নওজোয়ান যাত্রার শুরুর আগে শনিবার ভোর রাতে সবং এর হরিরহাটে তৈরী করা মঞ্চে আগুন লাগিয়ে দিল তৃণমূল কংগ্রেসের দূষ্কৃতী বাহিনী। রাজ্যের মন্ত্রী সবং’র তৃণমূল বিধায়ক মানস ভূঁইয়ার বাইক বাহিনী তান্ডবে ভগৎ সিং এর প্রতিকৃতি সহ স্বাধীনতা সংগ্রামী সবং এর ভূমি পুত্র শহিদ অনাথবন্ধু পাঁজার প্রতিকৃতিও রেহাই পায়নি আগুনের হাত থেকে।
পশ্চিমমেদিনীপুর জেলার ছাত্র যুব সংগঠনের ডাকে নওজোয়ান শতবর্ষে স্বাধীনতা সংগ্রামী অনাথবন্ধু পাঁজার ভিটা (জলবিন্দু, সবং) থেকে নগেন্দ্রনাথ সেনের ভিটা (আলোককেন্দ্র, ডেবরা) পর্যন্ত দুইদিন ধরে নওজোয়ান যাত্রা কর্মসূচিতে তৃণমূল ও বিজপি আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। ইতি মধ্যে সবং ও ডেবরা এই দুই ব্লকের শতাধিক স্কুল সহ শতাধিক গঞ্জে প্রচার সভা, হ্যান্ডবিল প্রচার সহ অর্থ সংগ্রহে জনগনের বিপুল উৎসাহ সহ সহযোগিতা নজর কাড়ে। এই কর্মসূচির প্রচার কার্যত ঝড় তোলে জেলার বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকায়। আর এই কর্মসূচিতে যোগ দিতে দেখা যায় জেলার প্রান্তিক এলাকার অগণিত সাধারণ মানুষদের। ছাত্র যুব সংগঠনের প্রতি সাধারণ মানুষের এই আস্থা এবং বিশ্বাস দেখে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে তৃণমূলীরা। তারা বুঝতে পেরেছেন, রাজনৈতিক ভাবে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছেন তারা। এই রাজনৈতিক জমি হারানোর ভয়েই এই নির্লজ্জ হামলা তাদের বলে অভিমত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের।
স্বাধীনতা আন্দোলনের ঐতিহ্য ও মেদিনীপুর জেলার গৌরবময় ধারার উত্তরাধিকার হিসাবে এসএফআই, ডিওয়াইএফআই জাগ্রত রাখার সংকল্পে এমন কর্মসূচিকে বানচাল করতে প্রতিক্রিয়া শক্তি আজ ন্যাক্কার জনক কাজ করলেও সেই কর্মসূচি যথা সময়ে শুরু হবে।
এই জেলার স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে তিনজন অত্যাচারী ব্রিটিশ জেলাশাসক বার্জ, ডগলাস ও পেডি কে হত্যা করেছে নেতাজির হাতে তৈরি "বেঙ্গল ভলেন্টিয়ার্স’র সশস্ত্র সংগ্রামরত ছাত্র যুব ক্যাডাররা। তাদের মধ্যেই অন্যতম অনাথবন্ধু পাঁজা ১৯৩৩ সালের ২ সেপ্টেম্বর মাত্র ২১ বছর বয়সে ব্রিটিশ জেলাশাষক বার্জকে হত্যা করতে গিয়ে পাল্টা ব্রিটিশ পুলিশের গুলিতে শহীদ হন। আরেক বিপ্লবী ডেবরার 'গান্ধী' নামে পরিচিত নগেনচন্দ্র সেন অসহযোগ আন্দোলন, আইন অমান্য আন্দোলন, ভারত ছাড়ো আন্দোলনসহ একগুচ্ছ স্বাধীনতার সংগ্রামে তাঁর অকুতোভয় লড়াই এবং স্বাধীনতার পরেও সমাজ সংস্কারে প্রগতিশীল ভূমিকা পালন করেছেন।
১৯২৬ সালে ভগৎ সিংয়ের নেতৃত্বে লাহোরে তৈরি হয় একটি বিপ্লবী যুব সংগঠন ‘নওজোয়ান ভারত সভা’। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হলেন ভগৎ সিং, সভাপতি রামকৃষন। এছাড়াও সুকদেব, ভগবতী চরণ ভোরা, সাইফুদ্দিন কিচলু, মীর আব্দুল মজিদ, শারদুল সিং প্রমুখরা ছিলেন সংগঠনের সদস্য। এটি ছিল কার্যত গুপ্ত বিপ্লবী আন্দোলনের প্রকাশ্য মঞ্চ। ছোটো ছোটো সভা, বক্তৃতা, ইশতেহার বিলির মাধ্যমে সাম্রাজ্যবাদের বিরোধিতা ও বিপ্লববাদের প্রচার শুরু করলেন বিপ্লবীরা। নওজোয়ান ভারত সভার সদস্যরা বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে বিপ্লবী শহীদদের জীবনী ম্যাজিক লণ্ঠনের সাহায্যে দেখাতেন গ্রামের মানুষের চেতনা বৃদ্ধির জন্য। কেন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়তে হবে সে সম্পর্কে সচেতন করার কাজ করতেন। দ্রুত দিল্লি এবং অন্যান্য রাজ্যে প্রসার লাভ করে নওজোয়ান ভারত সভা। যার প্রধান লক্ষ্য ছিল ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে বিপ্লবী চেতনা জাগিয়ে তোলা, শ্রমিক ও কৃষকদের একত্রিত করা এবং সমাজতান্ত্রিক আদর্শ প্রচার করা। সেই ইতিহাসকে জাগ্রত রাখার শপথে সংগ্রামের হাতিয়ার করে এই নওজোয়ান যাত্রা। এই কর্মসূচি বানচাল করতেই তৃণমূল দুষ্কৃতীবাহিনী হামলা।
Comments :0