সোমবার ৭৭ তম সাধারণতন্ত্র দিবসে দেশের সংবিধান, ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র, জাতীয় ঐক্য, অখন্ডতা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষার শপথ নিলেন বামপন্থী দল সমূহের নেতা কর্মীরা।
এদিন রাজ্যজুড়েই জাতীয় পতাকা উত্তোলন, সংবিধান রক্ষার শপথ ও সভা সহ নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে সাধারণতন্ত্র দিবস উদযাপনে শামিল হয়েছেন বামপন্থীরা।
এদিন বামফ্রন্টের পক্ষথেকে এন্টালি মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন, সংবিধান রক্ষার শপথ বাক্য পাঠ ও সংক্ষিপ্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়। ছিলেন বামফ্রন্ট সভপতি বিমান বসু, সিপিআই(এম)'র রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম, প্রবীন সিপিআই( এম) নেতা সূর্যকান্ত মিশ্র, রবীন দেব, সিপিআই( এম) কলকাতা জেলার সম্পাদক কল্লোল মজুমদার,আর এস পি'র সাধারণ সম্পাদক মনোজ ভট্টাচাৰ্য, সিপিআই নেতা কল্যান ব্যানার্জি, ফরোয়ার্ড ব্লকের নেতা দেবব্রত রায়, আর সি পি আই'য়ের নেতা প্রবীর অধিকারী, মার্কসবাদী ফরোয়ার্ড ব্লকের নেতা আশীষ চক্রবর্তী সহ বামফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ। এখানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও শপথ বাক্য পাঠ করান বামফ্রন্ট সভাপতি বিমান বসু। ্এ্দিন বিমান বসু তার ভাষণে দেশের ঐক্য, ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র, জাতীয় ঐক্যের বিষয়গুলি আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, এগুলো রক্ষা করা তখনই সম্ভব যখন দেশ ও দেশের মানুষ একসাথে ঐক্যব্দ্ধ হয়ে চলবে। মানুষে মানুষে সম্প্রীতির ঐক্য দৃঢ় থাকবে। জাত, ধর্ম, বর্ণের বিরোধ থাকবেনা। তাই কেবল এগুলোকে রক্ষার শপথ বাক্য পাঠ করলেই হবেনা। এই মনোভাবের বিকাশ ও প্রসার ঘটিয়ে এর সপক্ষে আরও বেশি বেশি করে মানুষকে ঐক্যব্দ্ধ করতে হবে। সভায় মহম্মদ সেলিম বলেন,দেশের যে সংবিধান তা গ্রহন করেছেন দেশের জনগন। তাই তো সংবিধানের প্রস্তাবনায় উই দ্য পিপল কথাটার স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে দেশের জনসাধারণের গৃহীত সেই সংবিধানকেই নানাভাবে দুরমুশ ও বিকৃত করা হচ্ছে। কেড়ে নেওয়া হচ্ছে মানুষের সংবিধান স্বীকৃত অধিকার ধর্মনিরেপেক্ষতা,ঐক্য সংহতিকে। সেলিম বলেন, দেশের জনসাধারণের যে সার্বজনীন ভোটাধিকার "এস আই আর"এর নামে সেই আধিকারের ধারনা পাল্টে দেওয়া হচ্ছে। ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত চলছে। এই অভিসন্ধি জ্ঞানেশ কুমার থেকে নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে করছেন বর্তমান রাষ্ট্রের পরিচালকরা। মোদ্দা উদ্দেশ্য সংবিধান স্বীকৃত যে গণতন্ত্রিক ব্যবস্থা তাকে ধ্বংস করে দেওয়া। সেলিম আরও বলেন, বর্তমানে ধর্মের সাইনবোর্ড সামনে এনে " উই দ্য পিপল অব ইন্ডিয়া "এই ধারনাকেই নষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে। সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যদি ঐক্য না থাকে, সমানাধিকার না থাকে তাহলে সংবিধান রক্ষা করা যায়না। তাই সংবিধান রক্ষার শপথে ঐক্য, সম্প্রীতি, রক্ষার জন্য মানুষকে একজোট করে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। সেলিম এদিন বিজেপি, আর এস এস এবং এরাজ্যের মমতা ব্যানার্জির সরকারের ধর্মের উন্মাদনার রাজনীতির বিরুদ্ধে সরব হয়ে বলেছেন, রাষ্ট্রের পরিচালনা হবে সংবিধান মোতাবেক।জাত, ধর্মের মৌলবাদী বাহকরা নয়। এখনো দেশে সব মানুষের জন্য সামাজিক, অর্থনৈতিক ন্যায় প্রতিষ্ঠা হয়নি।এগুলোর জন্য আমরা বামপন্থীরা ধারাবাহিক লড়াই চালিয়ে যাব। মনোজ ভট্টাচাৰ্য বলেন, বর্তমানে দেশে অর্থনৈতিক বৈষম্য এক ভয়ঙ্কর রুপ নিয়েছে। এই বৈষম্য পৃথিবীর মধ্যে এদেশেই সর্বাধিক। এই অবস্থার পরিবর্তনে বামপন্থীরা লাগাতার লড়াই সংগ্রাম চালিয়ে যাবেন। সভায় এছাড়াও বক্তব্য রেখেছেন কল্যাণ ব্যানার্জি, দেবব্রত রায় প্রমুখ। সভা পরিচালনা করছেন কল্লোল মজুমদার। এদিন কলকাতায় বিভিন্ন এলাকতেও জাতীপতাকায় উত্তোলন, শপথ বাক্য পাঠের মধ্যদিয়ে সংবিধানের ঐতিহ্য রক্ষার শপথ নিয়েছেন বামফ্রন্টের কর্মীরা।
Comments :0