নিয়ন্ত্রণই নেই অ্যাপ-ক্যাবের ভাড়ায়। নিম্নতম বা ঊর্ধ্বতম, নিজের ইচ্ছায় ঠিক করছে অ্যাপ-ক্যাব প্ল্যাটফর্ম। নিম্নতম ভাড়া এমন যে গাঠি চালানোর খরচ তোলা দায় হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ভাড়ায় নির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণ রাখার দাবি জানিয়ে রাস্তায় নামলেন অ্যাপ-ক্যাব চালকরা। সোমবার মৌলালি মোড়ের সামনে বিক্ষোভ দেখান সিআইটিইউ পরিচালিত অ্যাপ-ক্যাব চালক ইউনিয়ন।
পাশাপাশি, এদিন মৌলালি থেকে এন্টালি পর্যন্ত অ্যাপ ক্যাব নিয়ে সারিবদ্ধভাবে জমায়েতও করেন তারা। দুপুর ১ টা থেকে প্রায় ২টো অবধি শিয়ালদহ থেকে রিপন স্ট্রিট পর্যন্ত যান চলাচল কার্যত স্থগিত হয়ে যায়।
অ্যাপ ক্যাব চালকরা বলছেন, অ্যাপগুলিতে সবচেয়ে বেশি এবং সবচেয়ে কম কত ভাড়া হতে পারে তা ধার্য করা নেই। যে ভাড়া অ্যাপগুলিতে দেখানো হয় তার বেশিরভাগটাই যায় অ্যাপ নির্মাতা সংস্থার কাছে। চালকরা বলছেন, যে টাকা তাঁরা পাচ্ছেন তাতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে। অনেকেই ইএমআই-তে গাড়ি কিনছেন, তার কিস্তিও দিতে হয়।
চালকরা বলছেন, রাস্তায় গড়ি নামানোর জন্য সরকারকে আগে যে পরিমান ট্যাক্স দিতে হতো এখন তা বেড়েছে। পাশাপাশি বেড়েছে পেট্রোল, ডিজেলের দাম। বহুবার মালিক পক্ষের সঙ্গে কথা বলে এমনকি লিখিত বক্তব্য দিয়েও সমস্যার সমাধান মেলেনি। তাঁদের সঙ্গে আলোচনায় বসতেও সম্মত নয় মালিকপক্ষ।
সিআইটিইউ নেতৃবৃন্দ জানাচ্ছেন যে এমনকি পরিবহণ দপ্তরের কাছে সমস্যার কথা জানালে প্রশাসনের তরফেও এগিয়ে দেওয়া হয়নি সাহায্যের হাত। তার জেরেই এদিন রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানাতে বাধ্য হন এই অ্যাপ-ক্যাব চালকর।
এক বিক্ষোভকারী অ্যাপক্যাব চালক বলেন, "আমরা যে ভাড়াতে গাড়ি চালাই তাতে সংসার খরচই চলে না ঠিকভাবে। জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে, তেলের দাম বাড়লেও আমাদের আয় বাড়েনি। এই যে আমরা এখানে বিক্ষোভ দেখাচ্ছি তাতেও আমাদেরই ক্ষতি হচ্ছে। আমাদেরও তো পেট আছে, কিন্তু আমাদের কথা শোনার কেউ নেই। তাই রাস্তায় নেমেই প্রতিবাদ জানাচ্ছি। যতক্ষণ না প্রশাসন আমাদের জন্য কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছেন ততক্ষণ আমরা রাস্তাতেই থাকব। মুখ্যমন্ত্রী রাস্তা আটকে বসলে অসুবিধা হয় না, আর আমরা আমাদের দাবি জানানোর জায়গা না পেয়ে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানালে আমাদের পুলিশ সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। প্রশাসনের কাছে চিঠি দিলে জবাব মেলে না। আমরা কোথায় যাবো।"
আরেক চালক জানিয়েছেন যে এখন একটি অ্যাপের ভরসায় থাকলে চলছে না। একাধিক অ্যাপে লগইন করতে হয়। তার জন্য চব্বিশ ঘন্টার ‘প্ল্যাটফর্ম চার্জ’ চালু হয়েছে। সেই বাদ কয়েকশো টাকা বেরিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলছেন, সরকারি স্তর থেকে ন্যূনতম ভাড়া বেঁধে দেওয়া হোক। তেমনি সর্বোচ্চ ভাড়াও বেঁধে দেওয়া হোক। অ্যাপ ক্যাব পরিষেবাদাতা সংস্থার মর্জিতে যাত্রী বা চালকদের চলতে হবে কেন?
Comments :0