চন্দননগর হাসপাতাল মোড় থেকে অর্থ সংগ্রহের সুসজ্জিত মিছিল শুরু হয় মিছিল লক্ষীগঞ্জ বাজার হয়ে উদ্দি বাজার পরিক্রম করে চন্দননগর স্টেশনে শেষ হয়।
জনসংযোগ ও গণপথ্য সংগ্রহ ও কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সিপিআই(এম) রাজ্য কমিটির সম্পাদক মহম্মদ সেলিম, হুগলি জেলা সম্পাদক দেবব্রত ঘোষ, রাজ্য কমিটির সদস্য মনোদীপ ঘোষ, অরিন্দম ভট্টাচার্য, ঐকতান দাশগুপ্ত ও পিনাকী চক্রবর্তী সহ অন্যান্য কমরেডরা।
রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন , সারা জেলা জুড়ে অর্থ সংগ্রহ ও জনসংযোগ কর্মসূচি চলছে। ফেব্রুয়ারি মাসে মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা স্বাভাবিকভাবেই মাইক যেখানে বাজানো যাবে না সেখানে মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করার জন্যই এই কর্মসূচি। আমরা প্রতিনিয়ত মানুষের বিভিন্ন দাবি দাবার লড়াইয়ের জন্য রাস্তায় রয়েছি। আন্দোলন করছি আমাদের কাছে কোনরকম গরু চুরি, কয়লা চুরির ও ইলেকট্রনাল বন্ডে টাকা নেই তাই মানুষের কাছে হাত পেতেই এই অর্থ সংগ্রহের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
অর্থ সংগ্রহ কর্মসূচিকে ঘিরে মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতন উদ্দি বাজার এলাকা থেকে শুরু করে হসপিটাল রোড, স্টেশন রোড সমস্ত জায়গাতেই দেখা যায় মানুষ এগিয়ে এসে লাল সালুতে সিপিআই(এম)কে সাহায্য করার জন্য অর্থ দিচ্ছেন।
কোন্নগরে জনসংযোগ ও গন অর্থ সংগ্রহ কর্মসূচিতে মিনাক্ষী মুখার্জি। ছবি - শুভ্রজ্যোতি মজুমদার।
এদিন উত্তরপাড়া বিধানসভার অন্তর্গত কোন্নগরের তিনটে বুথ ৪৭, ৪৮, ৪৯ তিনটে বুথে জনসংযোগ ও গণঅর্থসংগ্রহ অনুষ্ঠানে ছিলেন পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যা মিনাক্ষী মুখার্জি। কোন্নগর নবগ্রাম এলাকা উত্তরপাড়া বিধানসভা ঘেঁষা এমন একটি জায়গা যা পঞ্চায়েত হলেও তার আর্থ সামাজিক অবস্থান শহরের মতো। এই তিনটে বুথ মিলিয়ে ৬৫০০-৭০০০ মানুষের বাস যাদের মধ্যে ১৫-২০% ১৮ থেকে ৩০ বছরের কম বয়সের যুবক যুবতী কর্মহীন বা বেকার। পশ্চিমবঙ্গে কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত। মিনাক্ষী মুখার্জি কে দেখে তারা তাদের সমস্যার কথা জানান। স্থানীয় বেকার যুবক হাবিব সরকার ও বেকার যুবতি রুবি বর্মন জানান আমরা আশা করেছিলাম প্রধানমন্ত্রী সিঙ্গুরের মাটিতে শিল্প গড়ার কথা বলবেন। কিন্তু তিনি হতাশ করলেন। মুখ্যমন্ত্রী বলছেন সিঙ্গুরে ওয়্যার হাউস হবে। তিনি বেকারদের ব্যাপারে কিছুই ভাবলেন না। তাই আমরা মনে করছি শিল্পের দাবিতে কাজের দাবিতে বামপন্থীরা খুব ই প্রাসঙ্গিক।
এদিন সত্তরোর্ধ মঞ্জু চক্রবর্তী, অশিতিপর সনাতন বাগ, নবতীপর সবিতা রায় মিনাক্ষী মুখার্জি কে আশীর্বাদ করেন। এদিন কোন্নগর বিধানসভা জুড়ে উৎসাহী মানুষের সারি ছিলো চোখে পড়ার মতো। শ্রমজীবী মানুষ তাদের সামর্থ মতো দান করেন তাহবিলে।
এদিন মিনাক্ষী মুখার্জি বলেন কাজের দাবি এরাজ্যের মূল দাবি। মানুষ তো সরল তারা ভেবেছিলেন মোদী কিছু বলবে সিঙ্গুরের জমিতে শিল্পের কথা বলবে। তারা তো আর জানেনা মোদী মমতার সেটিং আছে বাংলার মাটিতে শিল্পের কথা তারা বলবে না। শিল্পের দাবিতে একমাত্র যদি কেউ সরব থাকে সেটা কেবল লালঝান্ডা আর কেউ না। কোন্নগরে কি অবস্থা জোর করে জুলুম করে পঞ্চায়েতগুলো দখল করলো তৃণমূল শুধু লুট করার জন্য। কি অবস্থা মেয়েদের এখানে মেয়েদের নিরাপত্তা কোথায়। দিনের বেলাতেও মেয়েদের নিরাপত্তা নেই। আমরা আজ মানুষের কথা শুনতে এসেছি গণ অর্থ সংগ্রহ কর্মসূচি হলেও এটা মানুষের কথা যোগাযোগ করার কর্মসূচি। মানুষ আসছেন আমাদের মধ্যে মতের বিনিময় হচ্ছে আমরা জানতে পারছি নতুন অভিজ্ঞতা হচ্ছে আমাদের। গণ অর্থ সংগ্রহ শেষে বোসপুকুর এলাকায় একটি পাড়া বৈঠকে সামিল হন মীনাক্ষী মুখার্জি। সেখানে নবগ্রাম এলাকার মানুষ তাদের মত বিনিময় করেন নেত্রীর সঙ্গে। মিনাক্ষী ছাড়াও কর্মসূচিতে ছিলেন পার্টির জেলা সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য শ্রুতিনাথ প্রহরাজ, অভিজিৎ চক্রবর্তী, তীর্থঙ্কর রায়, এরিয়া সম্পাদক আশীষ দে প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।
Comments :0