BJP TMC SIR

আতঙ্কের ভোটাধিকার: বিজেপি-তৃণমূলের দাবা খেলা

উত্তর সম্পাদকীয়​

অলকেশ দাস

সম্প্রতি ভারত মহিলা বিশ্বকাপ ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। কিন্তু এই জয়ের মুকুট কতক্ষণ স্থায়ী হবে? ভারতীয় মহিলা দলের অন্যতম কৃতী খেলোয়াড় শিলিগুড়ির রিচা ঘোষ যদি এদেশেরই কেউ না হন তাহলে ভারতীয় হিসাবে তার খেলাটাই তো আইন সম্মত নয়। তাহলে কি শিরোপা কেড়ে নেওয়া হবে? এর উত্তর দিতে পারে ভারতের নির্বাচন কমিশন। কারণ তারাই এসআইআর’র মাধ্যমে এরাজ্যের চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় তার নামের পাশে সন্দেহের চিহ্ন ঝুলিয়ে রেখেছে। মহম্মদ বিন তুঘলককেও হার মানিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। মানুষের কষ্টার্জিত মত প্রদানের অধিকারকে কিনে নেওয়ার জন্য যা কিছু করা দরকার, তা করেছেন। তবে এক্ষেত্রে ভুল এবং  যুক্তিহীনতার সঙ্গে যোগ হয়েছে সুদূরপ্রসারী উদ্দেশ্যপূর্ণ রাজনৈতিক লক্ষ্য। 
বিহারে আরএসএস-বিজেপি নিয়ন্ত্রিত নির্বাচন কমিশনের কাজ ছিল যে কোনও মূল্যে এনডিএ'র মাথায় বিজয় মুকুট পরানো। সেই ভাবেই তারা এসআইআর-কে সাজিয়েছিল। প্রথম দফাতেই ভোটার বাদ ৬৫ লক্ষ। গড়ে প্রতি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিযুক্ত ভোটার ২৬,৭৪৮। এখানেই কেল্লা ফতে। চিহ্নিত নির্দিষ্ট বিধানসভা। চিহ্নিত পরিমাণের ভোটারের বিযোজন। পাশার দান উলটে দিয়ে বিজেপি’র পক্ষে নিয়ে আসার জন্যই  এত কিছুর আয়োজন। এসআইআর মানে পরিকল্পিত নীতি, পরিকল্পিত প্রচার, পরিকল্পিত বিচার। বর্জনমূলক এক পাইলট প্রজেক্ট। যেখানে স্থির কোনও তদন্ত নেই। নেই যাচাইয়ের ব্যবস্থা। বড্ড ব্যস্ততা। বিয়োজনই যেন মূল লক্ষ্য।

৪ নভেম্বর শুরু হয়েছিল এসআইআর প্রক্রিয়া এই বাংলায়।  পূর্বের ভোটার লিস্টে নাম ছিল ৭.৬৬ কোটির। ১৬ ডিসেম্বর প্রকাশিত খসড়া তালিকায়  সেটা দাঁড়ালো ৭.০৮ কোটি। অর্থাৎ ৫৮ লক্ষের ওপর লোকের নাম বাদ পড়ল। এরা নয় মৃত, নয় স্থানান্তরিত, নয় একাধিক বার বিভিন্ন জায়গায় ছিল, না হলে এদের খোঁজ পাওয়া যায়নি। খসড়া ভোটার তালিকার বিশ্লেষণে  দেখা যায় ১৫টি মতুয়া অধ্যুষিত বিধানসভা কেন্দ্রে বাদ পড়া ভোটারদের ৩৩.৯৫ শতাংশ  স্থায়ীভাবে চলে গেছেন এলাকা থেকে। সুতরাং দেখা গেল বিজেপি’র সুকান্ত-শুভেন্দুদের হুঙ্কার সত্ত্বেও রোহিঙ্গা-মুসলমানদের নাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাদ পড়েনি। বরং তুলনামূলকভাবে বাদ পড়েছে মতুয়া সম্প্রদায়ভুক্তদের নাম। সুতরাং প্রথম দফায় সঙ্ঘী-বিজেপি’র বহুল প্রচারিত এক কোটি কুড়ি লক্ষ ভোটার বাদ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা যেমন পূরণ হলো না ঠিক তেমনি পূরণ হলো না রোহিঙ্গা- মুসলমান অনুপ্রবেশকারীদের বিযুক্ত করার সাধ।

আনম্যাপড। এর অর্থ ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় ভোটারের নাম বা ভোটারের বাবা, মার নাম বা তার বাবা, মায়ের বাবা বা মায়ের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় ছিল না অথবা থাকলেও তাদের সঙ্গে ভোটারের  সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা যাচ্ছে না। খসড়া ভোটার তালিকায় প্রকাশ পায় যে রাজ্যে ৩২ লাখ ভোটার আনম্যাপড। আনম্যাপড ভোটার সবচেয়ে বেশি এমন প্রথম ২০টি বিধানসভায় গড় মুসলিম জনসংখ্যা ছিল ১৩.৭৫ শতাংশ, রাজ্যের মুসলিম জনসংখ্যার গড় ২৭ শতাংশের তুলনায় অর্ধেক। সুতরাং  আনম্যাপড ভোটার যেখানে বেশি সেখানে মুসলিমরা কম। বরং মতুয়া অধ্যুষিত এলাকায় এই শতাংশ বেশি। যেমন গাইঘাটা, বাগদা, কল্যাণী, বনগাঁ ইত্যাদি বিধানসভা কেন্দ্রে আনম্যাপড ভোটার সংখ্যা ১১ - ১৫ শতাংশ। যেখানে সবচেয়ে কম আনম্যাপড ভোটার সেইরকম ২০টি বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে মুসলিম জনসংখ্যা গড়ে ৪০ শতাংশ। আবার রাজ্যে গড়ে আনম্যাপড ভোটার  ৩.৯ শতাংশ। কিন্তু মতুয়া প্রধান বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে আনম্যাপড ৭.৮ শতাংশ। সুতরাং আনম্যাপড ভোটারের ক্ষেত্রেও তথাকথিত হিন্দু মতুয়ারা বেশি চিহ্নিত। সংখ্যালঘু মুসলমানরা কম।


এটা পরিষ্কার যে প্রথম দফার খসড়া ভোটার তালিকায় এ রাজ্যের ক্ষমতা দখলের এবং সাম্প্রদায়িক ঘৃণার রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করার  সঙ্ঘী- বিজেপি’র প্রচার, পরিকল্পনা ধাক্কা খেয়েছে। তাকে পূরণ করবার জন্য প্রয়োজন ছিল নতুন পরিকল্পনা। তারই নাম লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি। যুক্তিসঙ্গত অসামঞ্জস্য। ২০০২ এবং ২০২৫ ভোটার তালিকায় নামের বানান, পদবি ভুল, বাবা- মার সঙ্গে ১৫ বছরের কম কিংবা ৫০ বছরের বেশি বয়সের ব্যবধান, পাঁচ এর অধিক সন্তান ইত্যাদিদের চিহ্নিত করা হলো।  মুসলিমদের সম্পর্কে সঙ্ঘী-বিজেপি’রা প্রচার করে অল্প বয়সে বিয়ে, বহু সন্তান, একাধিক বিয়ে বলে। হিন্দুদের যেমন একই পদবি প্রজন্মের পর প্রজন্ম বহন করে মুসলিমদের ক্ষেত্রে তেমন নয় । এইসব ভেবেই সম্ভবত লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির সূচকসমূহ তৈরি হয়। প্রমাণিত হয় যে গোটা প্রজেক্টটা হিন্দুত্বের ধারণার ওপর প্রতিষ্ঠিত।

নির্বাচন কমিশন ২০০২ এর ভোটার তালিকার তথ্য ডিজিটাইজড করে। কিন্তু তথ্যগুলো ছিল বাংলায়। সেগুলোকে ইংরেজিতে অনুবাদ করা হয়। কম্পিউটারের মাধ্যমে। অপরিচিত অ্যালগরিদমের সাহায্যে। তারপর আরেকটি অ্যালগরিদমের সাহায্যে ২০০২ এর তথ্যের সঙ্গে ভোটার বা তাদের আত্মীয়দের সম্পর্কের বিষয়টি যাচাই করে। এই সফটওয়্যা র ১ কোটি ৩১ লক্ষ ভোটারকে সন্দেহজনক হিসাবে চিহ্নিত করে। ইংরেজি থেকে বাংলাতেই বিপত্তি। বাংলাতে পদবির রূপান্তর  Dutta,Datta বা Roy,Ray বা Das,Dash । সঙ্গে সঙ্গে তা হয়ে গেল লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি। সবচেয়ে বেশি হলো সংখ্যালঘুদের ক্ষেত্রে। যেমন Mohammad বা Md। Seikh, Sheikh বা Sk ইত্যাদি। ৩১ লক্ষ ভোটারের নাম প্রকাশিত হলো যাদের ম্যাপিং হয়নি। আর  ১ কোটি ৩৬ লক্ষ ভোটারের নাম 'লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সি' চিহ্নিত করে প্রকাশ করা হলো। কলকাতা পোর্টকেন্দ্রে যেখানে সংখ্যালঘু মুসলিম নির্বাচক আছেন ৫০ শতাংশের উপরে সেখানে তাদের মধ্যে লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সি দাঁড়ালো ৮২ শতাংশ। মেটিয়াবুরুজে সংখ্যালঘু মুসলিম ভোটার ৬০ শতাংশ। এখানে লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সির ৮৭ শতাংশ মুসলিম। বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে সংখ্যালঘু মুসলিম ভোটার ৫০ শতাংশ। লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সিতে পড়েছেন সংখ্যালঘুরা ৪৪ শতাংশ। নদীয়া জেলায় লজিকাল ডিস্ক্রিপেন্সি সবচেয়ে বেশি কালিগঞ্জ, নাকাশিপাড়া এবং পলাশীপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রে। এই বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে সংখ্যালঘু মুসলিম ভোটারের সংখ্যা যথেষ্ট বেশি।  নির্বাচন কমিশন আগে বলেছিল যাদের ম্যাপিং হয়ে যাবে তাদের আর কোনও তথ্য দিতে হবে না। কিন্তু সেই আশ্বাসকে ভুলে গিয়ে এক কোটি ছত্রিশ লক্ষ মানুষকে তারা যন্ত্রণাবিদ্ধ করল।

মুখ্যমন্ত্রী চলে গিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালতে। সওয়াল করতে। রাজ্যে বিএলও-দের সংগঠনকে ব্যবহারের চেষ্টা করেছেন। সরকারি আধিকারিকদের সংগঠনকেও মদত দিচ্ছেন না -এ কথা বলা যায় না। মুখ্যমন্ত্রী কি ভোটারদের স্বার্থরক্ষা করতে আগ্রহী? নাকি ক্ষমতা রক্ষার নাটক? গত বছরের সমীক্ষায় প্রকাশিত রাজ্যের ভোটার তালিকায় এক কোটি চার লক্ষ ভোটার তৃণমূল এবং তার সরকারের অনুপ্রেরণায় বিরাজ করছিল। এরা কেউ মৃত, কারুর বহু জায়গায় নাম, কারোর কোনও অস্তিত্ব নেই। বছরের পর বছর এই নামগুলি থেকে যায়। ভোটের দিন তৃণমূল নিয়ন্ত্রিত বাহুবলী, সাধারণ প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন এদের ভোট  তৃণমূলের পক্ষে  দেওয়ার মেশিনারি তৈরি করে। এটাই তৃণমূলের রাজ্যের সরকারের ক্ষমতায় থেকে যাওয়ার এক্স ফ্যাক্টর। খসড়া ভোটার তালিকায় এই নামের কিছু বিয়োজন অবশ্যই ঘটেছে। কিন্তু আর যে অস্তিত্বহীন ভোটারগুলো রয়ে গেল তাদের রক্ষা করার দায় কেবলমাত্র তৃণমূলের। সুতরাং একদিকে বিজেপি তার ক্ষমতা দখলের লক্ষ্যে সাম্প্রদায়িক উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে যেমন নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে নির্দিষ্ট ভোটারদের বাদ দিতে চাইছে । অন্যদিকে তৃণমূল এর আগে যেভাবে সরকারি প্রশাসনকে লোভ এবং ভয় দেখিয়ে নিজেদের জেতার মতো ভোটার তালিকা তৈরি করেছিল এবারও একই কায়দায় তাদের ব্যবহার করে অচলাবস্থা তৈরি করতে চাইছে।

সর্বোচ্চ আদালত রাজ্য সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের পারস্পরিক আস্থার অভাবের মধ্যে জুডিশিয়ারিকে ভূমিকা গ্রহণের কথা বলেছেন। নির্বাচন কমিশনের এসআইআর পরিচালিত ভোটার তালিকা সম্পূর্ণ করার কাজ অর্পণ করেছেন রাজ্যের বিচার ব্যবস্থাকে। একটা প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে সর্বোচ্চ আদালত এইভাবে এসআইআর পরিচালিত ভোটার তালিকাকে বিধিবদ্ধ করতে চাইছে কি না? পরবর্তীতে এই ভোটার তালিকার বিরুদ্ধে আইনি প্রশ্ন তোলাটা কষ্টসাধ্য হবে কি না? ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকার প্রকাশ হয়েছে। রাজ্যের ৭.০৮ কোটি ভোটারের নাম উঠেছে। এর মধ্যে আছে অনুমোদিত ভোটার, নাম বাদ যাওয়া ভোটার এবং বিবেচনাধীন ভোটার। ৯০ দিনের প্রতিশ্রুতি থাকলেও  নির্বাচন কমিশন ১১৬ দিন লাগালো চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে। তাও সম্পূর্ণ নয়। মোটামুটি ভাবে ৬৩.৬৬ লক্ষর নাম বাদ গেছে্। ৮.৩ শতাংশ। চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় যে ৭.০৮ কোটির নাম আছে তার মধ্যে ৬.৪৪ কোটি সম্পূর্ণভাবে অনুমোদিত। প্রায় ৬০ লক্ষ (৬০,৬০,৪৭৫) ভোটারের এনিউমারেশন ফরমের সঙ্গে যৌক্তিক অসঙ্গতি থাকার জন্য ' আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন' হয়ে রইলো। অর্থাৎ বিবেচনার নামে ঝুলে রইলো। বিবেচনায় যদি ভোটার উত্তীর্ণ হয় তবে তাদের জন্য সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশ হবে। সেই কেন্দ্রের বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী মনোনয়নপত্র পর্বের পূর্বে। আসলে এরা ডাউটফুল ভোটার। ডি ভোটার। আসাম এনআরসি-তে এদেরই একাংশকে ডিটেনশন সেন্টারের অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। মনে রাখতে হবে এই এসআইআর-ও কিন্তু ঘুরপথে এনআরসি।

কিন্তু ' আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন' ভুক্ত ভোটাররা কারা ? কাদের রাখা হলো সন্দেহের তালিকায়? মুর্শিদাবাদ জেলায় নাম বাদ গেছে ১৪,৯৮৫ জনের। কিন্তু আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন বা বিবেচনাধীন ভোটারের সংখ্যা ১১ লক্ষ ২১ হাজার ২০৫। সব মিলিয়ে জেলাগতভাবে এক নম্বরে।
রাজ্যে মুসলিম জনসংখ্যা ৮০ শতাংশের ওপরে এইরকম পাঁচটি বিধানসভা সুজাপুর, সামশেরগঞ্জ, রঘুনাথগঞ্জ, লালগোলা, ভগবানগোলা। সুজাপুরে আনম্যাপড ভোটার ০.৫৮ কিন্তু আন্ডার এডজুডিকেশন ভোটারের শতাংশ ৫২.৪৯। সমসেরগঞ্জ, রঘুনাথগঞ্জ, লালগোলা এবং ভগবানগোলা   বিধানসভা কেন্দ্রে বিবেচনাধীন ভোটার রয়েছে ৪০ শতাংশের ওপরে। মালদা জেলায় বিবেচনাধীন ভোটারের সংখ্যা ৮ লক্ষ ২৮ হাজার ৮০ জন। বেশিরভাগই সংখ্যালঘু। মেটিয়াবুরুজের ৩৪.৬৫ শতাংশ, কলকাতা বন্দরে ১৮.০১ শতাংশ ভোটার বিবেচনাধীন। উত্তর দিনাজপুর জেলায় বিবেচনাধীন ভোটারের সংখ্যা ৪ লক্ষ ৮০ হাজার ২৮০ জন।  
আনম্যাপড-এর তুলনায় আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন ভোটারের শতাংশ বেশি এমন জেলা কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর, মালদা, মুর্শিদাবাদ ,পূর্ব বর্ধমান, বীরভূম। কোচবিহার ব্যতীত অন্য সব জেলাগুলিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যালঘু ভোটার বর্তমান। মুর্শিদাবাদের ১১ লক্ষ এবং মালদায় ৮ লক্ষ-বিবেচনাধীন ভোটার। এই দুই বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলায় রাজ্যের মোট বিবেচনাধীন ভোটারের তিনভাগের একভাগ ।  উত্তর ২৪ পরগনায় ৫.৯ লাখ, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৫.২ লাখ ভোটার আন্ডার এডজুডিকেশন। এই জেলাগুলিতেও সংখ্যালঘু সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। 
এদিকে বিধানসভার হিসাবও পালটে যাচ্ছে। ভোটার সংখ্যার পরিবর্তনের ফলে যে বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে স্বল্প ব্যবধানে প্রার্থীরা জয়ী হয় সেই বিধানসভা কেন্দ্রগুলির ওপর চাপ বাড়বে। বাদ যাওয়া ভোটার, সন্দেহের তালিকায় থাকা ভোটারদের নিয়ে কৃত্রিম দ্বৈরথ তৈরি করে বিজেপি ও তৃণমূল নতুন বাইনারির প্রেক্ষাপট তৈরি করতে চাইছে। এসব যে চোখে ধুলো দেওয়া তার প্রকৃষ্ট প্রমাণ মেনকা গুরুস্বামী। আরএসএস পরিবারের মেয়ে। বাবা বিজেপি’র  স্ট্রাটেজিস্ট। তৃণমূলের রাজ্যসভার প্রার্থী। আরএসএস’র ঘরের মেয়ে দেবী দুর্গা এইভাবে সংকেত পাঠালো। সুতরাং যারা সদ্য বিযুক্ত, যারা বিযুক্ত ,বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কার মধ্যে আছেন, এই মাটিতে যাদের অধিকার রয়েছে তাদের বিজেপি’র উপর রাগ করে তৃণমূলে নরম হওয়ার সুযোগ নেই। টকের জ্বালায় দেশ ছেড়ে তেঁতুলতলায় বাস করে লাভ হয় না। সামনে জোর লড়াই। ষড়যন্ত্র সফল করতে দেওয়া হবে না। লড়াই হবে রাস্তায়, আদালতে, আইনসভায়। যোগ্যদের কাউকে বিযুক্ত করতে দেওয়া হবে না।

একজন যোগ্য ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিতে দেব না। যারা এ কাজ করবে তাদের জীবন যন্ত্রণাময় করে দেওয়ার জন্য রাজনৈতিক লড়াই চলবে। বামপন্থীদের সেই আহ্বানকে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কার্যকরী করতে হবে। নির্বাচন কমিশনকে তার পূর্ব প্রতিশ্রুতি মত  ম্যাপড ভোটারদের এক্ষুনি ভোটার লিস্টে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।  আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন ভুক্ত ভোটারদের বিষয় নিষ্পত্তি করে বৈধ ভোটারদের নাম ভোটার লিস্টে অন্তর্ভুক্ত করে তবেই রাজ্যে ভোটগ্রহণ পর্ব শুরু করতে হবে। রক্ষা করতে হবে মানবাধিকার, বাঁচাতে হবে গণতন্ত্র। এই দাবির মর্ম জনগণের কাছে পৌঁছলে নকল দরদিরা বিচ্ছিন্ন হবে।

Comments :0

Login to leave a comment