গল্প
মুক্তধারা
-------------------------------
বুড়সালিকের ঘাড়ে রোঁ
-------------------------------
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ভক্তপ্রসাদ বাবু জমিদার। প্রজাদের মঙ্গলের চেয়ে নারী লিপ্সা তাকে বেশি ব্যস্ত রাখে। হানিফ গাজী খাজনা পরিশোধ করতে না পারায় ভক্তবাবু গদাধরকে (ভক্তবাবুর পেয়াদা) নির্দেশ দেন হানিফকে আটক করতে। গদা ভক্তবাবুকে জানায় হানিফের যুবতী স্ত্রী যথেষ্ট সুন্দরী এবং খাজনার বদলে ভক্তবাবু হানিফের স্ত্রীকে একবার ডাকতে পারে। ধর্মকর্মে সদা ব্যস্ত ভক্তবাবুর মনে পড়ে মুসলমানকে স্পর্শ করলে জাত যাবে। কিন্ত পরক্ষণেই নিজ মনে আবার বলে ওঠে, 'স্ত্রীলোক -তাদের আবার জাত কি?' ভক্তবাবু গদাধরকে আশ্বস্ত করে যে হানিফের বউকে রাজি করাতে পারলে গদাধরকে মোটা অঙ্কের টাকা দিবেন। অথচ পরক্ষণেই বাচস্পতি (দরিদ্র বাহ্মণ) তার মায়ের সৎকারের জন্য টাকা চাইলে, তা দিতে অস্বীকার জানান।
ভক্তবাবুর পক্ষে পুঁটি এ প্রস্তাব নিয়ে ফাতেমার কাছে যায়। ফাতেমা প্রস্তাবে রাজি হয় এবং এ বাবদ টাকা নেয়। এদিকে ফাতেমা হানিফকে সব জানায়। ভক্তবাবুকে জব্দ করার ফন্দি আঁটে ফাতেমা, হানিফ এবং বাচস্পতি।
শেষ দৃশ্যে,রাতের বেলা পুঁটি ফাতেমাকে নিয়ে যায় ভাঙ্গা শিবমন্দিরে। সেখানে তারা ভক্তবাবুর জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। এদিকে বাচস্পতি ও হানিফ পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী মন্দিরের পাশের এক গাছের ওপরে লুকিয়ে থাকে। ভক্তবাবু সেখানে উপস্থিত হলে, বাচস্পতি ও হানিফ প্রথমে ভৌতিক পরিবেশের অবতারনা করে এবং অবশেষে এমন পরিস্থিতির অবতারনা করে যে, ভক্তবাবু বেকায়দায় পড়ে যায়।ভক্তবাবু বাচস্পতিকে তার পূর্ব ব্রহ্মত্ব সম্পতি ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন।
সংক্ষিপ্ত রূপ
Comments :0