CPI-M Kolkata

কলকাতায় কাল দুই কেন্দ্রীয় মিছিল সিপিআই(এম)’র, চলছে প্রচার

কলকাতা

ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধে জনজীবনের সমস্যা লাঘবের দাবি নিয়ে বুধবার কলকাতায় দু’টি বড় মিছিল করতে চলেছে সিপিআই(এম) কলকাতা জেলা কমিটি। একটি মিছিল যাদবপুর এইট-বি বাসস্ট্যান্ড থেকে টালিগঞ্জ ফাঁড়ি পর্যন্ত যাবে। অপরটি সুবোধ মল্লিক স্কোয়ার থেকে শ্যামবাজার পর্যন্ত পথ হাঁটবে।  মঙ্গলবার এই দুই মিছিলের প্রস্তুতি সম্পর্কে সিপিআই(এম) কলকাতা জেলা সম্পাদক কল্লোল মজুমদার বলেছেন, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গার মতো শহর কলকাতাতেও তৃণমূল-বিজেপি মানুষের মুল সমস্যা সংকটের বিষয়গুলো  আড়াল করে ধর্মীয় বিভাজন ও  হিংসার রাজনীতি ছড়াচ্ছে। দেশে এই বিভাজনের রাজনীতি চালাচ্ছে বিজেপি। তাই আমরা এই বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধে গণপরিবহণ, বিদ্যুৎ, ওষুধ সহ প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কমানোর দাবি তোলা হবে। এসআইআর’র নামে সাধারণ মানুষকে চরম হয়রানি করার প্রতিবাদ জানানো হবে দুই মিছিলেই। ন্যূনতম মজুরি, কাজের নিরপত্তা, শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থ বিরোধী শ্রমকোড বাতিলের দাবি নিয়ে কলকাতায় এই দুটি কেন্দ্রীয় মিছিল হবে। 
মজুমদার বলেন, ইতোমধ্যে এই বিষয়গুলো নিয়ে কলকাতা জুড়ে এলাকায় এলাকায় বাজারসভা, পথসভা মিটিং, মিছিল থেকে নানা কর্মসূচি সংগঠিত হয়েছে। তা নিয়ে কলকাতা জুড়ে ধারাবাহিক প্রতিবাদ কর্মসূচি চলবে বলে জানিয়েছেন তিনি। 
রাজ্যে গত ১৫ বছরে গণ পরিবহনের ভাড়া অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। কোভিড পরিস্থিতির পর তা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে কর্মস্থল থেকে বিভিন্ন জায়গায় যাওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের রোজগারের একটা বড় অংশই যাতায়াত বাবদ খরচ হয়ে যাচ্ছে। সরকারি পরিবহণ প্রায় উবে গিয়েছে। এনিয়ে চরম বিপাকে মানুষ। আবার পরিবহণ জ্বালানি, গ্যাসের খরচ এতটাই লাফিয়ে বেড়েছে যে বেসরকারি বাস, ট্যাক্সি, অটো থেকে যানবাহন চালাতে চরম সমস্যায় যানবাহনের মালিক ও চালকরা। কিন্তু রাজ্যের তৃণমূল সরকার সেস বাবদ ছাড় দিয়ে মালিক পক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসে একটা সুরাহার পথে যাচ্ছে না। 
সিপিআই(এম) নেতৃবৃন্দ বলছেন, বিদ্যুৎ, ওষুধ থেকে প্রতিদিনকার প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম যেভাবে লাফিয়ে বাড়ছে তাতে গরীব নিম্ন মধ্যবিত্তের জীবন ধারনই কষ্টকর হয়ে উঠেছে। অথচ সঠিক মজুরি মিলছে না। স্থায়ী কাজ কার্যত এরাজ্যে উঠে যেতে বসেছে। সরকারি দপ্তরে লাখ লাখ শূন্যপদ থাকলেও নিয়োগ নেই। যদিও কিছু ক্ষেত্রে হচ্ছে সেখানেও  ব্যাপক দুর্নীতি হচ্ছে। যখন তখন ছাঁটাই, শো-কজ হতে হচ্ছে। যৌথ দর কষাকষির মধ্য দিয়ে যে অধিকার আদায়ের বিষয়টি তাও রাখতে চাইছে না। শ্রমকোডের মতো আইন এনে শ্রমজীবীর অধিকার কেড়ে নিচ্ছে। এই বিষয়গুলোকেই তুলে ধরা হচ্ছে প্রচারে।

Comments :0

Login to leave a comment