বন্ধ কারখানা চালু করে বেকারদের কর্মসংস্থান তৈরির দাবিতে সোচ্চার হল ভারতের গণতান্ত্রিক যুব ফেডারেশন পশ্চিম বর্ধমান জেলা কমিটি। বাংলা জুড়ে বেকারদের কাজের দাবিতে ‘শিল্প চাই, কাজ চাই, বাম পথে বাংলা চাই‘ শ্লোগান তুলে পথে নেমেছে যুব সংগঠন ডিওয়াইএফআই।
বুধবার খনি শহর রানিগঞ্জের কালো পিচ ঢালা রাজপথের দখল নিয়েছিল ডিওয়াইএফআই লেখা সাদা পতাকা নিয়ে সহস্রাধিক যুব। এদিন পড়ন্ত বিকেলে রানিগঞ্জের বল্লভপুর পেপার মিল গেট থেকে পদযাত্রা শুরু হয়ে সিহারশোল মোড় অবধি দীর্ঘ ৭ কিমি পথ এগিয়ে চলে। শহিদ সুকুমার ব্যানার্জি ও জননেতা রবীন সেনের মূর্তিতে মাল্যদান করে এদিনের মিছিলের শুরুর আহ্বান প্রত্যয়ী শপথে পরিণত হয়। গতকাল রানিগঞ্জ ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের মোড়ে ডিওয়াইএফআই 'র সাদা পতাকা খুলে দেয় বিজেপির মাতব্বরেরা। গণতন্ত্রকে ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়ার ঘটনায় পুলিশ প্রশাসন নির্বিকার থেকেছে। তার বিরুদ্ধে যুবদের জেদি মিছিল বিভাজনের রাজনীতি করা বিজেপি ও তাদের দোসর তৃণমূলের হাত থেকে বাংলাকে বাঁচানোর শ্লোগানের উত্তাল তরঙ্গ তুলে সারা কয়লাঞ্চলে আছড়ে পড়ে।
এদিনের উপচে পড়া রাজপথ জানান দিল - বামপথেই বাংলা চাই। শিল্পসমৃদ্ধ পশ্চিম বর্ধমান জেলা এখন শিল্প মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। কয়লাখনি বেসরকারি মালিকের হাতে তুলে দিচ্ছে কেন্দ্রের মোদী সরকার। বেঙ্গল পেপার মিল, বার্নস, জেকে নগর অ্যালুমিনিয়াম কারখানা, হিন্দুস্থান কেবলস, এমএএমসি, বিওজিএল, এইচএফসি কারখানা খণ্ডহরে পরিণত হয়েছে। বেকারদের হাতে কাজ নেই। পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা বাড়ছে গোটা শিল্পাঞ্চলে। দামোদর, অজয় নদীর বালি চুরি থেকে শিল্পতালুক থেকে তৃণমূলের তোলাবাজির ফলে শ্রমিকদের উপর শোষণ, মূল্যবৃদ্ধি, কারখানায় স্থানীয় বেকারদের কাজ না পাওয়া অনিশ্চিত জীবন।
মিছিল থেকে ডিওয়াইএফআই রাজ্য সম্পাদক ধ্রুবজ্যোতি সাহা ও সভাপতি অয়নাংশু সরকার জানান, তৃণমূল-বিজেপির ছদ্মলড়াই দিনদিন প্রকট হচ্ছে। এসআইআর নিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রান করা হচ্ছে। তাঁরা মনে করিয়ে দেন, সিঙ্গুর সহ গোটা শিল্পাঞ্চলকে ধ্বংস করেছে তৃণমূল ও বিজেপি। মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে দুই সরকারের বিরুদ্ধে। মিছিলের শেষে যুব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন যুবনেতা ধ্রুবজ্যোতি সাহা, অয়নাংশু সরকার, বিকাশ ঝা, বৃন্দাবন দাস। সভাপতিত্ব করেন ভিক্টর আচার্য।
Comments :0