মজুরি থেকে ভোটার তালিকা, চা শ্রমিকদের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একাধিক বিষয় নিয়ে চা বাগানে হয়েছে সভা। সোমবার সোমবার জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের করলাভ্যালি চা বাগানে গেট মিটিং করল উত্তরবঙ্গের চা শ্রমিকদের যৌথ মঞ্চ জয়েন্ট ফোরাম। বক্তব্য রেখেছেন সিআইটিইউ রাজ্য সম্পাদক জিয়াউল আলমও।
চা শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ঘোষণার দাবি ধীর্ঘদিনের। নির্ভুল ভোটার তালিকার দাবিও যুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি বসবাসের জমির পাট্টার দাবিও তুলছেন শ্রমিকরা।
সভা শুরুর আগে উত্তরবঙ্গের চা শ্রমিক আন্দোলনের প্রয়াত নেতা মণিকুমার ডার্নাল এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানে নিহত স্কুল পড়ুয়াদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। চা বাগানের হাসপাতাল রক্ষা এবং ইএসআই আইন ও নতুন শ্রম কোডের বিরোধিতাতেও বক্তব্য রাখেন নেতৃবৃন্দ।
প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চা বাগান মজদুর ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও সিআইটিইউ রাজ্য সম্পাদক জিয়াউল আলম। বক্তব্য রাখেন চা শ্রমিক নেতা প্রফুল্ল লাকরা, গোবিন ওরাও, রুবিনা মুন্ডা, সুকুমার কুজুর প্রমুখ। দাবি সহ স্মারকলিপি চা বাগানের ম্যানেজারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
জিয়াউল আলম বলেন, ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ বা যুক্তিগ্রাহ্য অসঙ্গতির নামে বহু সহজ-সরল চা শ্রমিকের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ভোটার তালিকায় নামের বানান বা তথ্যগত ভুলের দায় শ্রমিকদের নয়, সরকারের। তাই কোনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ রেখে নির্বাচন করা চলবে না।
আলম বলেন, ২০১৫ সাল থেকে চা শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ঘোষণার দাবিতে আন্দোলন চলছে। শ্রমিক সংগঠনগুলির হিসাব অনুযায়ী একটি শ্রমিক পরিবারের ন্যূনতম জীবিকা নির্বাহের জন্য দৈনিক অন্তত ৬৬০ টাকা মজুরি প্রয়োজন। এই তথ্য সরকারকে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ১১ বছর পেরিয়ে গেলেও তা কার্যকর হয়নি।
বক্তারা বলেন, পূর্বতন বামফ্রন্ট সরকারের সময়ে চা শ্রমিকদের জন্য রেশন ব্যবস্থা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবা, বাগান হাসপাতাল চালু রাখা, শ্রমিক কল্যাণমূলক বিভিন্ন প্রকল্পের মতো একাধিক সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে সেই পরিকাঠামোর অনেকটাই ভেঙে পড়েছে। শ্রমিকবিরোধী ও লুঠেরা শক্তির বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার আহ্বানও জানানো হয় সভা থেকে। আগামী দিনে এই দাবিগুলি নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনে নামার কর্মসূচির কথাও জানিয়েছে জয়েন্ট ফোরাম।
Jia Ul Alam
মজুরির সঙ্গে দাবি ভোটাধিকারেরও, চা বাগানে সভায় জিয়াউল আলম
জলপাইগুড়ির করলাভ্যালি চা বাগানে গেট সভায় জিয়াউল আলম।
×
Comments :0