মধুসূদন চ্যাটার্জি
বিজেপি, তৃণমূল কংগ্রেস কিছু গড়তে পারেনা, সব কিছুই ওরা ভাঙ্গে। ওরা ভাঙ্গে দেশ, ওরা ভাঙ্গে মানুষের মন। আর লালঝান্ডা সব কিছু গড়ে। যেমন সোনামুখীতে কমরেড রাধাগোবিন্দ বরাট ভবন গড়লেন লালঝান্ডা। দেশ রাজ্য গড়বে লালঝান্ডাই। তাই বাংলার মানুষকে বাঁচাতে পারে লালঝান্ডাই। আসুন সবাই মিলে লালঝান্ডাকে শক্তিশালী করি। শনিবার সোনামুখী বিজে হাইস্কুল সংলগ্ন মাঠে সিপিআই(এম)'র ডাকে এক বিশাল জনসভায় এই আহ্বান রাখলেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহঃ সেলিম। এদিন বিকালে তিনি সোনামুখী সিপিআই(এম) কার্যালয় কমরেড রাধাগোবিন্দ বরাট স্মৃতিভবনের সংস্কারকৃত ভবনটি উদ্ধোধন করেন। তার আগে সোনামুখীর চেলমোড় এলাকা থেকে মিছিল করে মহঃ সেলিম, সিপিআই(এম) বাঁকুড়া জেলা সম্পাদক দেবলীনা হেমব্রম, প্রবীণ সিপিআই(এম) নেতা অমিয় পাত্র, অজিত পতি সহ বহু পার্টি কর্মী, ও সাধারন মানুষ মিছিল করে এই ভবনে আসেন। সেখানে সিপিআই(এম)'র রক্তপতাকা তোলেন মহঃ সেলিম। শহীদ বেদিতে মাল্যদান করেন সিপিআই(এম) নেতৃবৃন্দ। এদিন এখানে বহু মানুষ এই ভবনের জন্য ফের অর্থ সাহায্য করেন।
সোনামুখীর এই সমাবেশকে ঘিরে গত একমাস ধরে সিপিআই(এম)'র বিভিন্ন স্তরের কর্মীরা সোনামুখী ব্লকের সমস্ত গ্রামে গিয়ে খেতমজুর, কৃষক, হাতের কাজের শিল্পী সহ সমস্ত অংশের মানুষের কাছে পৌঁছান এই সভার বার্তা নিয়ে। মানুষ জানিয়েছিলেন, তাঁরা আসবেন সভায়। প্রত্যন্ত প্রান্তের গ্রাম থেকেও মানুষ এদিন সভায় হাজির হয়েছিলেন। মহিলাদের উপস্থিতি ছিল ব্যাপক। সমাবেশের প্রথমেই সোনামুখী এলাকায় তৃণমূল খাতক বাহিনীর হাতে খুন হওয়ার শহীদ পরিবারগুলিকে সম্মান জানান মহঃ সেলিম সহ নেতৃবৃন্দ।
মহঃ সেলিম সভায় জানান, কয়েকদিন আগেই লালগড় গিয়েছিলাম। সেখানে তো বিজেপি, তৃণমূল কংগ্রেস, মাওবাদীরা একজোট হয়ে মানুষকে খুন করেছে। এটা রাজ্যের মানুষ জানেন। এরা এখন সমস্ত কিছুই লুট করছে। তৃণমূল আমদানী করেছে বিভাজনের রাজনীতি। মেহনতি মানুষকে উৎখাত করতে চায়। এসব মানুষ আর মেনে নেবেননা। লড়াই হবে।
এসআইআরের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "তৃণমূল কংগ্রেস যাদের কাজে লাগিয়ে ভোট লুটের জন্য দলদাসে পরিনত করেছিল, বিজেপি এখন তাদের দিয়েই মানুষকে শুনানিতে ডাকাচ্ছে। এটাই হয়। তামিলনাড়ু, কেরালা সুষ্টভাবে এসআইআর করতে পারল, বাংলায় হলনা কেন? কারন আগে থেকেই এই দুটি দল একটা আতঙ্কের পরিবেশ তৈরী করেছিল। এখন তৃণমূল কংগ্রেস এসআইআর নিয়ে গলা ফাটাচ্ছে।"
সেলিম বলেন, "সরকারে থাকলে কিছু দায়িত্বের কাজ তো করতে হয়। এসআইআর নিয়ে সর্বদলীয় মিটিং ডাকা হয়নি, এমন কি বিধানসভার অধিবেশনও ডাকা হয়নি। এই তো সরকারের অবস্থা। তৃণমূল কয়েকজন নায়ক, নায়িকাদের নিয়ে মিছিল করে তার দায়িত্ব শেষ করল। বামফ্রন্ট সরকারকে ফেলতে আরএসএস, জামাত ইসলাম, নকশাল, এসইউসিআই, বিজেপি সহ সমস্ত শক্তি তো এক হয়েছিল। রাজ্যকে শেষ করে দিল ওরা। মানুষের কাজ নেই। নেই গণতান্ত্রিক পরিবেশ। এই অবস্থা পাল্টাতেই হবে। সোনামুখীর মানুষ আজ জেদ নিয়ে যে কাজ করেছেন তাতে প্রমান করে দিয়েছেন যেকোন দুরহ কাজ করা যায়।"
এদিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সেলিম বলেন, "অনেকে ভেবেছিলেন নবান্নকে জব্দ করতে ৫৬ ইঞ্চি সাহায্য করবে। কিন্তু কোথাও? মানুষ এবার বুঝেছেন। বুঝেছেন তাই লালঝান্ডার দিকেই মানুষ আসছেন। মানুষের মোহভঙ্গ হয়েছে। মানুষ যখন লালঝান্ডায় ফিরছেন তখন বিজেপি প্রমাদ গুনছে। তাই বিজেপি’র এখন টার্গেট সিপিআই(এম)কে গালিগালাজ দেওয়া।"
সমাবেশে সিপিআই(এম) নেত্রী মীনাক্ষী মুখার্জি মহঃ সেলিমের ফোনে সোনামুখীর মানুষজনকে এই সমাবেশের জন্য অভিনন্দন জানান। তাঁর এই সমাবেশে বক্তব্য রাখার কথা ছিল। তাঁর বাবার অসুস্থতার জন্য তিনি আসতে পারেননি বলে জানান। এদিনের সমাবেশে বক্তব্য রাখেন পার্টির জেলা সম্পাদক দেবলীনা হেমব্রম, পার্টি নেতা অমিয় পাত্র। সভা পরিচালনা করেন মনোজ চক্রবর্তী।
Comments :0