অঞ্জন বেরা
রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান-আগ্রাসনে সমর্থনে আমেরিকান সেনেট সায় দিলেও সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে ফারাক যৎসামান্য। গতকাল বুধবার সেনেটে ভোটাভুটিতে ট্রাম্পের পক্ষে সায় দিয়েছেন ৫২ জন। বিরোধিতা ৪৭ জনের। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে মার্কিন সমাজও বেশ দ্বন্ধমুখর। মার্কিন জনগণের একটা বড় অংশ চাইছে না যুদ্ধ চলুক পশ্চিম এশিয়ায়।
দোসর ইহুদীবাদী ইজরায়েলের সঙ্গে মিলে ইরান-যুদ্ধে প্রতিদিন কয়েক হাজার কোটি টাকা খরচ হচ্ছে আমেরিকার। একটি মার্কিন রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ইরানে আগ্রাসনের প্রথম চব্বিশ ঘণ্টায় আমেরিকার খরচ হয়েছে প্রায় ৭৭ কোটি ৯০ লক্ষ মার্কিন ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৬,৯০০ কোটি টাকা। যুদ্ধ আরও এক মাস চলতে পারে বলে হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প সাহেব। খরচের পরিমাণ বাড়বে সমানুপাতে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের কথা মতো দীর্ঘস্থায়ী হলে যুদ্ধে আমেরিকার অন্তত ২১ হাজার কোটি মার্কিন ডলার খরচ হতে পারে। ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৮.৮৭ লক্ষ কোটি টাকা। মার্কিন অর্থনীতির বেহাল আর্থিক অবস্থায় এই বিপুল পরিমাণ বাড়তি খরচ নিজের দেশবাসীর উপর চাপিয়ে দিচ্ছে আমেরিকা ও ইজরায়েলের সরকার। ফলে যুদ্ধ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। উঠেছে শুধু সেনেটে নয়, রাস্তায় এবং মহল্লায় মহল্লায়।
গত কয়েক বছর ধরে প্যালেস্তাইন, ভেনেজুয়েলা থেকে ইরানে মার্কিন বর্বরতা এবং হত্যাভিযান সাম্রাজ্যবাদের সবচেয়ে আগ্রাসী ‘গ্যাংস্টার’-পর্বকে স্পষ্ট থেকে স্পষ্টতর করছে। মার্কিন বৃহৎ ও একচেটিয়া পুঁজির আদরের ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে এই ‘গ্যাংস্টার’-পর্ব নগ্নভাবে আদল পাচ্ছে। ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচার পর্বে যেমন বলেছিলেন তেমন ভাবেই মার্কিন পুঁজিবাদী অর্থনীতি সাম্প্রতিককালের সবচেয়ে সঙ্কটময় পর্বে নজিরবিহীনভাবে উন্মোচিত হচ্ছে।
ট্রাম্প সাহেব দেশের মধ্যে অশ্বেতাঙ্গ অভিবাসী জনগণকেই মার্কিন জনগণের বর্তমান দুরবস্থার জন্য প্রথম টার্গেট করেন। তারপর তার হাতিয়ার হয়ে উঠে অন্যান্য দেশের পণ্যের উপর নজিরবিহীন হারে শুল্ক আরোপ।
পশ্চিম এশিয়ায় বিশেষত প্যালেস্তাইনের গাজায় দখলদারি ইজরায়েলী বাহিনীর অবাধ শিশু ও নারী হত্যার সমর্থনে সবচেয়ে খোলাখুলিভাবে দাঁড়ান বর্তমান মার্কিন রাষ্ট্রপতি। গাজায় ইজরায়েলী বাহিনীর অবাধ গণহত্যা আধুনিক বিশ্বের ইতিহাসে বেনজির। এরকম বর্বরতা অভাবনীয়। নয়া উদারবাদ পর্বে রাষ্ট্রসঙ্ঘকে সবচেয়ে নস্যাৎ করা হয়েছে প্যালেস্তাইন প্রশ্নে। তথাকথিত ইহুদীবাদী ইজরায়েল এই কূটনৈতিক বর্বরতার প্রধান পান্ডা। প্যালেস্তাইন প্রশ্নে রাষ্ট্রসঙ্ঘের কার্যত একটি সিদ্ধান্তও ইজরায়েল-আমেরিকা মানেনি। অগ্রাহ্য করেছে রাষ্ট্রসঙ্ঘকে। নয়া উদারবাদ পর্বের প্রথম পর্যায়ে আমেরিকা ও তার স্যাঙাতরা রাষ্ট্রসঙ্ঘর অন্তত রাবার-স্ট্যাম্প ভূমিকা চাইতো। ট্রাম্প-জমানা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে রাষ্ট্রসঙ্ঘকে যেন নাম-কা-ওয়াস্তে ভূমিকাতেও চাইছে না!
ইতিমধ্যেই রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে রাষ্ট্রসঙ্ঘের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সহ ৬৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে আমেরিকা বেরিয়ে গেছে। গত ৭ জানুয়ারি (২০২৬) এই মর্মে হোয়াইট হাউস থেকে সরকারি নির্দেশিকা জারি হয়। আমেরিকান রাষ্ট্রপতির নির্দেশে বলা হয়, আমেরিকার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট নয় এমন সংস্থাগুলি থেকেই তারা সরে যাচ্ছে। সংস্থাগুলির মধ্যে ৩১টি সংস্থা রাষ্ট্রসঙ্ঘ ভূক্ত। ৩৫ টি সংস্থা রাষ্ট্রসঙ্ঘভুক্ত নয়।
আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি বেরিয়ে যাওয়ার ক’দিন আগেই, ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রপতি মাদুরোকে সস্ত্রীক তাঁদের সরকারি বাসভবন থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায় আমেরিকান সেনাবাহিনী। মধ্যযুগীয় বর্বর জলদস্যুদের মতন বিশ্বব্যবস্থাকে ভাঙতে চাইছে ওয়াশিংটন। ট্রাম্পের আমেরিকা এখন ‘দুর্বৃত্ত রাষ্ট্র’ বা ‘রোগ স্টেট’ হতে চায়।
ভেনেজুয়েলার পর কিউবা সহ একাধিক লাতিন আমেরিকান দেশেও ওয়াশিংটন পছন্দসই পুতুল শাসক বসাতে চাইছে। কিউবাকে তার চাই রাজনৈতিক কারণে। লাতিন আমেরিকায় বিকল্প নীতির দিশারি সমাজতান্ত্রিক কিউবায় ব্যবস্থা বদল ছাড়া ‘গ্যাংস্টার সাম্রাজ্যবাদ’-এর স্বস্তি নেই।
তবে ‘গ্যাংস্টার সাম্রাজ্যবাদ’ যেহেতু লাগামহীন তাই শুধু লাতিন আমেরিকা নয়, আমেরিকার বানানো যুদ্ধ-জোট ‘ন্যাটো’-ভুক্ত কানাডা এবং ডেনমার্ককেও ট্রাম্পের চাই। দুটি দেশেরই ভূখণ্ড দখল করতে তৎপর আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র। ডেনমার্কের গ্রিনল্যান্ড এবং কানাডার খনিজ তেল সমৃদ্ধ আলবার্টা প্রদেশের উপর আমেরিকার ব্যবসায়ী রাষ্ট্রপতির নজর পড়েছে। এই নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মনকষাকষি চলছে ট্রাম্প ও তাঁর স্যাঙাতদের। যত সহজে আমেরিকা ভেনেজুয়েলাকে শায়েস্তা করতে চায় তত সহজে তারা ন্যাটো শরিক ইউরোপীয়দের শায়েস্তা করতে পারছে না।
তবে চীন ও রাশিয়ার প্রশ্নে আমেরিকা এখন সম্ভবত জল মাপছে। চীন এবং রাশিয়া তাদের বড় টার্গেট। ইরানকে কবজা করতে পারলে পশ্চিম এশিয়ায় তারা দখলদারি বাড়িয়ে নেবে অনেকটাই। বিশ্ব রাজনীতিতে বহু-পাক্ষিক প্রবণতাগুলিকে প্রতিহত করেই এগোতে চায় ‘গ্যাংস্টার সাম্রাজ্যবাদ’। আমেরিকা-ইজরায়েল অক্ষ শক্তির ইরান- আগ্রাসন আন্তর্জাতিক আইন, রাষ্ট্রসঙ্ঘের সনদ এবং রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার মৌলিক নীতিগুলি স্পষ্টতই লঙ্ঘন করেছে। পশ্চিম এশিয়ার লক্ষ লক্ষ মানুষকে চরম পরিস্থিতির মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে। পশ্চিম এশিয়ায় পূর্ণ মাত্রার একটি আঞ্চলিক যুদ্ধ এখন সম্ভবত সময়ের অপেক্ষা।
ইরানে বর্তমান শাসক গোষ্ঠীর স্বৈরাচার ও জনবিরোধী চরিত্র সত্ত্বেও মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ যেভাবে সেদেশের সার্বভৌমত্বকে লঙ্ঘন করে উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক পদাধিকারীদের হত্যার পরিকল্পনা কার্যকর করছে বিশ্ব কূটনীতিতে তার পূর্ব নজির বিরল। শুধু প্রশাসনিক পদাধিকারীদের নয়, অসামরিক এলাকায় বাচ্চাদের স্কুলগুলিকেও পাশবিক কায়দায় টার্গেট করা হচ্ছে। গাজার ধাঁচে ইরানেও শিশুদের উপর বোমা বর্ষণ আমেরিকার-ইজরায়েল হামলা বাহিনীর অন্যতম কৌশল।
তবে এখনও পর্যন্ত যা অবস্থা তাতে ইরানে পরিস্থিতি আমেরিকা-ইজরায়েল অক্ষশক্তির নীল নকশা মতো এগোচ্ছে বলে মনে হয় না। ‘শীর্ষ’ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেইনির হত্যা সত্ত্বেও প্রতিরোধ ও পালটা আক্রমণে ইরান এখনও পর্যন্ত বেশ আক্রমণাত্মক। ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ নিয়ে নিজের দেশেই প্রশ্নের মুখে ট্রাম্প সরকার। যুদ্ধের খরচ এবং যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে মার্কিন সংসদের ভিতরে বাইরে জোরালো প্রশ্ন উঠছে। ইরাক এবং আফগানিস্তানে আমেরিকার অভিজ্ঞতা তেমন ভালো ছিল না।
কিন্তু, এরকম পরিস্থিতির মধ্যেও রাষ্ট্রসঙ্ঘের ভূমিকা নিষ্ক্রিয়ই বলা যায়। গাজা ও ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রে যেমন বিবৃতি দেওয়া ছাড়া তারা কিছুই করেনি, তেমনভাবেই ইরান যখন জ্বলছে তখন রাষ্ট্রসঙ্ঘ রয়েছে কার্যত শীতঘুমে। আমেরিকা ও তার স্যাঙাতরা চায় নিষ্ক্রিয় ও নিশ্চল রাষ্ট্রসঙ্ঘ। তাতে বাড়তি সুবিধা হবে সাম্রাজ্যবাদের আগ্রাসী একাধিপত্য জোরালো করতে এবং বিশ্বরাজনীতিতে বহুপাক্ষিক প্রবণতাগুলিকে দমন করতে। উন্নয়নশীল দেশগুলির যৌথ দরকষাকষির যেটুকু ভূমিকা এই তথাকথিত ‘সমাজতন্ত্র-উত্তর’ পর্বে অবশিষ্ঠ রয়েছে সেটুকুকেও এই সুযোগে নির্বাপিত করতে চায় সাম্রাজ্যবাদ।
ট্রাম্পের দাবি, আমেরিকা এবং আমেরিকাবাসীদের স্বার্থের কথা ভেবেই নাকি তাঁর এত কর্ম— ‘আমেরিকান ফার্স্ট’। দেশের বড় অংশের মানুষ যে এই অপযুক্তি বিশ্বাস করছেন না তা স্পষ্ট। বর্তমান পরিস্থিতিতে মার্কিনী নাগরিকদের রাজনৈতিক সক্রিয়তা কীভাবে সংহত হয় তার উপর বিশ্ববাসীর নজর থাকবে।
মনে রাখতে হবে, ট্রাম্প ইতিমধ্যেই রাশিয়া ও আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাকেও শেষ হতে দিয়েছেন। ‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা সীমিতকরণের ব্যাপারে দুই দেশের মধ্যে যে সহযোগিতার ব্যবস্থা ছিল, সেটাও ভেঙে গেছে।
বর্তমান অবস্থায় বিশেষভাবে নজরে পড়ছে বর্তমান ভারত সরকারের ভূমিকা। হামাস ইজরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়লো কি না ছুঁড়লো মোদী সরকার তৎক্ষণাৎ লম্বা বিবৃতি দিয়ে ইজরায়েলের পক্ষে সোচ্চার হয়ে উঠে। এখন এতদিন হয়ে গেল মোদী সরকার মৃদুভাষাতেও ইরানে মার্কিনী-ইজরায়েলী আগ্রাসনের নিন্দা করতে পারলো না। এমনকি ইরানের ‘শীর্ষ’ নেতা খামেইনির হত্যাকাণ্ডেরও নিন্দা করতে পারেনি ভারত সরকার। অথচ ইরানের সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্কের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। ইরানে বর্তমান আগ্রাসনের নিন্দা করতে হবে ভারতকে।
পশ্চিম এশিয়ায় এই যুদ্ধ যেভাবে মার্কিনী-ইজরায়েলী অক্ষ জোট চাপিয়ে দিয়েছে তাতে শুধু পরোক্ষ নয়, প্রত্যক্ষভাবেও ভারতের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত। বহু ভারতীয় কাজ করেন পশ্চিম এশিয়ার নানা দেশে। যুদ্ধ দীর্ঘতর তাদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এভাবে চললে তেলের দামও কোথায় উঠবে বলা শক্তি। ভারত কোন দেশের কাছ থেকে তেল কিনবে সেই নির্দেশ এখন আমেরিকা দেয়। হুমকির মুখে আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি সই করেছে মোদী প্রশাসন। জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সমঝোতা করা হয়েছে এই চুক্তিতে—বিরোধীদের অভিযোগ। চুক্তির সব বিষয়ও খোলসা করে সরকার বলছে না। পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কী হবে তা নিয়ে ট্রাম্প সাহেব নির্দেশ দিচ্ছে ভারতকে। ভারত তারও নিন্দা করতে পারছে না যথাযথ ভাষায়।
পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার পুতুল ইজরায়েলের ইহুদীবাদী সরকারের সঙ্গে কীসের এত মাখামাখি মোদী সরকারের? ইরানে হামলার ঠিক আগেই ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ইজরায়েল সফরের ব্যবস্থা হয়। মিডিয়ার খবর অনুযায়ী, ২৭ ও ২৮ ফেব্রুয়ারি (২০২৬) দুই দিনের সফরে অর্থনীতি, প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে দু’দেশের সরকার।
এমন এক সময়ে এই সফর আয়োজিত হয় যখনযুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইজরায়েল প্রতিদিন গাজায় হামলা চালাচ্ছে, যাতে প্রাণ হারাচ্ছেন অসংখ্য প্যালেস্তিনীয় নাগরিক। এই সফরকে নেতানেয়াহুর সরকার আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তাদের বৈধতা আদায়ের কাজে ব্যবহার করছে।
মিডিয়ার খবর, ইজরায়েলে ভাষণ দিতে গিয়ে ইজরায়েলের সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী (!) লড়াইয়ের প্রশংসা করেছেন মোদী। ইজরায়েল কবে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করল? নিরীহ আরব জনতার উপর নির্বিচার সন্ত্রাস এবং হত্যাভিযানই তো ইজরায়েলের ইতিহাস। ইজরায়েল সফরে প্যালেস্তাইনের গাজায় ইজরায়েলের দখলদার বাহিনীর আগ্রাসনের প্রসঙ্গে একটি শব্দ ভারতের প্রধানমন্ত্রী খরচ করেননি। প্যালেস্তিনীয় জনগণের প্রতি ভারত সরকারের কি কোনও দায়বদ্ধতা নেই?
তথাকথিত ‘ইহুদীবাদ’ এযুগের বর্ণবিদ্বেষবাদ। রাষ্ট্রসঙ্ঘকে নস্যাৎ করা ইজরায়েলের উগ্র দক্ষিণপন্থী সরকারের মুখোমুখি অন্তত কিছু সত্য কথা বলার সাহস ভারতের মতো দেশের যদি না থাকে তাহলে তা বড় দুর্ভাগ্যজনক।
আমেরিকা ও তার রাজনৈতিক-পুতুল ইজরায়েলের সঙ্গে স্ট্র্যাটেজিক সম্পর্ক ভারতের বিদেশ নীতির সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। ন্যায্য কথা বলতে পারছে না ভারত সরকার? অতীতে ভারতের কোনও সরকার পশ্চিম এশিয়া প্রশ্নে এভাবে লজ্জাজনক নীরবতা পালন করেনি।
এ অবস্থায় ভারতীয় জনগণকে দাঁড়াতে হবে স্বাধীন বিদেশ নীতির প্রশ্নে। সাম্রাজ্যবাদবিরোধী শক্তিশালী ও ব্যাপকতর শান্তি ও সংহতি আন্দোলনের দায়িত্ব এখন অপরিসীম।
Comments :0