বাজেট কৃষিজীবীর বিপক্ষে। আরও কঠিন হবে অবস্থা। প্রতিবাদে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে সারা ভারত কৃষকসভা এবং সারা ভারত খেতমজুর ইউনিয়ন।
সারা ভারত কৃষকসভার সাধারণ সম্পাদক বিজু কৃষ্ণন ও সভাপতি অশোক ধাওলে ৩ ফেব্রুয়ারি বাজেটের প্রতিলিপি পোড়ানোর ডাক দিয়েছে।
খেতমজুর ইউনিয়নের সভাপতি এ বিজয়রাঘবন এবং সাধারণ সম্পাদক বি ভেঙ্কট ২ ফেব্রুয়ারি বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন ‘ভিবি জি রামজি’ বাতিল করে একশো দিন কাজের আইন এমজিএনরেগা ফিরিয়ে আনার দাবিতে।
কৃষকসভা বলেছে, কৃষি নিয়ে কার্যত কোনও কথা নেই বাজেটে। অথচ দেশের বড় অংশ জীবিকার ওপর এই ক্ষেত্রটির ওপরই নির্ভরশীল।
কৃষিঋণ মকুবের কোনও কথা বলা হয়নি। উলটে সারের ভরতুকি ১৫ হাজার ৬৭৯ কোটি টাকা কমানো হয়েছে। খরচ বাড়বে চাষের।
৩ ফেব্রুয়ারি দেশজুড়ে বাজেটের প্রতিলিপি পুড়িয়ে বিক্ষোভ দেখানোর ডাক দিয়েছে সারা ভারত কৃষক সভা।
কৃষকসভা মনে করিয়েছে যে গত ত্রৈমাসিকে কৃষিতে বৃদ্ধির হার ছিল ৩.৫ শতাংশ। গত এক দশকের গড় বৃদ্ধির হার ৪.৪৫ শতাংশের তুলনায় কম। কৃষিতে বরাদ্দ প্রায় ১.৪০ লক্ষ কোটি টাকা। কেবল টাকার অঙ্কে এই বৃদ্ধি মাত্র ৫.৩ শতাংশ। মূল্যবৃদ্ধি বিবেচনায় রাখলে কার্যত বাড়েনি বরাদ্দ। কৃষি গবেষণাতেও চলতি অর্থবর্ষে অনুমিত খরচের তুলনায় আগামী অর্থবর্ষে ৯ হাজার ৯৬৭ কোটি টাকা কমানো হয়েছে।
কৃষকসভা বলেছে, মহাত্মা গান্ধী নরেগা তো দূর, নতুন আইন ‘ভিবি জি রাম জি‘ নিয়েও কোনও কথা বাজেট ভাষণে নেই। বাজেট বরাদ্দ হয়েছে ৯৫ হাজার ৬৯২ কোটি টাকা। কিন্তু এর ৪০ শতাংশ রাজ্যকে খরচ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় খরচ ৬০ শতাংশ বা ৫৭ হাজার ৪১৫ কোটি। গতবার এনরেগার বরাদ্দ ছিল ৮৮ হাজার কোটি টাকা। কৃষিতে একমাত্র পশুপালন ও ডেয়ারি ক্ষেত্রে বড় বরাদ্দ হয়েছে। ৫৩০৩ কোটি টাকা থেকে ৬১৩৫ কোটি টাকা করা হয়েছে। কিন্তু এখানে বেসরকারি ক্ষেত্র এবং বিদেশি বিনিয়োগের সুবিধার দিকে নজর দেওয়া হয়েছে।
বাজেটে অসঙ্গতির দিক তুলে ধরে প্রতিবাদের ডাক দিয়েছে সারা ভারত খেতমজুর ইউনিয়ন। অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে বলা হয়েছে যে চলতি অর্থবর্ষে প্রথম ৯ মাসে গ্রামোন্নয়নের খাতে বরাদ্দের মাত্র ৫১ শতাংশ খরচ হয়েছে। বরাদ্দ কম। তার ওপর যা প্রবণতা তাতে সেটুকুও খরচ করবে না সরকার। জাতীয় পরিবার সহায়তা প্রকল্পে বরাদ্দ ৬৫৯ কোটি টাকা থেকে কমে ৪০০ কোটি টাকা হয়েছে। বিধবা পেনশন এবং বিশেষভাবে সক্ষকদের পেনশনে একটি টাকাও বাড়েনি।
খেতমজুর ইউনিয়ন ক্ষোভ জানিয়েছে ‘ভিবি জি রাম জি‘ প্রকল্পে অপর্যাপ্ত বরাদ্দেও। বলা হয়েছে অন্তত ২.৫০ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ কেন্দ্র না করলে ১২৫ দিন কাজ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। সংসদীয় কমিটিও কাজের দিন এবং মজুরি দুই-ই বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। কিন্তু স্বৈরাচারী সরকার তাতে কান দেয়নি। গ্রামীণ শ্রমজীবীকে আরও কঠিন অবস্থায় ফেলবে বাজেট।
খেতমজুর ইউনিয়ন বলেছে তফসিলি জাতি ও আদিবাসীদের জন্য প্রধান প্রকল্পগুলিতে বরাদ্দ কেন্দ্রীয় প্রকল্পে মোট খরচের মাত্র ০.০০০৫ শতাংশ।
Budget2026farmer
বাজেটে বাড়বে সঙ্কট, সারা দেশে বিক্ষোভের ডাক কৃষকসভা, খেতমজুর ইউনিয়নের
×
Comments :0