Modi Govt in Trouble

সঙ্কটের মুখে ভারত

সম্পাদকীয় বিভাগ

ইরানের উপর আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক আগ্রাসনের জেরে পশ্চিম এশিয়া যথা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ভয়াবহতা যেভাবে ছড়িয়ে পড়ছে তাতে বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি সঙ্কটের মুখে। পশ্চিম এশিয়া যেহেতু বিশ্বের মোট জ্বালা‍নির প্রায় অর্ধেক সরবরাহ করে তাই এই যুদ্ধ যদি দীর্ঘায়িত হয় তাহলে নতুন তেল সঙ্কটে পড়বে গোটা দুনিয়া। যুদ্ধের কারণে কোথাও তেল উৎপাদন বন্ধ হয়েছে, কোথাও কমেছে। যেটুকু উৎপাদন হচ্ছে হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ করা যাচ্ছে। তেলবাহী জাহাজগুলি আটকে আছে পারস্য উপসাগরে।
ইরানের উপর মার্কিন-ইজরায়েলী যৌথ আক্রমণের ফলে সবচেয়ে বিপদের আশঙ্কায় আছে ভারত। কারণ ভারতকে তাদের প্রয়োজনীয় তেলে ৮৬ শতাংশই আমদানি করতে হয়। আর এই আমদানির অর্ধেক আসে পশ্চিম এশিয়া থেকে হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে। স্বাভাবিকভাবেই ১ মার্চ থেকে ভারতে তেল আসা উদ্বেগজনকভাবে কমেছে। তেল থেকেও পশ্চিম এশিয়া থেকে বেশি আসে প্রাকৃতিক গ্যাস এবং রান্নার গ্যাস। সেগুলোর জোগানও কার্যত বন্ধ। এদিকে বিশ্বের মোট জ্বালানির চলাচলের এক চতুর্থাংশ হরমুজ প্রণালীর জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জোগান অনিশ্চয়তায় বিশ্ব বাজারে অশোধিত তেলের দাগ ব্যারেল প্রতি অনেকটা বেড়ে ৯৪ ডলার হয়ে গেছে। আশঙ্কা একশো ডলার হয়ে যেতে পারে। এই অবস্থায় অন্য উৎস থেকে তেল কিনতে হলে অনেক বেশি দামে কিনতে হবে ভারতকে। দেশে এখন যত তেল-গ্যাস মজুত আছে তাতে টেনেটুনে হয়ত তিন চার সপ্তাহ চলতে পারে। এই অবস্থায় ইতিমধ্যেই রান্নার গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে। যেকোনও সময় বাড়বে ডিজেল-পেট্রোলের দাম। জ্বালানির দাম বাড়া মানে পরিবহণ ব্যয় বৃদ্ধি এবং যাবতীয় জিনিসপত্রের মূল্য বৃদ্ধি।
ভারতের রপ্তানি বাণিজ্যের প্রায় ২৫ শতাংশ যায় পশ্চিম এশিয়ায়। যুদ্ধের কারণে সেটা আটকে গেছে। সার উৎপাদনের কাঁচামাল আসে পেট্রোপণ্য থেকে। সেটাও জোগান সঙ্কটে পড়ায় সারের জোগান কমবে ও দাম বাড়বে। কৃষিতে সঙ্কট ঘনাবে। ভারতের আমদানি ও রপ্তানি পণ্যে ৪৫ হাজার কন্টেনার আটকে আছে পারস্য উপসাগরে। কতদিন আটকে থাকবে কেউ জানে না। পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে প্রায় এক কোটি ভারতীয় থাকেন। তাদের পাঠানো টাকা ভারতের বিদেশি মুদ্রার একটা অন্যতম উৎস। অশান্তি, অনিশ্চয়তার কারণে তাদের রোজগারে সঙ্কট দেখা দিতে পারে। এদিকে ভারতের শেয়ার বাজারেও দেখা দিয়েছে ঘোর অনিশ্চয়তা। শেয়ার সূচকের পতন ঘটছে হু হু করে। বিদেশি লগ্নিকারীরা ভারতের বাজারে আস্থা রাখতে না পেরে ক্রমাগত লগ্নি তুলে নিয়ে চলে যাচ্ছে। ফলে ডলারের চাহিদা বাড়ায় টাকার দাম কমছে। ইতিমধ্যে ডলারের বিনিময় মূল্য ৯২ টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে। মূল্যবৃদ্ধির হার, বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়, জিডিপি বৃদ্ধির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। সঙ্কটের জেরে বহু মানুষ কাজ হারাতে পারেন বা মজুরি কমতে পারে।
আমেরিকার সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থে ট্রাম্প এই যুদ্ধ শুরু করেছেন, তার মূল্য দিতে হচ্ছে ভারতকে। অথচ ভারত সরকার এই যুদ্ধ প্রশ্নে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। যুদ্ধের বিরোধিতা, কড়া প্রতিবাদ কোনও কিছুই ভারতের তরফে নেই। বরং আমেরিকার জুনিয়র স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার হওয়ার বাসনায় পরোক্ষ আগ্রাসনকে সমর্থন করে যাচ্ছে দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে।

Comments :0

Login to leave a comment