Brinda Karat on Women's Rservation

মহিলা সংরক্ষণ চালু না হলে ধর্ণা সংসদের সামনে

জাতীয়

তিরুবনন্তপুরমে সেমিনারে সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির কর্মীদের সঙ্গে কথা বলছেন বৃন্দা কারাত।

আসন পুনর্বিন্যাসের সঙ্গে যুক্ত করে মহিলা সংরক্ষণকে আটকে রাখা চলবে না। কেন্দ্রের বিজেপি সরকার মনোভাব না বদলালে সংসদের সামনে ধর্ণায় বসবে বিভিন্ন মহিলা সংগঠন।
কেরালায় মহিলা সংরক্ষণ এবং আসন পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত সেমিনারে এই মর্মে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির কেরালা রাজ্য কমিটি আয়োজিত সেমিনারে প্রধান বক্তা ছিলেন মহিলা আন্দোলনের নেত্রী বৃন্দা কারাত। 
কারাত বলেছেন, বিজেপি ধারাবাহিকভাবে মহিলাদের আসন সংরক্ষণের প্রয়াসে অন্তর্ঘাত করেছে। মহিলারা সব দিকে এগিয়ে গেলেও রাজনীতিতে তার প্রতিফলন নেই। দেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে ২২ মহিলা সংসদে নির্বাচিত হন। তারপর থেকে প্রতি সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচিত মহিলা সাংসদ মাত্র ২.৮ শতাংশ হারে বেড়েছে। এই হারে এগলে ৫৪৩ আসনে এক তৃতীয়াংশ মহিলা প্রতিনিধির জন্য দেড়শো বছর লেগে যাবে।
কারাত বলেন, আরএসএস-বিজেপি তাদের দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই মহিলা সংরক্ষণকে আটকে রাখতে চায়। আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলেছিলেন যে মহিলারা সবাই বাইরে কাজ করতে বেরলে সংসার মাথায় উঠবে। অথচ আরেকদিকে স্টেট ব্যাঙ্কের সমীক্ষা দেখাচ্ছে যে মহিলারা ঘরের জন্য যে কাজ করেন তার মূল্য মোট জাতীয় উৎপাদনের ৬ শতাংশ। 
কারাত বলেন, কর্পোরেট নিয়ন্ত্রিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার কারণেও নির্বাচনে প্রতিনিধিত্ব কমছে মহিলা এবং নিম্নবিত্ত অংশের। 
কারাত বলেন, মহিলাদের আসন সংরক্ষণ সংক্রান্ত আলোচনা শুরুর সময় থেকে এই উদ্যোগকে বিজেপি নানাভাবে বিভ্রান্ত করে চলেছে। ২০১৯ সালে বিপুল গরিষ্ঠতা নিয়ে সরকারে ফিরে এলেও মহিলা বিল পাশ করায়নি। অন্য জনবিরোধী বিল যদিও তারা পাশ করিয়েছে। এরপর বিল পাশ হলে তা প্রয়োগের বেলায় জুড়ে দিয়েছে আসন পুনর্বিন্যাসের শর্ত। জুড়ে দেওয়া হয়েছে নতুন জনগণনা রিপোর্ট প্রকাশের শর্তও।
উল্লেখ্য, ২০২৩’র সেপ্টেম্বরেই নারী শক্তি বন্ধন অধিনিয়ম সর্বসম্মতিতে পাশ হয়ে যায় সংসদে। এই বিলেই বিধানসভা ও লোকসভায় মহিলাদের জন্য এক তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু তার সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয় জনগণনা এবং আসন পুনর্বিন্যাসের শর্তকে। কিন্তু এ বছর পুনর্বিন্যাসের জন্য একটি সংবিধান সংশোধনী বিল পেশ করে সরকার। মহিলাদের আসন সংরক্ষণের কথা বলা হলেও আসল উদ্দেশ্য ছিল উত্তর ভারতের রাজ্যগুলিতে আসনের সংখ্যা বাড়িয়ে নেওয়া। দুই তৃতীয়াংশ গরিষ্ঠতা না থাকায় এই সংবিধান সংশোধনী বিল হেরে যায়। 
সেমিনারে সিদ্ধান্ত হয়েছে সরকার মনোভাব না বদলালে ধর্ণা হবে সংসদের সামনে। সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির নেত্রী টিএন সীমা সভাপতিত্ব করেন সেমিনারে।

Comments :0

Login to leave a comment