সোনা দানা , জমি বা সম্পত্তি বন্ধক দেওয়ার ঘটনার কথা আমরা জানি। পুরুলিয়ার ঝালদা দু নম্বর ব্লকের উকমা গ্রামে সামান্য কিছু টাকার বিনিময়ে রেশন কার্ড হাতিয়ে রেখে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে হত দরিদ্র পরিবারের সরকারি প্রাপ্য রেশন আত্মসাৎ করার ঘটনা চলছিলো। পুরুলিয়ার প্রান্তিক এই গ্রামে বেশ কয়েকটি তফসিলি সম্প্রদায় পরিবার গুলিকে এই ভাবেই শোষণ চালিয়ে আসছিলো গ্রামের প্রভাবশালি মহাজনরা। ১৫টি কালিন্দী পরিবার রয়েছে রয়েছে এই গ্রামের এক প্রান্তে। তাদের পেশা বাঁশের তৈরি করা জিনিসপত্র বিক্রি করা। অভাবের তাড়নায় প্রায় পাঁচ বছর আগে গ্রামেরই সুসেন মাহাতো, মুরলী মাহাতো, চন্ডী মাহাতোর মতো বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী মহাজন কাছ থেকে তারা টাকা ধার নিতে বাধ্য হয়েছিলেন। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে গ্রামের ওই হতদরিদ্র পরিবারগুলির অন্তর্দয় অন্ন যোজনার রেশন কার্ড নিয়ে নেওয়া হয়েছিল। কালিন্দী পরিবার গুলির অভিযোগ, তাদের জন্য বরাদ্দ সরকারি রেশন প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিলারের কাছে পৌঁছালেও রেশনের সেই চাল, চিনি ও অন্যান্য সামগ্রী সুকৌশলে আত্মসাৎ করে আসছিল গ্রামের ওই প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বরা। বিষয়টি জানাজানি হতেই গ্রামে গিয়ে দেখা যায় হতদরিদ্র পরিবারগুলির জীবন জীবিকার সেই করুণ চিত্র। ঘটনা জানাজানি হতেই গ্রামে পুলিশ পৌঁছায়। বেশ কয়েকটি বন্ধক থাকা রেশন কার্ড উদ্ধার করে প্রাপকদের ফিরিয়ে দিলেও এখনও পর্যন্ত অধিকাংশ সরকারি রেশন কার্ড উদ্ধার সম্ভব হয়নি। পুলিশের বক্তব্য খুব দ্রুতই সমস্ত উপভোক্তার হাতে কার্ডগুলি তুলে দেওয়া হবে।
কেউ স্বামীর মৃত্যুর পর টাকা ধার নিয়েছিলেন, কেউ আবার স্বামীর চিকিৎসার জন্য টাকা নিয়ে ছিলেন। সেই দেনার দায়ে পাঁচ বছর ধরে প্রাপ্য রেশন থেকে বঞ্চিত থাকলো এই তফসিলি পরিবারগুলি। ভাদু কালিন্দী নামে এক মহিলার বক্তব্য তিনি ৬টি রেশন কার্ড সুসেন মাহাতো কে দিয়েছিলেন। তাকে ছয় হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল। কার্ডগুলো সুসেন মাহাতোর কাছেই থাকতো। প্রত্যেক মাসে যখন রেশন দেওয়া হতো তখন তাকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হতো। তিনি হাতের ছাপ দিতেন আর রেশন তুলে নিতেন সুষেন মাহাতো। কোন মাসে এক কেজি, কোন মাসে দু কেজি চাল দিয়ে তাদেরকে চলে যেতে বলা হত। চাপের মুখে সুসেন মাহাতো সমস্ত স্বীকার করে নেন। প্রথমে অবশ্য তিনি মানতে চাননি। তিনি বলেন ওদের ঘরে রাখার মত জায়গা নাই তাই তাকে রাখতে দিয়েছেন। কিন্তু পরে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে বাধ্য হন ঘটনার কথা স্বীকার করতে এবং এই কার্ডগুলি থেকে ৩০ কেজি চাল প্রত্যেক মাসে তিনি পেতেন বলে জানিয়েছেন। প্রশ্ন উঠছে বছরের পর বছর ধরে কি ভাবে হস্তান্তর যোগ্য নয় এমন সরকারি কার্ড নিজেদের হেফাজতে রাখতে পারে? প্রশাসন কেন জানতে পারলো না? কি ভাবে বছরের পর বছর এই বেআইনি কাজ চলে আসছে? বছরের পর ধরে পূর্বতম সরকার উন্নয়নের দাবী করলেও কেন বছরের পর বছর ধরে চলা এই বেআইনি কাজ চোখে পড়লো না? নাকি তাদের মদতেই এই বেআইনি কাজ চলছিল?
Purulia Ration card
রেশন কার্ড বন্ধক রেখে খাদ্যসামগ্রী সুকৌশলে আত্মসাৎ পুরুলিয়ার গ্রামে
×
Comments :0