ভোটাধিকার রক্ষার নামে ধর্ণা। মুখে বলা হচ্ছে শুধু গদি বাঁচানোর লড়াই নয়। কিন্তু এসআইআর বিরোধিতায় কার্যত কোনও দৃঢ় অবস্থান এখনও শোনা গেলো না তৃণমূলের মুখে। মমতা ব্যানার্জি বলেছিলেন এসআইআর করতে দেব না। কিন্তু রাজ্য সরকার সব থেকে বেশি সাহায্য করেছে এসআইআর প্রক্রিয়ায় খোদ একথা বলেছেন সিইও মনোজ আগরওয়াল। বিধানসভায় কোনও আলোচনা করেনি। না এর বিরুদ্ধে প্রস্তাব এনেছেন। ভোটের রাজনীতির বৈতরণী পার করার লক্ষেই ধর্ণা তৃণমূলের।
বৈধ ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার প্রতিবাদে তৃণমূল কংগ্রেস ধর্ণা অবস্থানে বসেছেন শুক্রবার বেলা দুটো থেকে। কলকাতার ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলের সামনে অনির্দিষ্ট কালের জন্য ধর্ণা চলবে বলে জানা গেছে। কিন্তু রাজ্য প্রশাসন এসআইআরের বিরুদ্ধে সরব হয়নি। সিইও দপ্তর কার্যত সব ক্ষেত্রেই রাজ্য সরকারের কর্মচারী ও প্রশাসনের উপর নির্ভর করে এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে। তৃণমূল প্রচার করছে মমতা ব্যানার্জি সুপ্রিম কোর্টে গেছেন। কিন্তু ওই সুপ্রিম কোর্টে এসআইআরের বিরুদ্ধে প্রথম মামলার দায়েরকারী সিপিআই(এম) কর্মী মোস্তারি বানু। শুধু তাই নয় তামিলনাড়ু ও কেরালার সরকার বিধাসভায় আলোচনা করে এসআইআরের বিরোধিতায় প্রস্তাব নিয়ে গ্রহণ করেছে। রাজ্য বিধানসভায় একদিনও আলোচনা হয়নি।
ধর্ণা নিয়ে তৃণমূলের কর্মীদের মধ্যেই রয়েছে চাপা ক্ষোভ। এদিন ধর্ণা চলাকালীন এক তৃণমূল কর্মী অন্য এক কর্মীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, মঞ্চ ভিড় করে আছেন অভিনেতা অভিনেত্রীরা। যাদের জন্য এই ধর্ণা তাঁদের দেখা যাচ্ছে না মঞ্চে। এলাকায় মানুষের কাছে জবাব দিতে হয় আমাদেরই।
১৬ মার্চ পর্যন্ত ধর্মতলায় ধর্ণার অনুমতি রয়েছে তৃণমূলের কাছে। কিন্তু কত দিন এই অবস্থান চলবে তা এখনও নির্দিষ্ট করে বলেনি তারা। ধরনের জন্য কার্যত বন্ধ গোটা ধর্মতলা চত্বর। মেট্রো চ্যানেলের সামনে দুটো লেনের মধ্যে একটি সম্পূর্ণ বন্ধ। সেখানেই মঞ্চ বেঁধে ধর্ণা চলছে। অন্য লেনে একংশে রয়েছে পথচারীদের জন্য যাতায়াতের রাস্তা।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকের জন্য তৃণমূলের তরফে তিন জনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এই দলে রয়েছেন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র ও রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল ইসলাম। এই তিন জনের নাম কমিশনে পাঠানো হয়েছে।
Comments :0