SFI

নেই শিক্ষক-পরিকাঠামো, ৩০ জানুয়ারি ফের বিকাশ ভবন অভিযানে এসএফআই

রাজ্য কলকাতা

সরকারি স্কুল শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে। শতাব্দীপ্রাচীন একাধিক স্কুলে নেই পর্যাপ্ত শিক্ষক। স্কুলগুলি পরিকাঠামো ধ্বংসের মুখে। রাজ্যের শিক্ষা দপ্তরের হস্তক্ষেপের দাবিতে ফের বিকাশ ভবন অভিযান করবে এসএফআই।
রবিবার সাংবাদিক এসএফআই রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে জানিয়েছেন, চলতি মাসের ৩০ তারিখে ফের বিকাশ ভবন অভিযান হবে। 
পাশাপাশি, ২৬ জানুয়ারি সংগঠনের সব ইউনিটে সংবিধানের প্রস্তাবনা পাঠের ঘোষণাও করেন তিনি। 
রবিবার কলকাতায় দীনেশ মজুমদার ভবনে সাংবাদিক সম্মেলনে দেবাঞ্জনের সঙ্গে ছিলেন সংগঠনের রাজ্য সভাপতি প্রণয় কার্য্যীও। উল্লেখ্য, ‘স্কুল বাঁচাও, মূল বাঁচাও’ স্লোগানে রাজ্যজুড়ে আন্দোলন চালাচ্ছে এসএফআই। রাজ্যের স্কুল শিক্ষা ব্যবস্থার বেহাল দশা নিয়ে চলছে আন্দোলন। 
প্রণয় কার্য্যী বলেন, ‘‘রাজ্যের সর্বত্র ‘স্কুল বাঁচাও মূল বাঁচাও’ শ্লোগানে লড়াই জারি থাকবে। বিভিন্ন স্কুলের ক্যাম্পাসের পাশাপাশি ডিআই অফিস, ডিএম ও বিডিও-র দপ্তরে অভিযান করা হয়েছে। ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে নিয়ে এসএফআই সমস্যার কথা পৌঁছে দিয়ে এসেছে। বহু স্কুলে শুধু স্কুল বাড়িই রয়েছে, নেই শিক্ষক। আবার কোথাও নেই ছাত্র। সকলের জন্য শিক্ষা সুনিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের। কিন্তু কেন্দ্র এবং রাজ্যের দুই সরকারই সেখান থেকে হাত তুলে নিচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে স্কুলগুলি পাচ্ছে না কম্পোজিট গ্রান্ট-র টাকা। অনেক জায়গায় দেখা গিয়েছে অভিভাবকরা নিজের টাকা দিয়ে স্কুলের বাথরুম পরিষ্কার করাচ্ছেন।"
প্রণয়ের কথায়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচাতে হলে স্কুলকে বাঁচাতে হবে। ক্লাস রুমের পরিকাঠামো উন্নয়ন প্রয়োজন। ছাত্রের অনুপাত অনুযায়ী দিতে হবে শিক্ষক। স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে ২৪০ টাকার বেশি ফি নেওয়া চলবে না।  
এসএফআই রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে বলেন, ‘‘গোটা রাজ্যে প্রাথমিকভাবে ৩৯টি স্কুলের অবস্থা একেবারেই বেহাল। এর মধ্যে শতাব্দীপ্রাচীন একাধিক স্কুল রয়েছে। সেখানে ভালো সংখ্যক ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করে। কিন্তু শিক্ষকের অভাবে উঠে যাচ্ছে একের পর এক বিভাগ।’’ 
কলকাতার হিন্দু স্কুল, কোচবিহার জেনকিন্স স্কুল, বীরভূম জেলা স্কুল, হাওড়া জেলা স্কুল, হেয়ার স্কুল, উত্তরপাড়া গভর্মেন্ট হাইস্কুলের বিভিন্ন বিভাগে নির্দিষ্ট তথ্য উল্লেখ করে এসএফআই জানিয়েছে কোনভাবে একজন মাত্র শিক্ষক, আবার কোথাও কোনও বিভাগে একজনও শিক্ষক নেই। 


দেবাঞ্জন বলেন, "কোনও স্কুলে স্ট্যাটিস্টিকসে একজন মাত্র শিক্ষক, কোথাও কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগে একজনও শিক্ষক নেই। আবার দেখা যাচ্ছে একটি স্কুলের অঙ্কের দুই শিক্ষককে টিচারকেই অন্য জায়গায় ট্রান্সফার করে দেওয়া হচ্ছে। হিন্দু স্কুলের একজন অঙ্কের টিচারকে ট্রান্সফার করা হয়েছে বীরভূম জেলা স্কুলে এবং হেয়ার স্কুলে অংকের টিচার না থাকার কারণে বীরভূম জেলা স্কুল থেকে একজন শিক্ষককে হেয়ার স্কুলে নিয়ে আসা হচ্ছে। শিক্ষা দপ্তর এই তথ্যগুলো কি জানে না, যদি হেয়ার স্কুলের শিক্ষকের প্রয়োজন হতো তাহলে হিন্দু স্কুল থেকেই সেই শিক্ষক পাঠানো যেত। বীরভূম জেলা স্কুল থেকে কেন শিক্ষককে নিয়ে আসতে হচ্ছে হেয়ার স্কুলে। 
এছাড়াও দেবাঞ্জন দে বলেছেন, শুধুমাত্র বিজ্ঞান বিভাগের বিষয়গুলির শিক্ষক কম নয়। শিক্ষক নেই কমার্স এমনকি পলিটিকাল সায়েন্স-এর মতো বিষয়েরও। শুধু শিক্ষকই নয় একই অবস্থা শিক্ষাকর্মীর ক্ষেত্রেও। হিন্দু স্কুলে তিন জন শিক্ষা কর্মী থাকার কথা। বর্তমানে রয়েছেন মাত্র একজন। তিনিও এক বছর পর অবসর গ্রহণ করবেন। 
স্কুলশিক্ষার ভয়াবহ অবস্থা উদাহরণ দিয়ে তুলে ধরেন দেবাঞ্জন। তিনি বলেন যে হিন্দু স্কুলের প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি বিভাগ মিলিয়ে প্রায় ১৬০০ ছাত্রের জন্য বরাদ্দ তিনটি মাত্র বাথরুম। তা-ও তা নিয়মিত পরিষ্কার হয় না। অভিভাবকরা নিজেদের টাকা তুলে বাথরুম পরিষ্কারের ব্যবস্থা করেন। এছাড়াও একাধিক সরকারি স্কুলে নেই প্রধান শিক্ষক। কলকাতার ১০ টি স্কুল মিলিয়ে একজন মাত্র প্রধান শিক্ষক রয়েছেন যিনি বাকি ৯টি স্কুলেরও প্রতিনিধিত্ব করেন সরকারের কাছে। যদি সরকারি স্কুল, সরকারি শিক্ষাব্যবস্থাকে বাঁচানো না যায় ভবিষ্যত প্রজন্মেকে বাঁচানো যাবে না। এসএফআই’র ‘স্কুল বাঁচাও মূল বাঁচাও‘  লড়াই সব স্কুলের গেটে পৌঁছানো হচ্ছে। আগামী ৩০ তারিখ বিকাশ ভবনে শিক্ষা মন্ত্রীর কাছে এই কথা পৌঁছে দিতেই আমরা যাব।"

Comments :0

Login to leave a comment