বিশ্বের অর্ধেকের বেশি শিশু অন্তত তিনটি গুরুতর প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে আক্রান্ত। রাষ্ট্রসঙ্ঘের শিশু বিষয়ক বিভাগ ইউনিসেফ’র প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
আটটি প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের তালিকা করেছে ইউনিসেফ। খরা, উপকূলে বন্যা, নদীতে বন্যা, তাপপ্রবাহ, অত্যন্ত গরম, দাবানল এবং বালির ঝড়কে প্রাকৃতিক দুর্যোগের তালিকায় রাখা হয়েছে।
ইউনিসেফ জানাচ্ছে, বিশ্বের অর্ধেকের বেশি, সংখ্যায় একশো কোটি, ছাড়িয়ে শিশুরা তিন ধরনের বিপর্যয়ে আক্রান্ত। আর কোনও না কোনও রকমের বিপর্যয়ে সমস্যায় পড়ছে বিশ্বের প্রায় সব শিশু।
ইউনিসেফ মনে করিয়েছে যে শিল্পোন্নত দেশগুলিতেও শিশুরা নিরাপদ নয়। ইউরোপেও তাপপ্রবাহে বেশ কয়েক বছর ধরে জনজীবন বিপর্যস্ত হচ্ছে।
‘চিলড্রেন ক্লাইমেট রিস্ক রিপোর্ট’ জানাচ্ছে এশিয়া এবং আফ্রিকাতেই সবচেয়ে বেশি শিশু আক্রান্ত।
ইউনিসেফের সমীক্ষকরা পৌঁছেছিলেন পাপুয়া নিউগিনির প্রত্যন্ত অঞ্চলে। সেখানে এমনও এলাকা পেয়েছেন যেখানে শিশুদের সাঁতরে নদী পেরিয়ে স্কুলে যেতে হয়। নদীতে কুমির থাকলেও ঝুঁকি নিতে হয়। বছরখানেক আগে বন্যায় সেতু ভেসে গিয়েছিল। তারপর আর হয়নি নতুন সেতু।
এই গ্রামেরই এক কিশোরী লোরনার কথা জানানো হয়েছে প্রতিবেদনে। সে জানিয়েছে বড় হয়ে হতে চায় পাইলট অথবা শিক্ষক। পড়াশোনা করতে চায়। তাঁকে সাঁতরে পার হতে হয় নদী। ঋতুস্রাবের সময় বড়রা বারণ করেন নদীতে নামতে। কারণ সে সময়ে কুমির চলে আসার সম্ভাবনা বেশি।
ইউনিসেফের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ক্যাথরিন রাসেল বলেছেন, বিশ্ব উষ্ণায়ন ভবিষ্যতকে কিভাবে বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে এই প্রতিবেদন তার আরেক প্রমাণ।
প্রতিবেদনে ফের বলা হয়েছে, বিশ্ব উষ্ণায়নে দায়ী গ্যাস বাতাসে মেশা কমাতে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি এখনই।
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ৬ ধরনের বিপর্যয় সামলাতে হয় অন্তত ১ লক্ষ ২৩ হাজার শিশুকে। বার্মা, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে একাধিক বিপর্যয়ে আক্রান্ত শিশু যথেষ্ট বেশি।
UNICEF Climate Children
বিশ্বে ১০০ কোটি শিশু আক্রান্ত অন্তত তিন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে
ছবি সৌজন্যে ইউনিসেফ।
×
Comments :0