বৃন্দাবনী মাঠে সমাবেশ করার অনুমতি দেয়নি প্রশাসন। কিন্তু সমাবেশ আটকানো যায়নি। জনতার জমায়েত আছড়ে পড়ল জাতীয় সড়কেই। কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে গেল মালদহ শহর। জনতার বাধভাঙা জমায়েত কেবল রাস্তায় ছাপিয়ে ফ্লাইওভারের ওপরেই ছিল।
গত বৃহস্পতিবারই সিপিআই(এম) মালদহ জেলা সম্পাদক কৌশিক মিশ্র এবং প্রবীণ নেতা অম্বর মিত্র জানিয়েছিলেন অন্যায়ভাবে বৃন্দাবনী মাঠে সমাবেশের অনুমতি আটকে দিল প্রশাসন। সেক্ষেত্রে রাস্তাতেই দাঁড়িয়ে হবে সভা।
শনিবার ইংলিশ বাজারের রথবাড়ি এলাকা কার্যত ভেসে গিয়েছে জমায়েতে। সেখান থেকে মিছিলের ঘোষণা হয় ফোয়ারার মোড় পর্যন্ত। সিপিআই(এম)’র প্রবীণ নেতা অম্বর মিত্র বলেন, ফ্লাইওভারের ওপরেও বহু মানুষ রয়েছেন। সবাই মিছিল করে যাবেন।
মীনাক্ষী মুখার্জি বলেন, মা-বোনেরা ঋণের জালে জর্জরিত। মাইক্রোফিনান্সের দাপটের বিরুদ্ধে কথা বলবে সিপিআই(এম)। অথচ সমাবেশের জন্য মাঠ প্রশাসন দিল না। তৃণমূলের দালালি করছে প্রশাসন। দালালি ছুটিয়ে দিতে হবে। এরাই পঞ্চায়েতের ভোট করিয়েছিল তৃণমূলের লোকেদের দিয়ে। একশো দিনের কাজ বন্ধ করার পিছনে তৃণমূল এবং বিজেপি’র পাশাপাশি দায়ী এই দালাল প্রশাসন।
মীনাক্ষী বলেন, বিজেপি-কে বলতে হবে কেন বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকরা, এই মালদহ-মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিকরা বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাংলায় কথা বলার জন্য আক্রমণের শিকার। নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে ভোটার লিস্টে নাম বাদ দিচ্ছে বিজেপি। তুমুল হেনস্তার শিকার সাধারণ মানুষ। কেন হবে এই অবস্থা। বিজেপি-কে জবাব দিতে হবে। তিনি বলেন, রাজ্যটাকে কিচ্ছু জানে না। পদবির বানান কেন বদলায় জানে না, মহিলাদের পদবি কেন বদলায় জানে না। আর তৃণমূল এদেরকেই উৎসাহিত করছে। তৃণমূলের দম থাকলে বিধানসভার ভেতরে কেন কোনও প্রস্তাব পাশ করল না?
সেলিম বলেন, আমাদের রাজ্যে অদ্ভূত অবস্থা হয়েছে। ভোট এলে বলে খেলা হবে। আর আমাদের বলে মাঠ দেব না। তা’হলে শুনে রাখুন মাঠ না দিলে রাস্তায় খেলা হবে। বিপুল জনতা স্লোগান তুলে সমর্থন জানান।
সেলিম বলেন, আমরা রাস্তা অবরোধ করতে চাইনি। তার জন্য দায়ী প্রশাসন আর চোদ্ধ তলায় বসে থাকা চোর জোচ্চোররা। রাজ্য প্রশাসনের সব দলদাস। থানার আইসি থেকে আইএএস সবার এই অবস্থা। কয়লা চোর ভাইপো মেলা করবে তার জন্য চার জেলা পুলিশ পাহারা দেবে। আর সিপিআই(এম) জেলা সমাবেশ করবে, তার জন্য হাইকোর্টে যেতে হবে? এরা কোনও আইন মানে না।
এসআইআর দেখছেন, যে অফিসাররা সারা বছর দলদাস থাকে, পঞ্চায়েতে দলদাস হয়ে থাকে, তারাই এখন এসআইআর দিয়ে মানুষকে হেনস্তা করছে। যারা মমতা জো-হুজুরি করেছে, তারা এখন নির্বাচন কমিশনের জো-হুজুরি করছে। আমরা আইনের শাসন চাই, সংবিধানের শাসন চাই। দেশ চালাচ্ছেন মোদী আর রাজ্য চালাচ্ছেন মমতা, তাঁরা কেউ সংবিধান মানেন না। এসআইআর কোনও আইন বা সংবিধান মেনে হচ্ছে না। সুপ্রিম কোর্ট বারবার কমিশনকে ওঠবোস করাচ্ছে। অথচ রোজ নতুন নতুন নিয়ম দেখাচ্ছে।
বক্তব্য রাখেন সিপিআই(এম) নেতা শতরূপ ঘোষ, জামিল ফিরদৌসও।
Maldah Rally
মাঠ দেয়নি প্রশাসন, মালদহে শহর ভাসিয়ে জনজোয়ার
×
Comments :0