SIR Deaths In Bengal

তালিকায় নাম বাদ, ‘বিচারাধীন’ আতঙ্ক! রাজ্যে আত্মঘাতী দুই

রাজ্য জেলা

কান্নায় ভেঙে পড়ছেন বিক্রম সিংহের পরিবারের সদস্যরা।

রাজ্যে চলমান এসআইআর প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত তালিকায় ৬০ লক্ষের বেশি ভোটারের নাম বিবেচনাধীন এছাড়াও প্রক্রিয়া চলাকালীন ৫ লক্ষের বেশি নাম বাদ পড়েছে। যুক্তিগ্রাহ্য অসঙ্গতির নামে শুনানিতে ডেকে হেনস্তা এবং নাম অনিশ্চিত রাখার প্রক্রিয়ার বিরোধিতা গোড়া থেকেই করেছে সিপিআই(এম) সহ বামপন্থীরা। গত ৪ ও ৫ মার্চ সিইও দপ্তরের সামনে বামফ্রন্ট সহ বামপন্থী দলগুলি টানা বিক্ষোভ দেখায়। সোমবার মুখ্য-নির্বাচন কমিশনার সহ নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের কাছে মহম্মদ সেলিমের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল দাবি করেছেন, বিচারিধীনের তালিকায় রাখা হয়েছে তারা যাতে কোন ভাবে কোন সরকারি সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হয় সেই দিকে নজর রাখতে হবে। এর পাশাপাশি যেই বৈঠ ভোটারদের নাম বাদ গিয়েছে তাদের নতুন করে নাম তোলার সুযোগ দিতে হবে। রাজনৈতিক এবং সাম্প্রদায়িক উদ্দেশ্যের কারণে কোন প্রকৃত ভোটারের নাম যাতে বাদ না যায় তা দেখার দায়িত্ব কমিশনের বলেই উল্লেখ করেছে সিপিআই(এম)। এসআইআর’র নামে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চক্রান্তের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে সিপিআই(এম)। এই আবহে  উত্তর ২৪ পরগনার একজন এবং চোপড়া ব্লকে একজনের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। উত্তর দিনাজপুর জেলার চোপড়া ব্লকে ভোটার তালিকায় নিজের নাম ডিলিট তালিকায় দেখতে পেয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে আত্মহত্যা করলেন এক যুবক এমনই অভিযোগ স্থানীয়দের। মৃতের নাম বিক্রম সিংহ। তাঁর বয়স আনুমানিক ৪০ বছর বলে জানা গেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়েছে এবং প্রশাসনিক মহলেও বিষয়টি নিয়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। আতম্মঘাতী হয়েছেন উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের বাদুড়িয়ায় রীনারানি কুণ্ডু। অভিযোগ তালিকায় দুই ছেলের নাম বাদ গিয়েছে। তাঁর নামও রয়েছে বিচারাধীন। সেই আতঙ্কে নিজেকেই আত্মঘটতী হয়েছেন বলে দাবি পরিবারের। 
স্থানীয় সূ্ত্রে জানা গেছে, বাদুড়িয়ার পশ্চিম চণ্ডীপুর গ্রামের বাসিন্দা ৫০ বছর বয়সী রীনারানি কুণ্ডুর নাম ‘বিচারাধীন’ রয়েছে ভোটার তালিকায়। তাঁর দুই ছেলে শুভদীপ কুণ্ডু ও সৌমেন কুণ্ডুর নাম তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে। পরিবারের দাবি দীর্ঘদিনের বাসিন্দা, নথিপত্রও রয়েছে। তারপরেও কিভাবে ‘বিচারাধীন’ এবং এবং তালিকাথেকে বাদ পড়ে গেল নাম। এই ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়।
রবিবার রাতে উত্তর দিনাজপুর জেলার চোপড়া ব্লকের দাসপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের মাফিপাড়া এলাকায় ভোটার তালিকায় নিজের নাম ডিলিট তালিকায় দেখতে পেয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে আত্মহত্যা বিক্রম সিংহ(৪০) নামে এক যুবক। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়েছে এবং প্রশাসনিক মহলেও বিষয়টি নিয়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। 
মৃতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বিক্রম সিংহ নিজের নাম যাচাই করতে গিয়ে দেখতে পান যে তাঁর নাম ভোটার তালিকার ডিলিট তালিকায় চলে গেছে। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি ভীষণভাবে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। পরিবারের সদস্যদের দাবি, ওই ঘটনার পর থেকেই তিনি গভীর চিন্তায় ডুবে ছিলেন এবং বারবার বলছিলেন যে নাগরিক হিসেবে নিজের অধিকার হারানোর মতো পরিস্থিতি তাকে খুব কষ্ট দিচ্ছে। ধীরে ধীরে তিনি হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। পরিবারের অভিযোগ, সেই মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে তিনি বাড়ির অনেকটাই দূরে গিয়ে আত্মহত্যা করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যায়। এই ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়তেই প্রতিবেশীরা ভিড় জমান এবং শোকের আবহ তৈরি হয়। সোমবার ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত হয়।
দাসপাড়া ১১৮ নম্বর বুথের বিএলও মনোজিৎ কুমার সিকদার জানান, মাফিপাড়ার বাসিন্দা বিক্রম সিংহের ভোটার তালিকায় সিরিয়াল নম্বর ছিল ৮৭১। সাম্প্রতিক সংশোধনের সময় তাঁর নাম ডিলিট তালিকায় উঠে এসেছে। তিনি বলেন, ‘‘আমরা শুনেছি তিনি নাকি আত্মহত্যা করেছেন। বিষয়টি ইতিমধ্যেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’’
মৃত বিক্রম সিংহের ভাই কৈলাস সিংহ বলেন, ‘‘আমার দাদা আমাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনশীল ব্যক্তি ছিল। দাদার স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে। এখন পরিবারটি কীভাবে চলবে তা নিয়ে আমরা গভীর চিন্তায় রয়েছি। সরকার যদি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় তাহলে হয়তো পরিবারটি বাঁচতে পারবে।’’ তিনি আরও দাবি করেন, ভোটার তালিকায় নাম বাদ যাওয়ার ঘটনাই তার দাদাকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছে। তাই বিষয়টির দায়ভার নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে ক্ষতিপূরণের দাবি জানান। এদিকে ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও সামনে এসেছে। সিপিআই(এম) নেতা বিদ্যুৎ তরফদার বলেন, ‘‘ভোটার তালিকা নিয়ে এই ধরনের গাফিলতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। একজন সাধারণ মানুষ নিজের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে দেখে এতটাই মানসিক চাপে পড়ে গেলেন যে এমন চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হলেন। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং প্রশাসনের উচিত বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা।’’
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া শুরু হয়েছে। কীভাবে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ল এবং তার ফলে এই মর্মান্তিক পরিস্থিতি তৈরি হল কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে মৃতের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টিও প্রশাসনিক মহলে আলোচনা চলছে।

Comments :0

Login to leave a comment