৬০ লক্ষের বেশি নাম ‘বিবেচনাধীন‘। নাম বাতিল ৫ লক্ষের বেশি। এমন ভোটার তালিকার প্রতিবাদে সরব আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা। কিন্তু মঙ্গলবার তাঁদের বিক্ষোভে লাঠি চালালো পুলিশ।
পুলিশি জুলুমের এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তিনি বলেছেন, ‘‘শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ প্রদর্শনে গেলে রাজ্যের পুলিশ এদের বিক্ষোভকারীদের গায়ে হাত তোলে। লাঠিচার্জ করে। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচীর উপর এরকম পুলিশি জুলুমের ঘটনার নিন্দা জানাই।’’
এদিকে কলকাতায় ধর্ণা মঞ্চ বেঁধে গত ৬ তারিখ থেকে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। এদিন ধর্ণা যদিও তুলে নিয়েছেন তিনি।
এই প্রসঙ্গের উল্লেখ করে সেলিম বলেন, ‘‘আসলে নিজে নাটকীয় ধর্না মঞ্চ বেঁধে সমস্ত প্রতিবাদ একা করছেন বলে দেখাতে সচেষ্ট মুখ্যমন্ত্রী। তিনি চাননি রাজ্যে আর কেউ প্রতিবাদ-প্রতিরোধ গড়ে তুলুক। তাই এই ন্যাক্কারজনক আক্রমণ।’’
এসআইআর প্রক্রিয়ায় তৈরি ভোটার তালিকায় থেকে নাম বাদ বা বিবেচনাধীনের তালিকায় রয়েছেন আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাও। মঙ্গলবারই নিউ টাউনের একটি হোটেলে সাংবাদিক সম্মেলন করছিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সহ দুই নির্বাচন কমিশনার। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা তাঁর বিরুদ্ধেই বিক্ষোভ দেখাতে গিয়েছিলেন।
সেলিম বলেছেন, ‘‘ আমরা বামপন্থীরাও দু’দিন এক রাত সিইও অফিসের সামনে ধর্ণা দিয়েছি। সেখানেও পুলিশের বাড়তি তৎপরতা উপেক্ষা করেই কমরেডরা সারারাত মাটি কামড়ে পড়েছিলেন। পরেরদিন সিইও দেখা করতে বাধ্য হন। সোমবারও জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে আমরা স্পষ্ট দাবি রেখেছি যে ৬০ লক্ষ মানুষকে বাদ দিয়ে ভোটার তালিকা হতে পারে না। বিচারাধীনদের ফিরিয়ে এনে তারপর ভোট হবে। আর যাঁদের নাম বাদ হয়েছে তাঁদের আবার শুনানির সুযোগ দিতে হবে।’’
Comments :0