দীর্ঘ চার মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা অচলাবস্থার অবসান ঘটতে চলেছে। অবশেষে খুলছে বানারহাট ব্লকের দেবপাড়া চা বাগান। শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ ও লাগাতার আন্দোলনের চাপে নতিস্বীকার করতে বাধ্য হলো মালিকপক্ষ।
আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ফের বাগানে কাজ শুরু হবে, বাজবে সাইরেন। সোমবার জলপাইগুড়িতে ইন্ডিয়ান টি প্ল্যান্টার্স অ্যাসোসিয়েশন ভবনে আয়োজিত ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।
উল্লেখ্য, বোনাস ও বকেয়া মজুরি সংক্রান্ত দাবিকে কেন্দ্র করে গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে দেবপাড়া চা বাগানে কাজ বন্ধ করে দেয় মালিকপক্ষ। এর জেরে প্রায় ১১৭২ জন শ্রমিক ও তাঁদের পরিবার ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়ে। মাসের পর মাস কাজ বন্ধ থাকায় শ্রমিক পরিবারগুলির দিন কেটেছে অনাহার-অর্ধাহারে। শিক্ষা, চিকিৎসা ও ন্যূনতম জীবনযাপনের মতো মৌলিক প্রয়োজন মেটানোও হয়ে উঠেছিল কঠিন।
তবে সমস্ত প্রতিকূলতার মধ্যেও শ্রমিকরা মাথা নত করেননি। লালঝান্ডার পতাকাতলে সংগঠিত হয়ে তাঁরা আন্দোলন জারি রাখেন। সিআইটিইউ অনুমোদিত চা বাগান মজদুর ইউনিয়ন-সহ বিভিন্ন বামপন্থী সংগঠনের নেতৃত্বে একের পর এক কর্মসূচির মাধ্যমে প্রশাসন ও মালিকপক্ষের উপর চাপ বাড়ানো হয়। শেষ পর্যন্ত শ্রমিকদের এই ঐক্যবদ্ধ লড়াইই জয় ছিনিয়ে আনতে সক্ষম হয়।
ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী—
৫ ফেব্রুয়ারি দেবপাড়া চা বাগান পুনরায় খুলবে। ৭ ফেব্রুয়ারি প্রথম দফার বকেয়া মজুরি প্রদান করা হবে। পরবর্তী পর্যায়ে ধাপে ধাপে বাকি তিন দফার বকেয়া মজুরি মেটাতে হবে মালিকপক্ষকে। এছাড়া, ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে সমস্ত বকেয়া বোনাস পরিশোধ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
চা বাগান মজদুর ইউনিয়নের নেতা তিলক ছেত্রীর বক্তব্য, ‘‘এই জয় শ্রমিক ঐক্যের জয়। দীর্ঘ টালবাহানার পর মালিকপক্ষ আলোচনায় বসতে বাধ্য হয়েছে। তবে শুধু প্রতিশ্রুতিতে ভরসা করা হবে না। সমস্ত পাওনা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মেটানো হচ্ছে কি না, তার উপর কড়া নজরদারি চলবে।’’
দীর্ঘদিন পর কাজ ফেরার খবরে দেবপাড়া চা বাগান এলাকায় স্বস্তি ও খুশির আবহ তৈরি হয়েছে। তবে অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে শ্রমিকরা এখনও সতর্ক। বকেয়া মজুরি ও বোনাস পুরোপুরি হাতে না পাওয়া পর্যন্ত তাঁদের লড়াই যে নজরদারির মধ্যেই থাকবে, তা শ্রমিকদের চোখেমুখেই স্পষ্ট।
Comments :0