এসআইআর’এ বিরক্ত মানুষ। শুনানির গেরোয় নাজেহাল কয়েক লক্ষ মানুষ। স্বাভাবিক ক্ষোভ তুঙ্গে চড়েছে মানুষের। হেনস্তা, হয়রানির সাথে অস্বচ্ছতারও সমার্থক হয়ে উঠেছে এসআইআর! এসআইআর’র নামে নিত্যদিন ভোগান্তি এবং শুনানির নামে হেনস্তা করা হচ্ছে। তারই প্রতিবাদে লক্ষ লক্ষ মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে। এসআইআর শুনানিতে বিরক্ত হয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে ট্রাঙ্ক মাথায় নিয়ে এসআইআর শুনানি লাইনে দাঁড়ালেন ৭১ বছরের বৃদ্ধ শেখ জাফর আলি। শুধু নিনি নয় তাঁর সঙ্গে এলেন পরিবারের আরও ৬ জন। ঘটনাটি ঘাটাল বিডিও দপ্তরের শুনানি কেন্দ্রে। ঘাটাল ব্লকের অজবনগর ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৮৭ নম্বর বুথের ভোটার শেখ জাফর আলি।
দাসপুর বিধানসভা কেন্দ্রে হঠাৎ করে ২৮ হাজার ভোটারকে শুনানির নোটশ ধরানো হয়েছে। যেখানে পরিযায়ী পরিবারের সংখ্যা প্রতি বুথে ৫০ থেকে ২৫০ জন। দাসপুর ২ ব্লকের সাহাচক গ্রামপঞ্চায়েত এলাকার ঘনশ্যামবাটি বুথে ৯১৭ জন ভোটারের ৪৭০ জনকে শুনানির নোটিশ ধরানো হয়েছে। কুলটিকরী গ্রামে ৫ টি বুথ রয়েছে। প্রতি বুথে ভোটার সর্বনিম্ন ৯৫০ এবং সর্বোচ্চ ১ হাজার ১৪৬। এখানে প্রতিটি বুথে ৩০০ জন থেকে ৭৫০ জনকে শুনানির নোটিশ ধরানো হয়েছে। জেলার ১৫ টি বিধানসভা কেন্দ্রের ২৪ হাজার থেকে ৩১ হাজার ভোটারকে শুনানির নামে নোটিশ ধরিয়ে হেনস্তা করার পদক্ষেপ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন এমনই অভিযোগ করেছেন শুনানি পাওয়া ভোটাররা। শুনানির নামে হেনস্তা এমনটাই দাবি করে সারা শরীরে একাধিক নথি ঝুলিয়ে শুনানি কেন্দ্রে এলেন জাফর আলি। ট্রাঙ্ক মাথায় নিয়ে এসআইআর শুনানি লাইনে ৭১ বছরের জাফর আলি। শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ঝুলছে একাধিক পরিচয়পত্র থেকে শুনানির নোটিশ, রয়েছে ব্রিটিশ সময়ের সম্পত্তির দলিল। নীরব প্রতিবাদে নীরব ছিলেন শুনানি কেন্দ্রের আধিকারিকরা।
বিডিও দপ্তরে বহু মানুষের ভিড়।
জাফর আলির বক্তব্য, ‘‘শুধু এবার নয় আগেও তাঁর ভাইয়ের পরিবার সহ নিজের ছেলে বউমা মিলিয়ে আট জনকে নোটিশ দেয় নির্বাচন কমিশন। ছেলে ভিন রাজ্যে কাজ করে। নিজে ফেরির কাজ করেন। কাজে না গেলে রুটি রুজি বন্ধ হয়ে যায়। বার বার তাদের শুনানির নোটিশ দেওয়ার কারণে যেমন হায়ারানি হতে হচ্ছে তেমন রুটি রুজিও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আমি পড়াশোনা জানি না বাবু তাই আমার পরিবারের সমস্ত নথি ট্রাঙ্ক ভর্তি করে বিডিও অফিসে এসেছি। অফিসারেরা প্রয়োজনীয় নথি এখান থেকেই দেখে নিতে পারবেন।’’
ঘাটাল বিডিও দপ্তরের শুনানি কেন্দ্রে গত এক সপ্তাহে নতুন করে কোনো কোনো বুথে ৫০ শতাংশ ভোটারকে শুনানির নোটিশ ধরানো হয়েছে। বিডিও দপ্তরে বহু মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনাও ঘটছে। ২৫ থেকে ৩৫ কিমি দূরের গ্রাম থেকে বয়স্ক মানুষকে আতংক নিয়ে আসতে হয়েছে। ঘাটাল, চন্দ্রকোনা, গড়বেতা, দাসপুর সহ প্রতিটি ব্লকে গত এক সপ্তাহে প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে আরও ১২ থেকে ১৬ হাজার ভোটারকে নোটিশ ধরানো হয়েছে। যদিও নথি ভর্তি ট্রাঙ্ক মাথায় নিয়ে বিডিও দপ্তরে হাজির হলে আধিকারীকরা নীরব ছিলেন। কিন্তু পুলিশের ধমক শুনতে হয়েছে জাফর আলিকে।
Comments :0