Md Salim

তৃণমূল নেই, দক্ষিণপন্থাকে মোকাবিলায় রাস্তায় আছে বামপন্থীরাই: সেলিম

রাজ্য জেলা

মেটিয়াব্রুজ বড়তলা রেললাইনে জনসভার একাংশ। ছবি ও ভিডিও: প্রিতম ঘোষ

পূজা বোস: মেটিয়াব্রুজ

লেফট-রাইট নয়। লেফটের (বামপন্থী) সঙ্গে সরাসরি লড়াই হবে রাইটের (দক্ষিণপন্থী)। মঙ্গলবার মেটিয়াব্রুজে সিপিআই(এম)’র ডাকে সভায় একথা বলেছেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। 
সেলিম বলেছেন ভোটার তালিকায় প্রকৃত সব ভোটদাতার নাম ফিরিয়ে আনতে যতদূর দরকার হবে লড়াই। তিনি বলেন, শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূলের ঝাণ্ডা নিয়ে বলছিল লাল রুমালও থাকবে না। আজ তৃণমূলের ঝাণ্ডা ধরার লোক নেই। কিন্তু বামপন্থীরা আছে।
উচ্ছেদের নামে গরিব মানুষদের রুটি রুজি কেড়ে নেওয়া, পেট্রোপণ্য সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্যবৃদ্ধি, সাম্প্রদায়িক রাজনীতির মাধ্যমে অস্থিরতার প্রতিবাদে সিপিআই(এম) মেটিয়াব্রুজ বড়তলা রেললাইনে বিশাল জনসমাবেশে হয়। 
এদিন জনসভায় অংশ নেন সিপিআই(এম) কলকাতা জেলা  সম্পাদক কল্লোল মজুমদার, সিপিআই(এম) নেতা মনিরুল ইসলামও। সভাপতিত্ব করেন  মেটিয়াব্রুজ এরিয়া কমিটির সম্পাদক শেখ মহম্মদ জামির। 
মহম্মদ সেলিম বলেন, ‘‘সরকার মনে করছে খেল খতম, পয়সা হজম। খেল খতম নয়। সুপ্রিম কোর্টে বা যেখানে যেতে হবে যাব, সবার ভোটাধিকার ফেরত দিতে হবে। যাদের ভোটার লিস্টে নাম থাকবে না তার সব অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।  পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে বাংলাদেশে। অমানবিক অবস্থা চলছে। দেশে গড়ার ক্ষেত্রে সবার সম্মিলিত অবদান আছে।’’ 
সেলিম বলেন, ‘‘ বামপন্থী আর দক্ষিণপন্থীর মধ্যে এটাই পার্থক্য যে দক্ষিণপন্থীরা ভাগ করে মানুষের অধিকার কেড়ে নিতে চায়। আর বামপন্থীরা অধিকার রক্ষার জন্য সবাইকে এক করার কথা বলি।’’ তিনি বলেন, ‘‘২৫ বছর ধরে আমরা বলেছি আরএস এস ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতে চায়, ফ্যাসিস্ট সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চায়। ওরা ধর্মকে রাজনীতির সঙ্গে মিলিয়ে দিল। আর আমরা বলছি ধর্ম আর রাজনীতি এক করবেন না।’’ 
তিনি বলেন, ‘‘আমরা বলেছিলাম তৃনমূলের জন্ম আমাদের সামনে হয়েছে, মৃত্যুও আমাদের সামনে হবে। কারণ, তৃনমূলের কোনও আদর্শ নেই । আরএসএস মমতাকে দুর্গা সাজিয়ে আর বামকে হার্মাদ সাজিয়ে লালঝান্ডা শেষ করতে নেমেছিল। লালঝান্ডা আছে, কিন্তু এখন তৃণমূলের একটা ঝান্ডাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।’’ তিনি বলেন, ‘‘সিপিআই(এম) বলেছিল চোর ধর জেল ভর। আর বিজেপি বলছে চোর দেখ আর নিজেদের ঝোলায় ভর।’’ 
সেলিম বলেন, ‘‘আসলে লড়াইটা হলো লুটে খাওয়ার বিরুদ্ধে খেটে খাওয়ার লড়াই। লুটে খাওয়ার একটা সরকার গিয়েছে আরেকটা এসেছে। ওরা চায় না গরিব মানুষের খুচরো ব্যবসা থাকুক। কারন তাহলে আদানি-আম্বানির ব্যবসা হবে কি করে।’’ তিনি বলেন, ‘‘এতোদিন লেফট রাইট হয়েছে, এখন লেফট বনাম রাইট হয়েছে। এতদিন একটা ছায়া ছিল, এখন তা সরে গিয়েছে , এবার সরাসরি লড়াই হবে।’’

বক্তব্য রাখছেন মহম্মদ সেলিম।

কল্লোল মজুমদার বলেন, ‘‘মেটিয়াব্রুজ মহেশতলার মানুষ আমাদের জানিয়েছিলেন বর্তমান সময়ে সিপিআই(এম)-র একটা জনসভা করতে। আগের নির্বাচনের সময় বামপন্থীদের উপর অত্যাচার হয়েছে, ভাঙচুর করা হয়েছে পার্টি অফিস। সরকারে থাকুক আর না থাকুক বামপন্থীরা য়ারা মেরে খায় তাদের পক্ষে নয়, যারা খেটে খায় তাদের পক্ষে আছে।’’
তিনি বলেন, ‘‘বিজেপির ভরপাই করার কাজ করেছে নির্বাচন কমিশন। মনোজ আগরওয়াল হয়েছে এখন শুভেন্দুর সচিব। নিরপেক্ষ হওয়ার কথা ছিল কিন্তু রাজ্যপাল, নির্বাচন কমিশনের। কিন্তু তাদেরকে রাজনীতিতে টানা হচ্ছে। সংসদীয় কাঠামো, আইন ধ্বংস করছে। রেড রোডে নামাজ পড়া যাবে না, কিন্তু যোগ দিবসের জন্য প্রধানমন্ত্রী আসবে, আজ থেকেই মহড়া শুরু হয়ে গিয়েছে। তার জন্য সমস্যায় পড়ছে সাধারণ মানুষ।’’ 
তিনি বলেন, ‘‘পুনর্বাসন না দিয়ে এই উচ্ছেদ চলবে কেন? এদের রুটি- রুজির কি হবে - সরকারের কোন দায়িত্ব নেই। আমরা ডেপুটেশন দিয়েছি, প্রতিবাদ করেছি, দরকার হলে কর্পোরেশনে জানাবো, শুভেন্দু অধিকারী কাছে যাবো, দরকার হলে কোর্টে যাব।’’
মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘‘নরম হিন্দুত্ববাদ শুরু করেছিল তৃনমূল নেত্রী। আর এই বিজেপি বড়লোকের পার্টি, তাই সরকারে আসার পরে তারা গরিব মানুষের উপর বুলডোজার চালিয়েছেন। তার প্রতিবাদ করছি আমরা বামপন্থীরা, পথে নেমে আন্দোলন করছি।’’

Comments :0

Login to leave a comment