নাজিরাবাদের গুদামে বিধ্বংসী অগ্নিকান্ডের ঘটনায় লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। ভস্মীভূত গুদামের ধ্বংসস্তুপ থেকে মোট ২৫ জনের দগ্ধ দেহের কঙ্কাল উদ্ধার হয়েছে। বুধবার ৩ জনের দেহাংশ উদ্ধার হয়। বৃহস্পতিবার আরও চারজনের দেহের কঙ্কাল উদ্ধার করেন দমকল কর্মীরা। বুধবার রাত প্রর্যন্ত ভস্মীভূত গুদামের ধ্বংসস্তুপ থেকে মোট ১৯ জনের দগ্ধ দেহের কঙ্কাল উদ্ধার হয়। বৃহস্পতিবার সকালে দমকল সূত্র জানায় আরও দুই জনের দগ্ধ দেহের কঙ্কাল উদ্ধার হয়েছে। বিকেলেই আরও চারজনের দগ্ধ দেহের কঙ্কাল উদ্ধার হয়েছে বলে খবর। নাজিরাবাদের অগ্নিকাণ্ডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২৫। এখনও শুধু মাত্র পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তমলুক, ময়না, পাঁশকুড়া, নন্দকুমার, মারিশদা, সুতাহাটার ২৩জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজের সংখ্যা অনেক বলেই অনুমান করা হচ্ছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে সেই আশঙ্কাও রয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে নরেন্দ্রপুর থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া দেহগুলি শনাক্ত করা যায়নি। পুলিশ সূত্রে খবর, ১৬ জনের ডিএনএ টেস্ট করতে পাঠানো হয়েছে। এদিন উদ্ধার হওয়া দেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে শুক্রবার। পুলিশ সূত্রে খবর এদিন উদ্ধার হওয়া দেহগুলির মধ্যে মোমো প্রস্তুতকারী সংস্থার এক কর্মীর দেহ এদিন উদ্ধার হয়েছে। ওই কর্মীর দেহের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছে তাঁকে শনাক্ত করা গিয়েছে তাঁর পরনের বস্ত্র দেখে দাবি করছে প্রশাসন। যদিও মৃত শ্রমিকদের দেহাংশ কাউকেই দেখানো হয়নি। ওই শ্রমিকের পরিবারকেও না। নাজিরাবাদের গুদামে বিধ্বংসী অগ্নিকান্ডের ঘটনায় শুধুই হতাশা-শোক-কান্না, কাছের মানুষগুলিকে দেখতে পাওয়ার আশায় অপেক্ষা করছে বহু পরিবার। ঘটনার পর কেটে গিয়েছে চারটে দিন। তবু সন্ধান মেলেনি অনেকের। উৎকন্ঠায় দিন কাটছে পরিবারের। পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন স্বজন হারানো শোকস্তব্ধ মানুষেরা। অভিযোগ ওঠে, ধ্বংসস্তুপ থেকে খাবারের প্যাকেটে মৃতদের দেহাংশ পাচার করা হয়েছে। স্বজন হারানোর শোক আর একদিকে দগ্ধ দেহাংশ পাচারের অভিযোগ তুলে কার্যত ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মৃত ও নিখোঁজ শ্রমিকদের পরিবার পরিজনেরা। উদ্ধার করা দগ্ধ দেহাংশ শনাক্ত করতে মৃত ও নিখোঁজদের পরিবার পরিজনদের বারুইপুর হাসপাতালে ডিএনএ পরীক্ষা করা হয় বলে জানা গিয়েছে।
Anandapur Fire
নাজিরাবাদে অগ্নিকান্ডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৫
×
Comments :0