Black Leopards

কার্শিয়াংয়ের জঙ্গলে জোড়া কালো চিতাবাঘ

জেলা

কার্শিয়াং বনবিভাগের পাহাড়ি অরণ্যে ফের ধরা পড়ল বিরল ম্যালানিস্টিক লেপার্ড বা কালো চিতাবাঘের উপস্থিতি। তবে এবারের ঘটনাটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ একটি নয়—একসঙ্গে জোড়া কালো চিতাবাঘ বনদপ্তরের ট্র্যাপ ক্যামেরায় বন্দি হয়েছে। রবিবার কার্শিয়াং বনবিভাগের পক্ষ থেকে এই বিরল দৃশ্যের ছবি প্রকাশ্যে আনা হয়।
বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, নিয়মিত নজরদারির অংশ হিসেবে জঙ্গলের বিভিন্ন কৌশলগত স্থানে বসানো ট্র্যাপ ক্যামেরায় এই দৃশ্য ধরা পড়ে। কার্শিয়াংয়ের ডিএফও দেবেশ পাণ্ডে জানান, এই বনাঞ্চলে কালো চিতাবাঘের অস্তিত্ব নতুন নয়। তবে একই ফ্রেমে দু’টি কালো চিতাবাঘের উপস্থিতি অত্যন্ত বিরল এবং আশাব্যঞ্জক। প্রাণী দুটি ভাই-বোন, না কি প্রজনন জুটি—তা এখনও নিশ্চিত নয়। বনকর্তাদের মতে, লিঙ্গ নির্ধারণ এবং শরীরের চামড়ায় থাকা বিশেষ দাগ বা স্ট্রাইপ বিশ্লেষণ করলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
উল্লেখ্য, গত কয়েক বছরে উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি অঞ্চলে কালো চিতাবাঘের আনাগোনা ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বনদপ্তরের নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২৩ জানুয়ারি চিমনি থেকে বাগোরা যাওয়ার পথে প্রথমবার এক গাড়িচালকের চোখে পড়ে কালো চিতাবাঘ। এরপর ২০২৪ সালের জুন থেকে অক্টোবরের মধ্যে চিমনি, বাগোরা ও গিমিক এলাকায় একাধিকবার এই বিরল প্রাণীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। শুধু কার্শিয়াং নয়, দার্জিলিং জেলার চিত্রে বাজার, মিরিক এবং মানেভঞ্জন এলাকাতেও বিভিন্ন সময়ে কালো চিতাবাঘের দেখা মিলেছে।
কালো চিতাবাঘের উপস্থিতি একদিকে বন্যপ্রাণীপ্রেমী ও পর্যটকদের মধ্যে কৌতূহল ও উৎসাহ বাড়ালেও, অন্যদিকে নিরাপত্তা ও সংরক্ষণ নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। ২০২২ সালে মানেভঞ্জন এবং ধোত্রে–শিলিগুড়ি সড়ক সংলগ্ন এলাকা থেকে দুটি কালো চিতাবাঘের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছিল। এই ঘটনার পর থেকেই চোরাশিকার রুখতে এবং বিরল এই প্রজাতির সুরক্ষায় ট্র্যাপ ক্যামেরার মাধ্যমে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে বনদপ্তর।
বনকর্তাদের মতে, জোড়া কালো চিতাবাঘের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে কার্শিয়াংয়ের পাহাড়ি বনাঞ্চল এখনও এই বিরল বন্যপ্রাণীর উপযুক্ত আবাসস্থল হিসেবে টিকে আছে। তবে ভবিষ্যতে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কঠোর নজরদারি, বনরক্ষা এবং স্থানীয় স্তরে সচেতনতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি।

Comments :0

Login to leave a comment