Panipat IOCL Workers

হরিয়ানায় ইন্ডিয়ান অয়েল কারখানায় শ্রমিকদের সাহসী লড়াই, সঙ্গে সিআইটিইউ

জাতীয়

পানিপতে ইন্ডিয়ান অয়েলের ঠিকা শ্রমিকদের লড়াইয়ে সিআইটিইউ।

রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা ইন্ডিয়ান অয়েলের শ্রমিক আন্দোলনকে পূর্ণ সমর্থন জানালো সিআইটইইউ। কাজের সময়, কাজের জায়গায় পানীয় জল, শৌচাগারের মতো ন্যূনতম অধিকারের দাবিতে লড়াইয়ে রয়েছেন চুক্তি শ্রমিকরা।
বৃহস্পতিবার সিআইটিইউ সাধারণ সম্পাদক এলামরাম করিম বলেছেন, ‘‘১২ ফেব্রুয়ারি দেশজুড়ে শ্রমিক-কৃষকরা ধর্মঘটে নেমেছিলেন শ্রম কোড চালু করার বিরুদ্ধে। শ্রমিকদের ন্যূনতম অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। ইন্ডিয়ান অয়েলের লড়াই তারই প্রমাণ। যে সাহসী লড়াই চালাচ্ছেন চুক্তি শ্রমিকরা, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে তার পাশে থাকবে সিআইটিইউ। ‘‘
এদিকে পানিপত শহরের ডিএসপি রাজবীর সিং সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন যে ঠিকাদাররা শ্রমিকদের নয়টি দাবি মানতে রাজি হয়েছে। লিখিত সম্মতি দিতেও রাজি হয়েছে ঠিকাদাররা। তবে শ্রমিকরা চাইছেন ইন্ডিয়ান অয়েল কর্তৃপক্ষের লিখিত সম্মতি। সে বিষয়ে কথা চলছে।
উল্লেখ্য, শ্রমিকরা লড়াইয়ে নেমে জানিয়েছেন মাসের নিয়মিত বেতন দেওয়া হয় না তাঁদের। এই শ্রমিকদের বড় অংশ নির্মাণ ক্ষেত্রে যুক্ত। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয় যাঁদের। 
সিআইটিইউ হরিয়ানা রাজ্য সম্পাদক জয় ভগবান বলছেন, ‘‘কয়েক মাস ধরেই বেতন বন্ধ ছিল। জমা পড়েনি প্রভিডেন্ট ফান্ড বা অন্য খাতের টাকা। শ্রমিকদের বারো ঘন্টা কাজ করিয়ে আট ঘন্টার বেতন দেওয়া হয়। ফলে বিক্ষোভ ছিল দীর্ঘদিন। কিন্তু সংগঠিত ইউনিয়ন না থাকার কারণে সংঘবদ্ধ আন্দোলন হচ্ছিল না। সিআইটিইউ আন্দোলনকে সংঘবদ্ধ করে। শ্রমিকদের নিয়ে সেই আন্দোলন চলে। কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয় আলোচনায় বসতে।’’


এই শ্রমিক নেতা জানিয়েছেন যে আলোচনায় বসে বকেয়া বেতন, ওভারটাইমের টাকা এবং সমকাজে সমবেতনের দাবি মেনে নিতে সম্মত হয়েছে কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্ট এলাকায় বেতন কাঠামো ঠিক করার পদ্ধতিতেই গলদ আছে। শ্রমিকদের  প্রতিশ্রুত বেতনও দেওয়া হচ্ছে না। সেই বিষয়েও চলছে আলোচনা।’’    
গত কয়েকদিন বারবার পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে শ্রমিকদের। লাঠির আঘাত সত্ত্বেও দমানো যায়নি আন্দোলনকে। শ্রমিকদের এই সাহসী ভূমিকাকে সেলাম জানিয়ে করিম বলেছেন, ‘‘এই সংগ্রাম আবারও ভারতের সংগ্রামী শ্রেণী আন্দোলনে অস্থায়ী শ্রমিকদের ভূমিকা প্রতিষ্ঠা করেছে। সারা দেশে শ্রমিক শ্রেণির সংকল্প এবং আশা পুনরুজ্জীবিত করেছে।’’ তিনি বলেন, ‘‘এই ‘পানিপথের যুদ্ধ‘ এমন এক সময়ে এসেছে যখন মোদী সরকার ১ এপ্রিল, ২০২৬ থেকে শ্রমকোড বাস্তবায়নের জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।‘‘ 
সিআইটিইউ বলেছে, ‘‘কেন্দ্রের শ্রমকোড নব্য-দাসত্বকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছে। তার বিরুদ্ধেই পানিপতে ইন্ডিয়ান অয়েলের শ্রমিকরা একটি দৃঢ় এবং জঙ্গি আন্দোলন শুরু করেছেন।
অসুরক্ষিত পরিবেশের কারণে শ্রমিকদের মর্মান্তিক মৃত্যু বোঝাচ্ছে যে দেশের অন্যতম বড় রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার কারখানায় অমানবিক চুক্তিভিত্তিক শ্রম ব্যবস্থা চালু রয়েছে। 
জয় ভগবান বলেছেন, ‘‘এই পরিশোধনাগারে সংগঠিত ট্রেড ইউনিয়ন নেই। ইউনিয়ন গড়ার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।’’

Comments :0

Login to leave a comment