আন্তর্জাতিক সাঁওতাল কাউন্সিলের অনুষ্ঠানে যোগদিতে বাগডোগরা বিমানবন্দরে নেমে তিনি প্রথমে গোসাইপুরে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন। পরে বিধাননগরে মূল সম্মেলনে উপস্থিত হন। তবে অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকেই রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, বিধাননগরে পর্যাপ্ত জায়গা থাকা সত্ত্বেও নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে প্রশাসন প্রথমে এখানে অনুষ্ঠানের অনুমতি দিতে চায়নি। এর ফলে আয়োজকদের বারবার অনুষ্ঠানস্থল পরিবর্তন করতে হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, এতে আয়োজকদের অনেক সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে। তিনি বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে ‘বোন’ বলে উল্লেখ করে বলেন, ‘‘মমতা ব্যানার্জি আমার বোনের মতো, আমিও বাংলার মেয়ে। তবুও কেন এই ধরনের বাধা দেওয়া হলো, তা দুঃখজনক।’’ বিধাননগরে আয়োজনের সুযোগ থাকলেও রাজ্য প্রশাসন সেই অনুমতি দেয়নি। তার বদলে সেখান থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে বাগডোগরার গোঁসাইপুরে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ফলে সাঁওতালি বহু মানুষ সেখানে পৌঁছতেই পারেননি। ক্ষোভ আড়াল না করেই রাষ্ট্রপতি সেদিন বলেন, হয়তো প্রশাসন ভেবেছিল ওখানে কেউ যেতে পারবেন না। তাই রাষ্ট্রপতি এসে ফাঁকা জায়গায় অনুষ্ঠান করেই ফিরে যাবেন। সবকিছু দেখে আমি খুবই দুঃখিত। জানি না প্রশাসনের মনে কী ছিল। সাধারণত রীতি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি এলে মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্যের মন্ত্রীদের উপস্থিত থাকার কথা। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী ম্যাডাম তো আসেননি। আমি তো বাংলারও মেয়ে। কিন্তু আমাকে তো এখানে আসতেই দেন না। মমতাদিদি আমারও ছোট বোন। জানি না, হয়তো আমার উপরে কোনও কারণে রাগ করেছেন। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় সরকার শিলিগুড়ি পুলিশ সুপার এবং দার্জিলিংঙ’র জেলা শাসককে ডেপুটেশনে ডেকে পাঠায়। আইপিএস এবং আইএএস উভয় আধিকারিক বাংলা ক্যাডার। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এই সমস্ত ঊর্ধ্বতন অফিসারদের ক্যাডার নিয়ন্ত্রণ করে। তাই তারা এই দুই অফিসারের ডেপুটেশন চায়। যেহেতু রাষ্ট্রপতি দেশের সাংবিধানিক প্রধান, তাই যদি তাঁর নিরাপত্তা বা প্রোটোকলের কোনও ত্রুটি থাকে, তাহলে কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্য সরকারকে না জানিয়েই তাঁকে কেন্দ্রীয় ডেপুটেশন থেকে অপসারণ করতে পারে। নিয়ম অনুসারে, প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় সরকার আইপিএস অফিসারদের বদলি এবং ডেপুটেশনের বিষয়ে রাজ্যের সিদ্ধান্তগুলিকে অগ্রাহ্য করতে পারে। এখন, যদি কোনও রাজ্য সরকার নির্বাচিত অফিসারকে কেন্দ্রীয় ডেপুটেশনে পাঠাতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে সেই অফিসারকে পাঁচ বছরের জন্য কেন্দ্রীয় ডেপুটেশন থেকে নিষিদ্ধ করা যেতে পারে। কেন্দ্রীয় ডেপুটেশনে যাওয়ার জল্পনার মধ্যেই দার্জিলিঙ জেলাশাসক মনীশ মিশ্রকে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরে বদলি করা হলো।
Darjeeling DM Manish Mishra Transfer
দার্জিলিংঙ’র জেলাশাসককে সরিয়ে দিল নবান্ন
×
Comments :0