- পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা ভোটের ফলপ্রকাশের পরে সোমবার যথারীতি নয়াদিল্লিতে দলের সদর দপ্তরে এসে বিজয়োল্লাসে মাতলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সহ বিজেপি নেতা, কর্মীরা। সঙ্গে ছিলেন অমিত শাহ, দলের সভাপতি নীতীন নবীন সহ অন্যরা। পশ্চিমবঙ্গে জয় নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বাস ছিল মোদী সহ অন্যদের। প্রধানমন্ত্রী সাদা পাঞ্জাবী এবং ধাক্কা পাড়ের কোরা ধুতি পরে ‘বাঙালি’ সেজে আসেন। দুই-একটা কথা তাঁর বহুচর্চিত বাংলাতেও বলেন। ভাষণে বাংলায় বিজেপি’র জয়কে ঐতিহাসিক, অভূতপূর্ব বলে বর্ণনা করেন। বাংলার মানুষ ভয়, তুষ্টিকরণ এবং হিংসাকে মূল থেকে উপড়ে ফেলেছেন বলে ভাষণে জানান। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি’র জয়ে শামাপ্রসাদের আত্মা শান্তি পেয়েছেন বলেও দাবি করেন। কিন্তু এদিন তাঁর বক্তব্যের মূল মতাদর্শগত আক্রমণের লক্ষ্য ছিল কমিউনিস্টরাই।
মোদী তাঁর ভাষণে কেরালায় সিপিআই(এম) নেতৃত্বাধীন এলডিএফ’র পরাজয়ের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘‘ভারতের রাজনীতিতে আজ আরও একটি পরিবর্তন হয়েছে। আজ দেশে একটিও রাজ্য নেই, যেখানে কমিউনিস্ট পার্টির সরকার আছে। একটাও নেই।’’ মোদী বলেন, ‘‘এটা শুধু একটা ক্ষমতার বদল নয়, ভাবনার বদল। এটা দেখায় বিকশিত হতে থাকা ভারত কোন দিশায় আগে চলতে চায়।’’ এখানেই না থেমে মোদী মাওবাদীদের প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন এক্ষেত্রে এবং তার সঙ্গে কংগ্রেসকে জুড়েছেন। মোদী বলেছেন, মাওবাদীরা জঙ্গল থেকে শেষ হয়ে কংগ্রেসে শিকড় গাঁড়ছে। কংগ্রেসের মধ্যে আরবান নকশালদের গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে।
মোদী এদিন তাঁর ভাষণের অনেকটাই পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে বলেছেন। কিন্তু তার মধ্যেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন তাদের মনোভাব। মোদী বলেছেন, আজ থেকে বাংলার ভবিষ্যতের এমন যাত্রা শুরু হলো উন্নয়ন এবং নতুন আশা পায়ে পা মিলিয়ে চলে। আমি আজ প্রতিটি বাংলাবাসীকে ভরসা দিচ্ছি তাদের উন্নয়নের স্বার্থে বিজেপি দিনরাত এক করে দেবে। বাংলায় এখন মহিলাদের সম্মান মিলবে। যুবরা রোজগার পাবে। পরিযায়ী হতে হবে না এবং অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধেও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে এদিন বাংলার সাংস্কৃতিক পরিসরেও জুড়তে চেয়েছেন। এই জয়ে নাকি বঙ্কিমচন্দ্রকে, যোগীরাজ অরবিন্দকেও শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বাঙলার মানুষ। এরপরে রবীন্দ্রনাথকেও টেনে এনেছেন মোদী। পঁচিশে বৈশাখ আসন্ন বলে উল্লেখ করে চিত্ত জেতা ভয় শূন্য, উচ্চ যেথা শিরের কথা টেনে বলেছেন বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ভয়মুক্ত বাতাবরণ তৈরি করে দেখাবে। এটা মোদীর গ্যারান্টি। তিনি স্লোগান দিয়ে বলেন, বদলা নয়, বদল হবে। শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জিকে নিয়েও বক্তৃতায় মোদী বেশ কিছুক্ষণ বলেছেন। পরিচিত ঢঙেই এক্ষেত্রে নিজেদের মন মত ইতিহাস গড়ে নিয়ে বলেছেন, ড. মুখার্জি পশ্চিমবাংলাকে ভারতের অংশ বানানোর জন্য বড় লড়াই করেছিলেন। তিনি যে সশক্ত এবং সমৃদ্ধ বাংলার স্বপ্ন দেখেছিলেন, যে স্বপ্ন অনেক দশক ধরে পূরণ করার অপেক্ষা করছিলেন, আজ বাংলার জনগণ বিজেপি’র কার্যকর্তাদের সেই কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন। আজ থেকে একটি নতুন অধ্যায় জুড়ে গেছে। আজ থেকে বাংলা ভয়মুক্ত হয়ে গেল। বিকাশের ভরসায় যুক্ত হয়ে গেল। মোদী এদিন দাবি করেছেন, বিরোধী দলগুলি মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশ করাতে দেননি বলেই নাকি মহিলারা তাদের হারিয়ে দিয়েছেন। কেরালা, তামিলনাডু, পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেস, কমিউনিস্ট, তৃণমূল সেই জন্যেই হেরেছে। এরপরে সামনে বছর একই কারণে সমাজবাদী পার্টিও হারবে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ এদিন বলেছেন, অনুপ্রবেশকারীদের পৃষ্ঠপোষকদের যোগ্য জবাব দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মানুষ। শাহ পশ্চিমবঙ্গবাসীকে প্রণাম জানিয়ে লিখেছেন, এই বিপুল জনাদেশ ভয়, তোষণ এবং অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষকদের বিরুদ্ধে বাংলার মানুষের জোরালো জবাব। প্রধানমন্ত্রী মোদীর প্রতি ভরসার জয় বলেও এক্সে লিখেছেন শাহ। এদিন মোদী আসার আগেই বিজয় সমাবেশে পৌঁছান অমিত শাহ। সেখানেও ভাষণে তিনি এই কথা বলেন।
Modi on Bengal Verdict
বিজয়োল্লাসে ঘোষণা মোদীর: দেশে আর কোনও কমিউনিস্ট সরকার নেই
×
Comments :0