এপস্টাইন ফাইল এবং আদানির বিরুদ্ধে মামলার চাপে বাণিজ্য চুক্তিতে সই করেছে নরেন্দ্র মোদীর সরকার।
মঙ্গলবার সংসদ ভবনের বাইরে সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নে এই মন্তব্য করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী।
রাহুল বলেছেন, ভারত-মার্কিন বাণিজ্য সমঝোতার নামে যা করার দাবি ট্রাম্প করছেন তার অর্থ দেশের কৃষক এবং সাধারণ মানুষের রক্ত-ঘাম বেচছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
ভারত-মার্কিন সমঝোতার বয়ান প্রকাশ করেনি কোনও পক্ষই। কিন্তু মঙ্গলবার সকাল থেকেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনার দাবি উঠেছে সংসদে। জানা গিয়েছে, শিল্প বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল বিবৃতি দিতে পারেন।
গত সপ্তাহেই আদানি গোষ্ঠীর কারচুপি নিয়ে শুনানির জন্য গৌতম আদানিকে সমন পাঠাতে চেয়ে চিঠি দেয় আমেরিকা। সেদেশের শেয়ার বাজার নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানকে এই অনুমতি দেয়নি মোদী সরকার। এর আগেও আদানিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর আবেদন ফিরিয়ে দিয়েছে ভারত। ভারতে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য আমেরিকার শেয়ার বাজারে টাকা তোলে আদানি গোষ্ঠী। আমেরিকাতেই অভিযোগ ওঠে যে বিভিন্ন স্তরে বিপুল ঘুষ দিয়ে বরাত হাসিল করতে নেমেছেন আদানি। ফলে শেয়ারের দাম আচমকা নেমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
রাজ্যসভায় বিরোধীরা বয়ান প্রকাশের দাবি জানান। বিজেপি’র প্রাক্তন সভাপতি এবং সাংসদ জেপি নাড্ডা বিরোধীদের বলেন, দায়িত্ববান ভূমিকা পালন করছেন না। পালটা বিরোধীরা সরব হন গোপনে দেশের স্বার্থবিরোধী সমঝোতা সই করার অভিযোগ তুলে।
ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার দাবি জানিয়ে, ভারতীয় সময়ে, সোমবার গভীর রাতে, টুইট করেন আমেরিকার রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এমনি দাবি জানিয়েছেন আমেরিকার রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই সঙ্গে ট্রাম্প জানিয়েছেন ভারতের উপরে শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করবে আমেরিকা। ভারতের ওপরে ২৫ শতাংশ শুলকোচ চাপিয়েছিলেন ট্রাম্প। পরে রাশিয়ার সঙ্গে পেট্রোলিয়াম বাণিজ্যের অজুহাত দিয়ে ভারতীয় আমদানিতে ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছিল আমেরিকা।
আমদানির অংক বা বাণিজ্য চুক্তির উল্লেখ না করলেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ট্রাম্পকে ভারতের বন্ধু সম্বোধন করে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
এই দুইটি ও ট্রাম দাবি করেছেন যে রাশিয়ার থেকে তেল কেনা বন্ধ করছে ভারত। ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য রাশিয়াকে পরোক্ষকে সহযোগিতার নীতি থেকে সরে এসেছে। আমেরিকার কর্তৃত্বে ভেনেজুয়েলার থেকে তেল নেবে ভারত।
ভারত বা আমেরিকা কারো পক্ষ থেকেই বাণিজ্য চুক্তির কোন লিখিত বয়ান প্রকাশ করা হয়নি। তবে বোঝাপড়া যে হয়েছে তা জানিয়েছেন ভারতের শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী পীযূষ গয়াল এবং বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।
উল্লেখ্য, শিশু ও কিশোরীদের নিয়ে যৌনচক্র চালানোয় দায়ী জেফ্রি এপস্টাইনের সঙ্গে যোগাযোগ সংক্রান্ত গুচ্ছ গুচ্ছ ফাইল প্রকাশ করছে আমেরিকা। এপস্টাইন রাজনৈতিক মহলের শীর্ষ স্তরের প্রভাবশালীদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতেন। ব্যবসায়িক বরাতে দালালের কাজও করতেন। রাহুলের দাবি, এর মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের একটি ফাইল বেরিয়েছে। আরও ফাইল প্রকাশের ভয় দেখাচ্ছে আমেরিকা। বাণিজ্য চুক্তির পিছনে এ সংক্রান্ত চাপও রয়েছে।
Rahul on US Deal
আদানির মামলা, এপস্টাইন ফাইলের চাপে বাণিজ্য চুক্তি: দাবি রাহুলের
×
Comments :0