পলাতক থাকার পর গ্রেপ্তার নাজিরাবাদের ডেকরেটরের গুদামের মালিক গঙ্গাধর দাস। মঙ্গলবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে গঙ্গাধরের বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুর জেলার খেজুরি থানার অন্তর্গত পূর্বচড়া গ্রামে। ৪০ বছর আগে নিজের এলাকায় ডেকরেশনের ব্যবসা শুরু করেন তিনি। পরে বাইরের থেকে বিভিন্ন সাজানোর জিনিস কিনে ব্যবসা বাড়ান তিনি।
পূর্ব মেদিনীপুরের পাশাপাশি খেয়াদহ ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের নাজিরাবাদ এলাকায় কারখানা এবং গুদাম চালু করেন তিনি। সেই গুদাম আগুনে পুড়ে যায়। গাফিলতির কারণে দুর্ঘটনা এই ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ।
নাজিরাবাদের অগ্নিকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত ১৬ জনের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। নিখোঁজ অনেকেই। বুধবার এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করার প্রতিবাদে মিছিলের ডাক দিয়েছে সিপিআই(এম) দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা কমিটি।
সোমবার ভোররাতে নাজিরাবাদের ওয়াও মোমো কারখানায় আগুন লাগে। মঙ্গলবারও আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন দমকল কর্মীরা। স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, গুদামের ভিতরে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার পর পর বিস্ফোরণ হওয়ায় আগুন ভয়াবহ চেহারা নেয় ও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। গুদামের পাশে থাকা মেস ও বাড়ি থেকে লোকজনদের দ্রুত সরিয়ে দেওয়া হয়। অগ্নিকান্ডের ঘটনায় সোমবার ঘটনাস্থলে আসেন বিদ্যুৎমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, সোনারপুর উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক ফিরদৌসী বেগম। মঙ্গলবার আসেন দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু, পৌর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনার প্রায় ৩২ ঘন্টা পর ঘটনাস্থলে দমকল মন্ত্রী আসায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় মানুষেরা তাঁকে দেখে গো ব্যাক শ্লোগান দেয়। পুলিশি ঘেরাটোপে রাখা হয়েছে ঘটনাস্থল।
মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে আমি এখানে এসেছি। দেহ শনাক্তের কাজ সম্পন্ন হলে পরিবারের হাতে ডেট সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হবে। রাজ্য সরকারের তরফ থেকে মৃতদের পরিবার পিছু ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য করা হবে। ঘটনার কারণ জানতে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও এই ক্ষতিপূরণের পরপেক্ষিতে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার জানিয়েছেন, ২৭ বছরের তরতাজা প্রাণ চলে গিয়েছে। এখন এই দশলক্ষ টাকা দিয়ে কি হবে। কতদিন চালবে। কী করে সংসার চলবে আমাদের।
গোডাউনের ভিতরে দমকল কর্মীরা এদিনও ভস্মীভূত ছাই চাপা আগুন নেভানোর চেষ্টা চালিয়েছেন দিনভর। তার ভিতর থেকে ধোয়া বেরোতে থাকে অনবরত। ঘটনাস্থল থেকে ফরেনসিক টিম নমুনা সংগ্রহ করেছে। দমকলের ডিজি ও এডিজিসহ অন্যান্য আধিকারিকরা নমুনা সংগ্রহ করেন। গোটা এলাকা ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে। এখনও নাজিরাবাদের বাতাসে ভাসছে চামড়া পোড়া গন্ধ। দীর্ঘদিন ধরে ওই দুটি গুদামে কোন অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
৮ জন শ্রমিকের দেহ উদ্ধার হলেও স্থানীয় বাসিন্দারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, মৃতদের সংখ্যা আরও অনেক বাড়বে। গুদাম দুটিতে বাইরে থেকে তালা বন্ধ থাকায় ভিতরে আগুন লাগলেও বাঁচবার আপ্রাণ চেষ্টা করেও কেউ বেরোতে পারেননি। বিধ্বংসী আগুনে গুদামের ভিতরেই তাঁরা দগ্ধ হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এদিন অভিযোগ করে আরও বলেছেন, অন লাইন খাদ্য ডেলিভারি সংস্থার গুদামে বেআইনিভাবে কোল্ড ড্রিঙ্কস তৈরি করা হতো। প্রচুর পরিমাণে দাহ্য পদার্থ মজুত করা হয়েছিল।
Anandapur Fire
গ্রেপ্তার নাজিরাবাদের গুদামের মালিক
×
Comments :0