পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন ঘোষণার আগে, আই-প্যাক অফিসে ইডি’র অভিযানের কারণে কলকাতা থেকে দিল্লি পর্যন্ত রাজনৈতিক উত্তাপ বেড়েছে। সুপ্রিম কোর্টে আইপ্যাক মামলার শুনানি রয়েছে আগামী মঙ্গলবার। তার আগে শুক্রবার রাজ্যের প্রশাসনিক পদে রদ বদল করল মমতা ব্যানার্জি’র সরকার। কলকাতার পুলিশ কমিশনারের পদ থেকে মনোজ ভার্মকে সরিয়ে তাঁর জায়গায় আনা হল আইপিএস সুপ্রতীম সরকারকে। মনোজ ভার্মা হলেন নতুন ডিরেক্টর অফ সিকিউরিটি পদে। আরজির কাণ্ডে তথ্য প্রমান লোপাটের গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত বিনীত গোয়েলকেই নির্বাচনের আগে রাজ্য পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল করলেন মুখ্যমন্ত্রী। এডিজি আইনশৃঙ্খলা হলেন আইপিএস বিনীত গোয়েল। ভারপ্রাপ্ত ডিজি হিসাবে রাজীব কুমারের বিদায়ের পরে রাজ্য পুলিশের নয়া ভারপ্রাপ্ত ডিজির দায়িত্ব পেলেন পীযূষ পান্ডে। এডিজি (এসটিএফ) হলেন জাভেদ শামিম। আইপ্যাক প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশিতে বাধা দেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা ও ডিজি রাজীব কুমার। তাদের সাসপেন্ড করার আবেদন জানায় ইডি। সুপ্রিম কোর্টে আইপ্যাক মামলার শুনানি রয়েছে আগামী মঙ্গলবার। তার আগেই রাজ্য পুলিশে ব্যাপক রদবদল।
ডিজি রাজীব কুমারের মেয়াদ ৩১ জানুয়ারী শেষ হচ্ছে। ১৯৮৯ ব্যাচের আইপিএস অফিসার রাজীব কুমার ২০২৪ সালের জুলাই মাসে রাজ্যের ডিজি হন। এর আগে, লোকসভা নির্বাচনের সময় কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে তাকে অপসারণ করা হয়েছিল। তিনি প্রথম ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে এই পদটি দখল করেছিলেন।
এদিন রাতে পুলিশের এই উচ্চস্তরে রদবদলের প্রতিক্রিয়ায় সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন- অভয়া কাণ্ডে তথ্য প্রমান লোপাটের, ঘটনার ধামাচাপা দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ ছিল তৎকালী পুলিশ কমিশনারের বিরুদ্ধে। কলকাতা পুলিশের ভূমিকা, তদন্তের চেহারা দেখেছে রাজ্যবাসী। যদিও সিবিআই কলকাতা পুলিশের ভূমিকাকে কেবল আড়াল করাই নয় , কলকাতা পুলিশের তদন্তকেই অন্ধভাবে অনুকরণ করে চার্জশিট দিয়েছিল। বোঝাপড়ার ছবি স্পষ্ট হয়েছিল। ভোটের আগে এমনিতেই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার হাল খারাপ। তার মধ্যেই এমন সেই তথ্য প্রমান লোপাটে অভিযুক্ত অফিসারকেই এমন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়ে আসা মানে পুলিশ বাহিনী যে শাসক দলের স্বার্থেই কাজ করবে তা স্পষ্ট।
kolkata Police
রাজ্য পুলিশে রদবদল
×
Comments :0