BLO DEATH

ফের রাজ্যে আত্মঘাতী বিএলও

রাজ্য জেলা

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনীর (এসআইআর) কাজ করতে গিয়ে গত ২৯ দিসেম্বর পর্যন্ত ৩৩ জন বুথ স্তরের কর্মীর (বিএলও) মৃত্যু হয়েছে।  শুক্রবার রাজ্যের আরও বিএলও’র মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তিস্তায় ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী বিএলও। মৃতের বিএলও’র নাম শ্রবণ কুমার কাহার(৪৬)। পেশায় শিক্ষক। এসআইআর’র দায়িত্ব ছিল তাঁর। শিলিগুড়িতে সেবকের করোনেশন সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। পরিবারের অভিযোগ, অতিরিক্ত কাজের চাপেই তিস্তায় ঝাঁপ দিয়ে আত্মহননের পথ বেছে নেন তিনি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিলিগুড়িতে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শিলিগুড়ি ১ নম্বর ওয়ার্ডের ধর্মনগর এলাকার বাসিন্দা ও পেশায় খালপাড়া হিন্দি প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক ছিলেন শ্রবণ কুমার কাহার। 
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেল প্রায় চারটা নাগাদ সেবকের করোনেশন সেতু থেকে তিস্তা নদীতে ঝাঁপ দিলেও জল কম থাকায় দেহ ভেসে যায়নি। এরপর প্রত্যক্ষদর্শীরা পুলিশকে খবর দিলে মঙপু ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সেতুর নীচ থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করে। মৃতদেহটি উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় ময়নাতদন্তের জন্য। জানা গেছে, মৃত শিক্ষক ওই ওয়ার্ডের ৪৭ নম্বর বুথের কুলিপাড়া এলাকায় ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনীর বিএলও’র দায়িত্বে ছিলেন। শিক্ষকের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই ১ নম্বর ওয়ার্ডের ধর্মনগর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। মৃত শিক্ষকের স্ত্রী ও এক শিশু সন্তান রয়েছে। 
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় একের পর এক বুথ স্তরের অফিসারের (বিএলও) মৃত্যুকে ঘিরে পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে উঠছে। চলছে রাজনৈতিক চাপান উতোরও। দেশের ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এখন এসআইআর শুনানি চলছে। শুনানি ঘিরে রাজ্যে সাধারণ মানুষের হয়রানির অভিযোগও রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নিত্য নতুন নিয়মে কার্যত বিপর্যস্ত বিএলও’রা। বর্তমানে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নামে ভোটারদের শুনানির নোটিশ জারির পর রোষের মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের।
গত ৪ নভেম্বর থেকে পশ্চিমবঙ্গ সহ ১২ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে চালু হয়েছে এসআইআর। আর এই প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকেই একেবারে প্রাথমিক স্তরে কাজ করা বিএলওদের প্রাণ ওষ্ঠাগত অবস্থা! কমিশনের ফতোয়া অনুসারে কাজ করতে গিয়ে হিমশিম অবস্থা হয়েছে বিএলওদের। এই প্রবল চাপ সহ্য করতে না পেরে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন, আবার অনেকের মৃত্যুও হয়েছে। অত্যধিক চাপ নিতে পেরে আত্মহত্যাও করেছেন কয়েকজন। অত্যন্ত স্বল্প সময়ে এমন বিপুল পরিমাণ কাজের চাপ নিতে না পেরে বিএলও’র মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ। এত জন বিএলও’র মৃত্যু হলেও নির্বিকার কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার এবং নির্বাচন কমিশন।
এদিন মৃত বিএলও শ্রবণ কুমার কাহারের স্ত্রী সরিতা কাহার অভিযোগ করে বলেন, এসআইআরের ডিউটি শুরু হওয়ার পর থেকে গত এক দেড় মাস ধরে মানসিক চাপে ছিলেন তাঁর স্বামী। কাজের চাপে সময় মতো খেতে পারতেন না। চাকরি ছাড়লে জেলে যেতে হবে এই আশঙ্কার কথাও বলেছেন একাধিকবার। মাঝে মাঝে বলতেন মরে যেতে ইচ্ছে করে। অতিরিক্ত কাজের চাপে এই সমস্ত কথা বলতেন। তাঁর অভিযোগ কাজের চাপ সহ্য করতে না পেরেই চরম সিদ্ধান্ত নেন।   

Comments :0

Login to leave a comment