শমীক লাহিড়ী
একবিংশ শতাব্দীর এক ভয়ঙ্কর বর্বর সন্ত্রাসবাদী দেশ যখন বিশ্বজুড়ে 'গণতন্ত্র' এবং 'মানবাধিকারের' বুলি কপচায়, তখন দক্ষিণ গোলার্ধের মানচিত্রের দিকে তাকালে এক বীভৎস বৈপরীত্য ফুটে ওঠে। ভেনেজুয়েলা থেকে চিলি, কিউবা থেকে নিকারাগুয়া — প্রতিটি জনপদ আজ এক স্বঘোষিত বিশ্ব-সন্ত্রাসবাদীর লিপ্সার বলি।
মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ কোনও বিমূর্ত ধারণা নয়; এটি একটি সুপরিকল্পিত অমানবিক বর্বর যন্ত্র, যার জ্বালানি হলো অন্যের মাটির নিচের তেল-তামা, ফল-কফি, জমি, সম্পদ আর যার চালিকাশক্তি হলো আধিপত্যবাদের নগ্ন আকাঙ্ক্ষা। আজ যখন ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্বের ওপর ‘নির্লজ্জ সন্ত্রাসবাদী হামলা’ চলে, তখন সেটি কেবল একটি দেশের অভ্যন্তরীণ সঙ্কট থাকে না, বরং তা হয়ে ওঠে বিশ্বজুড়ে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের এক নগ্ন প্রদর্শনী।
তেলের লোভ ও 'ব্যানানা রিপাবলিক'
ভেনেজুয়েলার ট্র্যাজেডি, তার ভৌগোলিক অবস্থান এবং তার মাটির নিচের বিশাল সম্পদ। ৩০০ বিলিয়ন ব্যারেলেরও বেশি তেলের মজুত— যা সৌদি আরবের চেয়েও বেশি, দেশটির জন্য আশীর্বাদ নাকি হয়ে অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে! ১৯৫৪ সালে গুয়াতেমালার নির্বাচিত আরবেঞ্জ সরকারকে উৎখাত করার সময় পাবলো নেরুদা যে ‘ইউনাইটেড ফ্রুট কোম্পানি’র কথা লিখেছিলেন, আজ তা বদলে হয়েছে ‘এক্সন মবিল’ বা ‘শেভরন’।
“ তারা তাদের রক্তমাখা তলোয়ার নিয়ে এল
আর আমাদের কফির বাগানগুলো ছিঁড়ে নিল,
তারা আমাদের নাম দিল 'ব্যানানা রিপাবলিক'।
তারা একনায়কদের বসিয়ে দিল আমাদের কাঁধে,
আর আমাদের মৃতদেহগুলোর ওপর দিয়ে
তাদের কোম্পানির জাহাজগুলো পাল তুলে দিল।”
নেরুদা’র এই কবিতা প্রতিধ্বনিত হতো একসময়ে ভেনেজুয়েলার তেলের খনিগুলোতে। ২০০৭ সালে যখন হুগো সাভেজ এই সম্পদ জাতীয়করণ করেন, তখনই ওয়াশিংটনে তৈরি হয়েছিল তাকে উৎখাতের নীল নকশা। কারণ, ওয়াশিংটন গণতন্ত্রের কথা বলে ঠিকই, কিন্তু তাদের কাছে গণতন্ত্রের সংজ্ঞা হলো — ‘তোমার সম্পদ আমার বহুজাতিক কোম্পানির হাতে তুলে দাও, সেটাই গণতন্ত্র’। ২০২৪-২৫ সালে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের সরাসরি হুঙ্কার, মার্কিন কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন ব্যবস্থার সংস্কার করতে চায়, যা আসলে সেই পুরানো দস্যুবৃত্তিরই আধুনিক সংস্করণ।
চিলির রক্তস্নাত স্টেডিয়াম
সাম্রাজ্যবাদ কেবল পেট কাটে না, সে মানুষের কলজে ছিঁড়ে খায়। ১৯৭৩ সালের চিলির সেই রক্তমাখা ১১ সেপ্টেম্বর বিশ্ব আজও ভোলেনি। গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত মার্কসবাদী রাষ্ট্রপতি সালভাদর আলেন্দেকে হটিয়ে সিআইএ’র মদতে জেনারেল পিনোচেতের মতো এক রক্তপিপাসুকে ক্ষমতায় বসানো হয়েছিল। কেন? কারণ আলেন্দে চেয়েছিলেন চিলির খনিজ সম্পদ চিলির মানুষের হোক।
সেই সময়ে চিলির স্টেডিয়ামে ভিক্টর জারাকে বন্দি করে তার আঙুলগুলো বুট দিয়ে পিষে হাত দুটো কেটে নেওয়া হয়েছিল, যাতে তিনি আর গিটার বাজাতে না পারেন। এই নিষ্ঠুরতাই মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের প্রকৃত চেহারা। যন্ত্রণার কুঁকড়ে যাওয়া জারা লিখেছিলেন তার শেষ কবিতা -
“ এখানেই পাঁচ হাজার আমরা, এই শহরের এক টুকরোয়।
কত ভয় জাগিয়ে তোলে এই নিষ্ঠুরতা!
কী কঠিন এই মৃত্যু, যখন কোনো শব্দ নেই!
এখানে সবকিছুই নিস্তব্ধতা আর আর্তনাদ—
এই নিস্তব্ধতা আমার এই গানেরই শেষ কথা।”
কিন্তু সাম্রাজ্যবাদীরা জানত না যে, জারাকে মেরে ফেলা গেলেও তার গান আকাশে বাতাসে লেখা হয়ে গিয়েছিল। আজও তাই ভেনেজুয়েলার রাজপথে মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে স্লোগানে ভিক্টর জারার কণ্ঠস্বরই প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।
অবরোধের নামে মানবতার লুণ্ঠন
ভেনেজুয়েলা বা কিউবার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কোনও আইনি পদক্ষেপ নয়, বরং এটি মানবিকতা, মানুষের অধিকারের বিরুদ্ধে— একটি বর্বরচিত অঘোষিত 'অর্থনৈতিক যুদ্ধ'। একে বলা হয় ‘Collective Punishment’ বা সমষ্টিগত শাস্তি। একটি গোটা জাতিকে ক্ষুধার্ত রেখে, তাদের খাদ্য, ওষুধ ও শিশুখাদ্য থেকে বঞ্চিত করে সরকারকে উৎখাত করতে বাধ্য করা — এর চেয়ে বড় অমানবিকতা আর কী হতে পারে? নেরুদা তার ‘আই এক্সপ্লেইন ফিউ থিংস’ কবিতায় যা বলেছিলেন, আজকের ভেনেজুয়েলার গলিগুলোতে তাকালে সেই চিত্রই ফিরে আসে।
“ আসুন, দেখুন গলিগুলোতে রক্ত,
আসুন এবং দেখুন— গলিগুলোতে বয়ে যাচ্ছে রক্ত!
প্রতিটি মরা শিশুর ভেতর দিয়ে দেশ জেগে উঠছে,
প্রতিটি ক্ষত থেকে বেরিয়ে আসছে আগ্নেয়গিরি। ”
সমাজতন্ত্র রোখার নগ্ন রাজনীতি
লাতিন আমেরিকাকে মার্কিন প্রশাসন তার ‘Backyard’ বা পেছনের উঠোন মনে করে। ১৮২৩ সালের সেই কুখ্যাত 'মুনরো ডকট্রিন' আর ১৯০৪ সালের ‘রুশভেল্ট করোলারি’ মতবাদ নিয়েই সামরিক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে আজও। উল্লেখ্য, ১৯০৪ সালে প্রেসিডেন্ট থিওডোর রুশভেল্ট 'মুনরো ডকট্রিন' নীতির সাথে একটি সংশোধনী যোগ করেন। তিনি বলেন, ‘লাতিন আমেরিকার কোনও দেশে যদি ‘অব্যবস্থাপনা’ দেখা দেয়, তবে সেখানে শৃঙ্খলা ফেরাতে আমেরিকা ‘আন্তর্জাতিক পুলিশ’ হিসাবে সামরিক হস্তক্ষেপ করার অধিকার রাখে।
আজও তাদের বর্বর হিংস্র রক্তখেকো লোলুপ মগজে এটাই সক্রিয়। কিউবার 'বে অব পিগস' আক্রমণ থেকে শুরু করে নিকারাগুয়ার 'কন্ট্রা যুদ্ধ' — সবই ছিল সমাজতান্ত্রিক আদর্শকে গলা টিপে হত্যার চেষ্টা। আশির দশকে যখন নিকারাগুয়ার সান্দিনিস্তারা সাধারণ মানুষের জন্য স্কুল-হাসপাতাল বানাচ্ছিল, তখন আমেরিকা সেখানে 'কন্ট্রা' নামক জঙ্গি বাহিনী পাঠিয়ে রক্তগঙ্গা বইয়ে দিয়েছিল। আজ ভেনেজুয়েলা যখন রাশিয়া ও চীনের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছে, তখন আমেরিকার গায়ে জ্বালা ধরেছে। কারণ তারা চায় না লাতিন আমেরিকার কোনও দেশ স্বাবলম্বী হোক এবং সেই দেশের প্রাকৃতিক সম্পদের মালিকানার অধিকার থাক একমাত্র মার্কিনী লুটেরাদেরই। চীন বা রাশিয়ার সাথে তেলের বিনিময়ে খাদ্য, ওষুধ, বা আত্মরক্ষার জন্য যুদ্ধাস্ত্র আমদানি – ট্রাম্পের ঘোর না পসন্দ। তাই প্রথমে হুমকি, তার পর তৃতীয় শ্রেণির গুন্ডার মতো একটা স্বাধীন সার্বভৌম, গণতান্ত্রিক দেশের নির্বাচিত রাষ্ট্রপ্রধান নিকোলাস মাদুরোকে সস্ত্রীক অপহরণ করে, এখন মুক্তিপণ চাইছে – তোমার দেশের তেলের মালিকানা আমাদের তুলে দাও।
এক ঝলকে মার্কিনী গুন্ডামি
১৯৫৩ সালে সিআইএ এবং ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা মিলে ইরানের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মোসাদ্দেককে ক্ষমতাচ্যুত করে রাজতন্ত্র ফিরিয়ে আনে।
১৯৬১ সালে কঙ্গোর প্রথম প্রধানমন্ত্রী এবং আফ্রিকা মহাদেশের এক বিপ্লবী নেতা প্যাট্রিস লুমুম্বাকে হত্যার পরিকল্পনা ছিল সিআইএ’রই। তাকে বন্দি করার পর নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল।
সিআইএ কিউবার নেতা ফিদেল কাস্ত্রোকে মারার জন্য ৬৩৮ বার পরিকল্পনা বা চেষ্টা করেছিল সিআইএ।। এর মধ্যে বিষাক্ত চুরুট থেকে শুরু করে বিস্ফোরক শামুক পর্যন্ত অদ্ভুত সব পরিকল্পনা ছিল।
শুধু কমিউনিস্ট নেতারাই নয়, মার্কিনীদের একসময়ের সহযোগী এবং তাদের পুতুল রাষ্ট্রপ্রধানরাও এদের হাতে খুন হয়েছেন বিভিন্ন সময়ে।
১৯৬৩ সালে মার্কিন মদতপুষ্ট এক অভ্যুত্থানে দক্ষিণ ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট নগো দিন দিয়েমকে হত্যা করা হয়। সে সময়ে দক্ষিণ ভিয়েতনাম ছিল আলাদা দেশ এবং দিন দিয়েম ছিলেন প্রবল কমিউনিস্ট বিরোধী। শুরুতে আমেরিকার খুব ঘনিষ্ঠ হলেও পরবর্তীকালে মার্কিনীদের স্বার্থ রক্ষায় ব্যর্থ হলে আমেরিকার সাথে তার সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ১৯৬৩ সালের ১ নভেম্বর দক্ষিণ ভিয়েতনামের সেনাবাহিনী মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র পরিকল্পনায় এক সামরিক অভ্যুত্থান ঘটায়। ২ নভেম্বর ১৯৬৩ সালে একটি গির্জা থেকে তাকে এবং তার ভাই নগো দিন নহু-কে গ্রেপ্তার করা হয়। একটি সাঁজোয়া গাড়ির ভেতরে তাদের দু’জনকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়।
২০০৩ সালে সম্পূর্ণ মনগড়া, অসত্য এক অভিযোগের ভিত্তিতে মার্কিন সেনা ইরাক দখলের যুদ্ধে নামে। কিছু সংস্থা এবং গবেষকদের মতে, পরোক্ষ কারণ যেমন রোগভোগ, অপুষ্টি এবং পরিকাঠামো ধ্বংস এইসব মিলিয়ে নিহতের মোট সংখ্যা ১০ লক্ষেরও বেশি। মার্কিন আক্রমণের পর সাদ্দাম হোসেন বেশ কিছুদিন লড়াই চালালেও ৪/৬ টি পরাশক্তির আক্রমণে দেশ ছারখার হয়ে যায়। তিনি আত্মগোপনে যান। পরবর্তীতে তাকে একটি ট্রেঞ্চ থেকে অপহরণ ও আটক করা হয় এবং পরে ইরাকি আদালতে সাজানো মামলায় তাকে ফাঁসিকাঠে ঝোলানো হয়। এত হত্যা, স্কুল-কলেজ-হাসপাতাল-বাড়িঘর ধ্বংস এই সব করা হয়েছিল ইরাকের মজুত প্রায় ১৪৫ থেকে ১৫০ বিলিয়ন ব্যারেল তেলের খনিগুলো দখল নেওয়ার জন্যই।
২০১১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র –এর নেতৃত্বে সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলির নেতৃত্বে ন্যাটো বাহিনীর বিমান হামলার সহযোগিতা নিয়ে গুটিকতক মৌলবাদী বিদ্রোহীরা লিবিয়ার নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে হত্যা করে। এত হত্যা আক্রমণের উদ্দেশ্য একটাই – সে দেশের ৫০ বিলিয়ন ব্যারেল তেলের ভাণ্ডারের দখল নেওয়া।
১৯৮৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র পানামা আক্রমণ করে। তৎকালীন শাসক ম্যানুয়েল নরিয়েগাকে বন্দি করে আমেরিকায় নিয়ে আসা হয় এবং মাদক পাচারের অভিযোগে বিচার করা হয়। এটা সরাসরি 'অপহরণ'-এর একটি জ্বলন্ত উদাহরণ।
হাইতি-র প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জঁ-বারত্রঁ আরিস্তিদ ২০০৪ সালে অভিযোগ করেছিলেন, মার্কিন সৈন্যরা তাকে বন্দুকের মুখে বিমানে তুলে জোরপূর্বক অপহরণ করে দেশত্যাগে বাধ্য করেছে।
সিআইএ’র কাজের ধরন হলো, বুজেরা সামনে এসে সরাসরি হত্যা না করে স্থানীয় বিদ্রোহী বা সামরিক বাহিনীকে সমর্থন দিয়ে 'অভ্যুত্থান' ঘটায়। তবে পানামার নরিয়েগা বা ইরাকের সাদ্দাম হোসেন অথবা গদ্দাফির হত্যার ক্ষেত্রে তারা সরাসরি আটক এবং হত্যার প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিল।
প্রতিরোধের রূপ: 'লা লুচা'
সাম্রাজ্যবাদীরা বারবার একটা ভুল করে — তারা মনে করে বন্দুকের নলে মানুষকে আতঙ্কিত করে রাখা যায়। কিন্তু তারা লাতিন আমেরিকার মানুষের ‘লা লুচা’ বা নিরন্তর সংগ্রামের শক্তিকে চিনতে ব্যর্থ হয়েছে। কিউবা গত ৬০ বছর ধরে প্রমাণ করেছে যে, হয় সমাজতন্ত্র নয় মৃত্যু। ভেনেজুয়েলার 'বলিভারিয়ান মিলিশিয়া' আজ সেই শপথই নিয়েছে — ‘প্রতিটি ঘর হবে একেকটি দুর্গ।’ জন্মসূত্রে গুয়েতামালা’র কবি ওতো রেনে কাস্তিলো’র সেই অমর কথাগুলো স্মরণীয় – “ আমার দেশ, চলো এক সাথে লড়াই করি... তারা তোমার শিশুদের হাসি কেড়ে নিয়েছে তেলের লোভে আর ডলারের মোহে।”
ঈগলের পতন ও নতুন সূর্যের উদয়
২০২৫-২৬ সালের বর্তমান প্রেক্ষাপটে ভেনেজুয়েলার ওপর মার্কিন আক্রমণ আসলে একটি ডুবন্ত অর্থনৈতিক সাম্রাজ্যের মরণ কামড়। আমেরিকা আজ বিশ্বমঞ্চে রাজনৈতিকভাবে একা। ভিক্টর জারা বা পাবলো নেরুদা’র রক্ত আর কলম বৃথা যায়নি। প্রতিটি নিষেধাজ্ঞা আর প্রতিটি ষড়যন্ত্র প্রতিরোধে লাতিন আমেরিকার মানুষের প্রতিরোধ আজ এক বিশাল আগ্নেয়গিরি হয়ে জ্বলছে। ইতিহাস সাক্ষী, কোনও দেওয়াল বা কোনও নিষেধাজ্ঞাই শোষিত মানুষের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে চিরকাল আটকে রাখতে পারেনি।
Comments :0