ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো ছোঁয়াচে রোগের তথ্য সদস্য দেশের সঙ্গে বিনিময় করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এমন বিভিন্ন রোগ বা স্বাস্থ্য প্রবণতা বিষয়ক তথ্য ভাণ্ডার বিশ্লেষণ করে। আমেরিকার বিজ্ঞানীরা সেই তথ্য ঘেঁটে দেখার সুযোগ এরপর পাবেন না।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে আমেরিকার সরে যাওয়ার সিদ্ধান্তে এমন প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে বিশেষজ্ঞদের বিভিন্ন অংশ।
আমেরিকার থেকে বার্ষিক সদস্যপদ বাবদ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ‘হু’-র প্রাপ্য প্রায় ২৬০ মিলিয়ন ডলার, টাকার অঙ্কে যার মূল্য ২ হাজার ৪০০ কোটি। তবে বকেয়া মেটানোর তোয়াক্কা করছে না ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন।
গত ২০ জানুয়ারি আমেরিকা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সদস্য পদ ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। বস্তুত আন্তর্জাতিক মঞ্চ হিসেবে স্বীকৃত বিভিন্ন সংস্থা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। ওয়াশিংটনে স্বাস্থ্য সচিব রবার্ট এফ কেনেডি এবং বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও দায়ী করেছেন ‘হু’-কেই।
আমেরিকার বক্তব্য, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক রাখা হবে। বিভিন্ন জীবাণু এবং রোগ সংক্রান্ত তথ্য বিনিময় হবে তার মাধ্যমে। ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য, হু-কে টাকা না দিয়ে সেই অর্থ খরচ করা হবে আমেরিকার জনগণের জন্য। আমেরিকা সব ক্ষেত্রেই আন্তর্জাতিক আইন বা বিধি ভেঙে আলাদা করে বিভিন্ন দেশের ওপর কর্তৃত্ব রাখার নীতি নিয়েছে।
কোভিড মহামারীর সময়েই ‘হু‘-র ডিরেক্টর জেনারেল টেড্রস আধনম গেব্রেয়েসুসের সঙ্গে বিবাদ বাঁধে ট্রাম্প প্রশাসনের। সে সময় প্রথম দফায় রাষ্ট্রপতি পদে আসীন ছিলেন ট্রাম্প। মহামারীর জন্য চীনকে দায়ী করা প্রচারে সায় দেননি হু-র বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছে, ‘হু’ আমেরিকার থেকে বার্ষিক যে অনুদান পেত তা হারাবে। তার ফল পড়বে নিম্ন আয়ের দেশগুলিতে চালু বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ কর্মসূচিতে।
কিন্তু আমেরিকার ছোঁয়াচে রোগ সংক্রান্ত বিশেষ প্রতিষ্ঠান আইডিএসএ’র ডঃ জেনে মারাজ্জো বলছেন, রোগ সংক্রান্ত তথ্য দেওয়া-নেওয়ার সুযোগ কেবল আমরা হারাবো না। আন্তর্জাতিক স্তরে বিভিন্ন গবেষণার সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ার সুযোগও হারাতে হবে।
আমেরিকা ভিত্তিক বিভিন্ন ওষুধ এবং টিকা নির্মাতা সংস্থার সমস্যা হতে পারে মনে করা হচ্ছে। কী ধরনের টিকার গবেষণায় বিনিয়োগ জরুরি, তথ্য বিনিময় না হলে তা বুঝতে সমস্যা হতে পারে।
‘টাইম’ ম্যাগাজিনকে মারাজ্জো বলেছেন, রোগ প্রতিরোধ অনেকটা দাবানল ঠেকানোর মতো। আগে থেকে বুঝতে না পারলে সমস্যা। কিন্তু কোন ধরনের নিউমোনিয়া ছড়াচ্ছে কোথায়, সে তথ্য না পেলে আগাম সতর্কতা থাকবে কিভাবে।
WHO USA
‘হু‘-বিচ্ছেদে সমস্যা হবে রোগ প্রতিরোধেও, বলছেন মার্কিন বিশেষজ্ঞরা
×
Comments :0