চিন্ময় কর- দাসপুর
দাসপুরের তমাল, কুকি, পারাং, বুড়িগঙ্গা, শিলাবতী ও কাঁসাই— ৬টি নদীর তটভূমিতে ১১ কিমি পথে বাংলা বাঁচাও পদযাত্রায় মানুষের ঢল নামল। দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে বহু তৃণমূল ও বিজেপি কর্মী শামিল হলেন এই পদযাত্রায়।
শনিবার দাসপুরের কলমিজোড় বুথের বিজেপি মণ্ডল কমিটির দুই সদস্য রাজু প্রামাণিক ও শ্যামল জানা এবং কাঁটাদরজা তৃণমূল বুথ কমিটির সহ সভাপতি প্রভাস সামন্ত সহ বহু সাধারণ মানুষ পদযাত্রায় শামিল হয়ে এখন থেকে সিপিআই(এম) সমর্থক হিসাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেন। মিছিল শুরু হয় রাজনগরের পারাং নদীর ব্রিজের উপর থেকে। শুরুতে বক্তব্য রাখেন সিপিআই(এম) জেলা সম্পাদক বিজয় পাল। তৃণমূল-বিজেপি’র বোঝাপড়ার রাজনীতিতে কীভাবে ১০০ দিনের কাজ বন্ধ হয়ে গিয়েছে সে কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, মঞ্চে দাঁড়িয়ে মমতা ব্যানার্জি বা তৃণমূল নেতারা বারবার বিজেপি’কে দোষারোপ করলেও কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ১০০ দিনের কাজ আদায়ের জন্য একবারও তারা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়নি। সিপিআই(এম) হাইকোর্ট থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত লড়াই করেছে ১০০ দিনের কাজ আনার জন্য। শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট রায় দিলেও তা মানেনি বিজেপি সরকার। আদালত অবমাননার মামলাও করেনি রাজ্যের তৃণমূল সরকার। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের এক গুচ্ছ অনিয়মের অভিযোগ এদিন তুলে ধরেন বিজয় পাল। তিনি বলেন, বারবার দাবি করা হয়েছে প্রকল্পের বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করার জন্য। কিন্তু তৃণমূল সরকার বা প্রশাসনের কোনও স্তর থেকেই তা প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে কোন পথে কোন পরিকল্পনা এই মাস্টার প্ল্যানে হতে চলেছে তা সাধারণ মানুষদের কাছে ধোঁয়াশা। এদিকে সিঙ্গুরে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের উদ্বোধন করে দিলেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন কোনও একটি প্রকল্প হোক বা নতুন কোনও নির্মাণ তা সম্পূর্ণ হওয়ার পরেই উদ্বোধন হয়। অথচ ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের কাজ কিছুদিন আগে শুরু হয়েছে বলে ঘোষণা করেছেন ঘাটালের সাংসদ দীপক অধিকারী। তারপর মুখ্যমন্ত্রী তা আবার উদ্বোধনও করে দিলেন। আর সেই প্রকল্পে দুর্নীতির সুযোগ তৈরি করে ভোটের আগে টাকা লুটের পরিকল্পনা করেছে তৃণমূল। নদীর বালি মাটি তুলে নিয়ে বিক্রি করছে। ঠিকাদারদের ছাড় দেওয়া হয়েছে যাতে তারা যথেচ্ছ মাটি তুলে বিক্রি করে ভোটের আগে টাকা জোগাতে পারে তৃণমূলকে।
সেই সঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, কোনও নদীর গতিপথ যদি কোনোভাবে পরিবর্তন করতে হয় সেক্ষেত্রে সংবিধান অনুযায়ী কেন্দ্রের অনুমোদন প্রয়োজন। কিন্তু এক্ষেত্রে সেসবের কোনও তোয়াক্কা না করেই ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যানের নামে দেদার মাটি কাটা চলছে। যা নদী এবং খালগুলির পার্শ্ববর্তী এলাকায় বসবাসকারী মানুষের ঘরবাড়িকে বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এই সমস্ত দুর্নীতি ঘাটালের মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলবে। তাই নিজেদের জীবন-জীবিকা ঘরবাড়ি বাঁচানোর তাগিদে সবাইকে একত্রিত হয়ে প্রতিবাদে মুখর হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বহু তৃণমূল ও বিজেপি কর্মী সমর্থক এই পদযাত্রায় সামিল হয়েছেন তাদের রুটি রুজির সঙ্কট মোকাবিলার দাবি নিয়ে। তাদের বক্তব্য তাঁরা বিভাজনের রাজনীতির শিকার হতে চান না। দাসপুরের কলমিজোড় বুথের বিজেপি মন্ডল কমিটির দুই সদস্য রাজু প্রামানিক ও শ্যামল জানা এবং কাঁটাদরজা তৃণমূল বুথ কমিটির সহ সভাপতি প্রভাস সামন্ত সহ বহু সাধারণ মানুষ এদিন সিপিআই(এম)’র বাংলা বাঁচাও পদযাত্রা সামিল হয়ে সিপিআই(এম) দলে সামিল হয়েছেন।
Comments :0