অনিল কুন্ডু
বাংলা বাঁচাও। তৃণমূল, বিজেপির হাত থেকে বাংলাকে বাঁচাতে ও মানুষের ভোটাধিকার রক্ষা করার দাবিতে লাল ঝান্ডার দীর্ঘ মিছিল হল দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায়। সিপিআই(এম) দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা কমিটির আহ্বানে রবিবার সকালে বারুইপুর ও মহেশতলায় মোটর বাইক মিছিল হয়। বারুইপুরের ফুলতলার কাছে সাগর সংঘ’র মাঠ থেকে এই মিছিলের সূচনা করেন সিপিআই(এম) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী ও পার্টির জেলা সম্পাদক রতন বাগচী। মহেশতলার শম্পামির্জা নগর আবাসন থেকে অপর একটি বাইক মিছিলের সূচনা করেন পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শমীক লাহিড়ী।
এসআইআর শুনানির নামে বৈধ ভোটারদের হয়রানির বিরুদ্ধে ও ভুয়ো-মৃত ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার দাবিতে, দুর্নীতি চাপা দিতে তৃণমূল-বিজেপি’র সেটিংয়ের বিরুদ্ধে শ্লোগানকে সামনে রেখে দীর্ঘপথ পরিক্রমা করে এদিনের দুটি মিছিল।
গোটা রাস্তা যেনো লালে লাল। বারুইপুরের মোটর বাইক মিছিল ফুলতলা, পুরনো বাজার, রেলগেট পেরিয়ে পদ্মপুকুর মোড়, রাজপুর ফাঁড়ির মোড় হয়ে সোনারপুর, কামালগাজি, গড়িয়া মোড়, গাঙ্গুলিবাগান, যাদবপুর সুকান্ত সেতু, সন্তোষপুর হয়ে মুকুন্দপুর ই এম বাইপাসে পরিক্রমা করে। এই মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন সুজন চক্রবর্তী ও রতন বাগচী। মিছিলের সূচনা থেকে উপস্থিত ছিলেন পার্টি নেতা রাহুল ঘোষসহ অন্যান্য নেতৃত্ব।
অপরদিকে মহেশতলার শম্পা মির্জানগর আবাসন থেকে বজবজ চৌরাস্তা হয়ে প্রায় ১২ কিলোমিটার পথ পরিক্রমা করে বাইক মিছিল। উপস্থিত ছিলেন প্রভাত চৌধুরীসহ অন্যান্য নেতৃত্ব।
রাস্তার দু’ ধারে দাঁড়িয়ে পড়েন স্থানীয় মানুষ,পথচলতি সাধারণ মানুষেরা। চওড়া রাস্তা জুড়ে মোটর বাইকের দীর্ঘসারি ধীরে ধীরে ক্রমশ এগিয়ে চলেছে সমুখপানে। রবিবারের সকালে থলে হাতে বাজার করতে আসা মানুষেরা লাল ঝান্ডার মিছিল দেখে হাসি মুখে রাস্তার দুধারে দাঁড়িয়ে পড়েছেন। পুরনো বাজার কিংবা কাছারি বাজারের কাছে দাঁড়িয়ে পড়া মনসুর মোল্লা, সুনীল দাসরা লাল ঝান্ডার দীর্ঘ বাইক মিছিল দেখে যেনো ভরসা পেলেন। তাঁদের চোখে মুখে খুশির অভিব্যক্তি ফুটে উঠেছে। সামনে থাকা মোটর বাইকের সওয়ারি সুজন চক্রবর্তী, রতন বাগচীদের দেখে হাত নাড়লেন। তাঁদের কথায়, বামেদের আবার ফিরে আসা দরকার। তা নাহলে এরাজ্য আর বাঁচবে না। রাজ্য না বাঁচলে মানুষ বাঁচবে না। মানুষের দাবি নিয়ে রাস্তায় বামপন্থীরাই লড়াই করছে।
কাছারি বাজারে রাস্তার ধারে বাগানের পেয়ারা ঝুঁড়িতে নিয়ে বিক্রি করছিলেন আলম পেয়াদা। লালঝান্ডার মিছিল দেখে খুশিতে তিনি দাঁড়িয়ে পড়লেন। তাঁর কথায়, চোর, লুটেরাদের হটাতে পারে লাল ঝান্ডা। ষাটোর্ধ্ব আলম পিয়াদা ক্ষোভের সঙ্গে বললেন, এতকাল ভোট দিয়েছি কোন সমস্যা হয়নি। এখন শুনানিতে ডেকে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত করছে। মানুষকে হয়রান করছে। তৃণমূলের নেতা, মন্ত্রীরা চুরি করেও ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে। পাল্টা ছুঁড়ে তিনি বললেন, তৃণমূল-বিজেপির সেটিং না থাকলে দুর্নীতিগ্রস্ত তৃণমূলের নেতা, মন্ত্রীরা ছাড়া পায় কি করে। তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অটো চালক যুবক সুফল মন্ডল তাঁর কথায় ঘাড় নাড়লেন। বললেন, কাকা সব সেটিং। মানুষ কিভাবে বাঁচবে, কি করে খাবে সে সব নিয়ে তৃণমূল- বিজেপি নেতাদের মুখে কোন কথা নেই। শিল্প কলকারখানা ওরা চায় না। ওরা মন্দির, মসজিদ করছে। মানুষের মধ্যে ভাগ করে ভোট ছিনিয়ে নিতে চায়। মানুষ মরে মরুক। ওরা তো লুটে নিয়েছে। এই লাল পার্টিই ভালো ছিল। বাংলা ও বাংলার মানুষকে বাঁচানোর আহ্বান জানিয়ে মিছিল এগিয়ে চলেছে পদ্মপুকুর অভিমুখে। এই ছবি ছিল এদিন মহেশতলা-বজবজ এলাকাতেও। বহু যুবক এদিনের মোটর বাইক মিছিলে অংশগ্রহণ করেছেন।
Comments :0