পঞ্চায়েত দপ্তরে কর্মী সংকট মেটাতে কর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উত্তরের জেলা গুলির সমস্যা সমাধানের জন্য পাহাড় থেকে সমতলের আধিকারিকদের নিয়ে শুক্রবার প্রশাসনিক বৈঠকে যোগদান করে এমনটাই জানালেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। শিলিগুড়িতে মৈনাক ট্যুরিস্ট লজে উত্তরবঙ্গের মধ্যে দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ার জেলার পঞ্চায়েত দপ্তর ও প্রশাসনের আধিকারিকের সঙ্গে বৈঠক সারেন তিনি।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা একের পর এক পদত্যাগ করার কারণে উন্নয়নের কাজ থমকে যাচ্ছে। এই সমস্যা সমাধানের পথ পথ খুঁজে বের করতে হবে। বৈঠকে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কিস্তিতে কিস্তিতে ২০২৩ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত বকেয়া টাকা ও পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকা আসছে। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী দিল্লিতে সফর করেছেন। সরকার টাকা পাঠাতে শুরু করেছে। কেন্দ্র আরও ১,৭০০ কোটি টাকা দিয়েছে। এই টাকার মধ্যে ৭০০ কোটি টাকা একশো দিনের কাজ ও জিরামজি খাতে ব্যবহার হবে। ২কোটি ৫৬ লক্ষ লোক নারেগা ও জিরামজি থেকে লাভ পাবেন। এরমধ্যে ৩০ থেকে ৪০ লক্ষ মানুষ যারা এখানকার নাগরিকই নন। তাদের আধার কার্ড ও লিঙ্ক যাচাই করা হচ্ছে। এই সমস্ত মানুষদের নামের পরিবর্তে নতুন নাম ঢুকবে। আবাস যোজনা, স্বচ্ছ ভারত অভিযান ও সড়ক যোজনার কাজও খুব তাড়াতাড়ি শুরু হবে।
তিনি বলেন, চা বাগানে আবাস যোজনায় ঘর দেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা আছে। ঘর দেবো বলেছিলাম কিন্তু পাট্টা নেই তাদের নামে। পাট্টা দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা চলছে। পাহাড়ে জিটিএ র কাজ একেবারেই ঢিলেঢালা ভাবে হচ্ছে। পাহাড়ে পরিকাঠামো না থাকায় পাহাড়ের মানুষ সমস্যা থেকে বেরোতে পারছেন না। পাহাড়ের উন্নয়নের জন্য উপযুক্ত পরিকাঠামো তৈরি করা হবে। এরপরই পরিষেবা দেওয়া সম্ভব। তবে বিভিন্ন জায়গায় কর্মী সংকট রয়েছে। এমন ব্লক রয়েছে যেখানে একজনও ইঞ্জিনিয়ার নেই। একে তো অফিসার, ইঞ্জিনিয়ার কম, অন্যদিকে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা, প্রধানরা পদত্যাগ করে পালিয়ে যাচ্ছে। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আসলে কাজ করলেই তাহলে মানুষ পরিসেবা পাবে। এরপরেও যদি নির্বাচিত প্রতিনিধিরা না আসেন, তাহলে তাদের বাদ দিয়েই উন্নয়নের কাজ করা হবে।
১০০ দিনের কাজের প্রসঙ্গে পঞ্চায়েত মন্ত্রী বলেছেন, জব কার্ডধারী অনেক ভুয়ো লোক ঢুকে রয়েছে। এই অবস্থায় জব কার্ড গুলোকে পুনরায় যাচাই করা হবে। ২৫ থেকে ৩০ লক্ষ সুবিধাভোগী এর মধ্যে আছেন। জানা গেছে, এদিনের বৈঠকে দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলার দ্বিস্তরীয় পঞ্চায়েত ব্যবস্থার পরিবর্তে ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত ব্যবস্থা লাঘু করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। প্রশাসনিক আধিকারিক ছাড়াও এদিনের বৈঠকে দার্জিলিংয়ের বিধায়ক নোমান রাই ও কার্শিয়াংয়ের বিধায়ক সোনম লামা উপস্থিত ছিলেন।
Dilip Ghosh
পঞ্চায়েত দপ্তরে ঢালাও কর্মী নিয়োগ, ঘোষণা দিলীপ ঘোষের
×
Comments :0