DYFI KOLKATA

কর্মীর অভাব, সুরক্ষার অভাব যাত্রীদের, মেট্রো রেল ভবনে বিক্ষোভ যুবদের

কলকাতা

মেট্রো স্থায়ী কর্মী নিয়োগ, যাত্রীদের রোজগার হেনস্তা ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে কলকাতার মেট্রো রেল ভবনে ডেপুটেশন দিল ডিওয়াইএফআই। পার্ক স্ট্রিট মেট্রো থেকে মিছিল করে মেট্রো ভবনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচিও করে সংগঠন। যদি মেট্রো কর্তৃপক্ষ তাদের আবেদন না মানেন ভবিষ্যতে মেট্রো যাত্রীদের নিয়ে ফের মেট্রো ভবন অভিযানের হুশিয়ারিও দিয়েছে তারা। 
শুক্রবার মেট্রো ভবনের বাইরে বিক্ষোভ সভা সংঘটিত হয়। পাঁচজনের প্রতিনিধি দল মেট্রোরেল ভবনে ডেপুটেশন জমা দেন। প্রতিনিধি দলে ছিলেন শ্রীজীব গোস্বামী, সোহম মুখার্জি, দীপক সিংহ, অন্বেষা ভৌমিক ও আতিফ নিশার। 
ডিওয়াইএফআই কলকাতা জেলা সম্পাদক শ্রীজীব গোস্বামী বলেন, "ডিওয়াইএফআই কলকাতা জেলা কমিটির পক্ষ থেকে মেট্রো রেলের কর্তৃপক্ষের কাছে মেট্রো নিয়ে গোটা কলকাতার মানুষ যে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন তা বলতে এসেছি। মেট্রো রেল চালানোর জন্য যে সংখ্যক কর্মী ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কর্মীদের স্থায়ী নিয়োগের জন্য মেট্রো রেল যে ভূমিকা নিয়েছিল তার থেকে বর্তমানে হাত গুটিয়ে নিয়েছে। এর ফলে যাত্রী সুরক্ষা প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে। কলকাতার গতিশীলতা কমছে। মেট্রোর অব্যবস্থা রোজ বেআব্রু করছে। কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মসংস্থান নিয়েও কোনও পরিকল্পনা নেই তা মেট্রো রেল দেখলেই বোঝা যায়। বর্তমানে মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষের কাছে আমরা আবেদন করছি যদি আবেদনে কাজ না হয় ভবিষ্যতে সমস্ত যাত্রীদেরকে একত্রিত করে যুবরা এই মেট্রো রেলের কাছে জবাব চাইতে ফের আসবে।"


ডিওয়াইএফআই কলকাতা জেলা সভাপতি সোহম মুখার্জি বলেন, " যাত্রী নিরাপত্তা নেই মেট্রোয়। আরপিএফ নিয়োগ হয় না। সিভিক পুলিশ দিয়ে কাজ চালানোর হয় কলকাতা মেট্রোতে। এছাড়াও যাত্রীদের প্রতিদিন হয়রানি হতে হচ্ছে। টিকিটের বিরাট লাইন। সময় লেগে যাচ্ছে প্রায় ১৫ মিনিট। সবকটি কাউন্টার খোলা থাকে না। এর প্রধান কারণ হচ্ছে ব্লু লাইন থেকে কর্মী নিয়ে গিয়ে অন্যান্য লাইনে তাদেরকে দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। ফলে কমছে কর্মী সংখ্যা। কলকাতায় অনেকগুলি মেট্রো লাইন চালু হয়েছে সেই লাইনগুলিতে শূন্যপদে স্থায়ী নিয়োগ করতে হবে। নতুন শূন্য পদে তৈরি করে এই কলকাতার বেকার যুবদের কাজের বন্দোবস্ত করতে হবে। পরিষেবা সংক্রান্ত সমস্ত সমস্যা কমাতে হবে। অবসর হলেও সেই জায়গায় নতুন স্থায়ী কর্মী নিয়োগ হচ্ছে না। যতই একাধিক মেট্রো লাইন চালু হোক না কেনো পরিষেবায় গলদ থেকেই যাবে।"
তিনি আরও বলেন, “কবি সুভাষ মেট্রোর ফাটল ধরার কারণ কী? কেনো এতো তাড়াতাড়ি ফাটল দেখা গেলো। মেট্রো ইঞ্জিনিয়ারদের কথা না শুনে কেন তড়িঘড়ি মেট্রো উদ্বোধন করেছিলেন মমতা ব্যানার্জি। ভেঙে পড়ার দায়িত্ব কার তার জবাব মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষকে দিতে হবে। এছাড়া শিয়ালদ থেকে ধর্মতলায় মেট্রো যাওয়ার রাস্তায় বউবাজারের দুর্গা পিতুরি লেনে একাধিক বাড়ি ভেঙে পড়ে। বর্তমানে সেইখানে মেট্রো চলাচল করলেও বহু বাড়ি কাঁপছে। পরিষেবা ও সুরক্ষার ক্ষেত্রে মেট্রোরেল কেন ব্যবস্থা করছে না। এই দাবি গুলি নিয়ে আমরা যে ডেপুটেশন দেবো এবং তাদের সঙ্গে কথা বলব।”

Comments :0

Login to leave a comment