Editorial

কৌশলে পকেট কাটা

সম্পাদকীয় বিভাগ

আশঙ্কা ছিলই। অবশ্য সঙ্গে‍‌ ছিল আশ্বাসও। কিন্তু সপ্তাহ ঘুরতে না ঘুরতেই যারা আশ্বাস দিয়েছিল তারাই তাদের আশ্বাসকে জুমলা প্রমাণ করে এক ধাক্কায় রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার প্রতি ৬০ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে। বাণিজ্যিক বড় সিলিন্ডারের দাম বাডিয়েছে ১১৪ টাকা। ছোট সিলিন্ডার ব্যবহার হয় বাড়িতে রান্নার কাজে। দেশের সিংহভাগ পরিবার দৈনন্দিন পারিবারিক রান্নার কাজে এই সিলিন্ডার ব্যবহার করে। স্মরণ করা যেতে পারে গত এপ্রিলে এই সিলিন্ডারের দাম বাড়ানো হয়েছিল ৫০ টাকা। অর্থাৎ গত এক বছরে পারিবারিক রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার প্রতি দাম বেড়েছে ১১০ টাকা। ছোটখাট চা দোকান থেকে শুরু করে যাবতীয় হোটেল-রেস্তোরাঁয় রান্না হয় বাণিজ্যিক সিলিন্ডারে। তার দাম এক সপ্তাহের মধ্যে দু’দফায় বেড়েছে ১৪৫ টাকা। এইসব লক্ষ লক্ষ দোকানে চা-টিফিন খাবার যারা খান তারা কেউই কোটিপতি বা বড়লোক নন। সাধারণ মানুষই তাদের খদ্দের। ফলে বড় সিলিন্ডারের দাম বাড়লে সেই বাড়তি টাকা দোকানদার খাবারের দাম বাড়িয়ে বা মান কমিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকেই তুলবেন। ফলে গ্যাসের, তা সে বড় সিলিন্ডার বা ছোট সিলিন্ডার হোক, বর্ধিত দামের বোঝা সাধারণ মানুষকেই বইতে হবে।
অতীতে যখনই রান্নার গ্যাস এবং ডিজেল-পেট্রোলের দাম বাড়ানো হয়েছে সরকারের তরফে একটা যুক্তিই বারবার হাজির করা হয়েছে যে বিশ্ব বাজারে তেল-গ্যাস-প্রাকৃতিক জ্বালানির দাম বাড়ছে। তাই তেল সংস্থাগুলির লোকসান কমাতে সরকার তেল-গ্যাসের দাম বৃদ্ধির অনুমোদন দিতে বাধ্য হয়েছে। এবার কিন্তু গ্যাসের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে সরকারের তরফে তেমন কোনও ব্যাখ্যা বা অজুহাত খাড়া করা হয়নি। দাম বৃদ্ধির ঘোষণা করেছে তেল সংস্থাগুলি। যেন সরকার এব্যাপারে কিছুই জানে না। অথচ বারো ঘণ্টা আগেও সরকারের পক্ষ থেকে দেশের জনগণকে আশ্বস্ত করে বলা হয়েছিল পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের ঘনঘটায় জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত বা বিপর্যস্ত হবার আশঙ্কা থাকলেও এখনই উদ্বেগের কোনও কারণ নেই। দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে তেল-গ্যাস মজুত আছে।
সকালে মোদী সরকার জনগণকে নিশ্চিন্তে থাকার পরামর্শ দিয়ে রাতেই তেল সংস্থাগুলিকে দিয়ে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ঘোষণা করে দেয়। মানুষকে দাস না ভাবলে এমন ঔদ্ধত্য কোনও সরকার দেখাতে পারে না। আপাতত রান্নার গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে। যে কোনও সময় ডিজেল, পেট্রোল, সিএনজি সহ অন্যান্য পেট্রোপণ্যের দাম বাড়ালে আশ্চর্য হবার কিছু থাকবে না।
আরও আশ্চর্যের বিষয়, এবার কিন্তু বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি কোন অজুহাত হাজির করা হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা-ইজরায়েল যৌথভাবে ইরানে সামরিক হামলা শুরুর পর থেকে বিশ্ব বাজারে তেলের মূল্য ঊর্ধ্বমুখী সন্দেহ নেই। দেশে এখন যে গ্যাস বিক্রি হচ্ছে তা বর্তমান বর্ধিত দামে কেনা নয়। পুরানো দামে কেনা গ্যাস সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী অন্তত ২৫দিন চলে যাবে। বিশ্ব বাজার থেকে বর্ধিত দামে গ্যাস কিনে সেগুলি মানুষের ঘরে পৌঁছাতে এপ্রিল মাস এসে যাবে। দাম যদি একান্তই বাড়াতে হয় তখন বাড়ানো যেত। তেমনি যে হারে বিশ্ব বাজারে দাম বাড়বে সেই অনুপাতে সিলিন্ডারের দাম বাড়বে। আগে ভাগে এক ধাক্কায় ৬০ টাকা বাড়ানোর কোনও যুক্তি, সঙ্গত কারণ থাকতে পারে না। যুদ্ধের বাজারে মানুষের মাথায় ঘোল ঢেলে বাড়তি মুনাফার শয়তানি অসৎ ব্যবসায়ীরা যেমন করে থাকে মোদী সরকারও একই কায়দায় মানুষের পকেট কাটার ব্যবস্থা করেছে।

Comments :0

Login to leave a comment