Election CEO

১৯ লক্ষ বিবেচনাধীন নিষ্পত্তির দাবি সিইও’র, তালিকা কবে প্রশ্ন সিপিআই(এম)’র

রাজ্য কলকাতা

সোমবার সিইও দপ্তরে কল্লোল মজুমদার ও পলাশ দাস।

সিইও মনোজ আগরওয়াল সঙ্গে সোমবার বৈঠকে বসেন সমস্ত রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা। এদিন সিপিআই(এম)'র তরফে বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর দুই সদস্য কল্লোল মজুমদার ও পলাশ দাস । 
বৈঠক শেষে এদিন কল্লোল মজুমদার বলেন, ৬০ লক্ষ বিবেচনাধীন মানুষের প্রসঙ্গে কথা হলে সিইও বলেছেন ৬০ লক্ষের মধ্যে ১৯ লক্ষ নিষ্পত্তি করা হয়েছে। তবে এই ১৯ লক্ষের মধ্যে যারা রয়েছেন তাঁদের মধ্যে ভোটার তালিকায় কত নাম থাকছে সে ব্যাপারে কিন্তু  কিছুই বলতে পারছেন না সিইও। পাশাপাশি সিইও দাবি করেছেন যে ভোটের আগে ৬০ লক্ষ ভোটারের নামের নিষ্পত্তি করে দিতে পারবেন বলে মনে করছেন। তবে সিইও’র এই দাবি নিয়ে আমাদের সন্দেহ রয়েছে। 


কল্লোল মজুমদার এবং পলাশ দাস বলেছেন যে বিবেচনাধীন ভোটারদের নাম নিষ্পত্তি হওয়ার পর সাপ্লিমেন্টারি তালিকা কবে বের হবে এই প্রশ্নও তোলা হয়েছে। সিইও এই প্রসঙ্গে বলেছেন যে আগামী সাত-আট দিনের মধ্যেই প্রথম তালিকা বের হবে। মোট তিনটি দফায় সাপ্লিমেন্টারি তালিকা বের হবে। 
সিইও’র দাবি, ৩০ মার্চের মধ্যে সব তালিকা প্রকাশ করা যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। এদিন বৈঠকে ছিলেন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত। 
সিপিআই(এম) নেতৃবৃন্দ বলেন, তবে সেই তালিকা থেকে যাঁদের নাম বাদ দেওয়া হবে তার কারণ উল্লেখ করা থাকবে কিনা সে নিয়ে কিন্তু এখনও কিছু জানানো হয়নি নির্বাচন কমিশনের তরফে। 
উল্লেখ্য, কমিশন ঘোষিত সূচি অনুযায়ী প্রথম দফার মনোনয়ন জমার শেষ দিন ৬ এপ্রিল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বিচারপতিদের যুক্ত করে বিবেচনাধীন নাম নিষ্পত্তি করার প্রক্রিয়া চলছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করেনি নির্বাচন কমিশন। বিপুল নাম বিবেচনাধীন রেখে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণা করে কমিশন। গত রবিবার, ১৫ মার্চ, সেই অবস্থাতেই রাজ্যের ভোট ঘোষণা করে দিয়েছে কমিশন। এভাবে ষাট লক্ষের বেশি নাম বিবেচনাধীন রেখে ভোট ঘোষণার প্রতিবাদ জানিয়েছে সিপিআই(এম)। কেবল ভোটাধিকার নয়, তালিকায় নাম নেই বলে অনেককে প্রার্থীও করা যাচ্ছে না। 
সিপিআই(এম) নেতৃবৃন্দ সিইও দপ্তরে বলেন, ৭ নম্বর ফর্ম দাখিল করে কেউ অভিযোগ করলেই ‘ভেরিফিকেশন’ না করে কোনও নাম যাতে বাদ না দেওয়া হয় সে বিষয়টিও তোলা হয়েছে। প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ গেলে আমরা রাস্তায় নেমে, আদালতে গিয়ে হলেও ব্যবস্থা নেব। 
এদিন পলাশ দাস বলেন, একদিকে বজ্রআঁটুনি দেওয়া পদক্ষেপ ঘোষণা করছেন। অন্যদিকে ৬০ লাখ  মানুষকে বিবেচনাধীন রেখে ভোটের ঘোষণা করে দিলেন। এইভাবে কাউকে বিবেচনাধীন রেখে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চলতে পারে না। সাধারণ মানুষের ভোটদানের অধিকার আছে। তা খর্ব হলে গণতন্ত্র চলছে বলা যায় না। 
৬০ লক্ষাধিক মানুষের নাম দেওয়া প্রসঙ্গে কথা হলে কথা হলে সর্বদলীয় বৈঠকে সিইও জানান যে আদালতের নির্দেশ মেনে কাজ হচ্ছে। 
দাস বলেন, বাদ দেওয়ার নির্দিষ্ট প্যাটার্ন আছে। একটি সম্প্রদায়, বিশেষ কয়েকটি গোষ্ঠীকে নির্দিষ্ট করা হলো। একথা বলতেই সিইও যেভাবে উত্তেজিত হয়ে পড়লেন, যে ভঙ্গিমায় কথা বললেন ধমকের সুরে, তখন তাঁকে রাজনৈতিক দলের লোক বলে মনে হচ্ছিল না। বিজেপি ছাড়া অন্য সব দলের প্রতিনিধিরা বলেছেন যে আমরা আপনার অধীন নই। আমরা রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি। 
দাস বলেন, বিবেচনাধীন নামের প্রসঙ্গে সিইও আদালতের যুক্তি দেন। পলাশ দাস বলেন, আদালতে এই মামলা যেত না যদি না কমিশন ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপান্সি’ চালু করত। আদালত তা আবিষ্কার করেনি, করেছে নির্বাচন কমিশন। আর পর্দার পিছনে বিজেপি-আরএসএস’র ভূমিকা আছে। আপনাকে নিশ্চিত করতে হবে সব মানুষের রায়ের ওপর দাঁড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার তৈরি হবে। সেই নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে। 
এই প্রসঙ্গে একই কথা বলেছেন কংগ্রেস এবং তৃণমূলের প্রতিনিধিরাও।  
তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে সর্বদলীয় বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন মন্ত্রী শশী পাঁজা। কংগ্রেসের তরফ থেকে সর্বদলীয় বৈঠকে অংশগ্রহণ করে আশুতোষ চ্যাটার্জি। তাঁরাও সিইও-র আচরণে ক্ষোভ জানান।

Comments :0

Login to leave a comment