প্রতিবেশীদের তুলনায় কম শুল্ক চাপিয়েছে আমেরিকা। আমেরিকা-ভারত বাণিজ্য চুক্তির পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে এমনই দাবি করলেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীকে তোষণে ব্যস্ত সংবাদমাধ্যম এই দাবির সপক্ষে যুক্তি দিয়েছে যে পাকিস্তানের ওপর আমেরিকা ১৯ শতাংশ আমদানি শুল্ক চাপিয়েছে। ভারতের ওপর ১৮ শতাংশ শুল্ক চাপানোর ঘোষণা করেছেন আমেরিকার রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মঙ্গলবার বিরোধীরা সংসদে দাবি তোলেন যে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি সম্পর্কে বিশদে জানাতে হবে। সংসদে চুক্তির বয়ান পেশ করেনি সরকার। সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন গয়াল।
তাঁর দাবি, ট্রাম্পের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে দেশের পক্ষে ‘সবচেয়ে ভাল’ চুক্তি করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
এদিন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ আবার দাবি করেছেন যে চুক্তি ভারতের মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্পের সামনে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সুযোগ খুলে দেবে।
আমেরিকা ভারতের ওপর একতরফা ‘পালটা শুল্ক’ চাপায় ২৫ শতাংশ হারে। তার ওপর ‘জরিমানা’ চাপে রাশিয়ার থেকে তেল কেনার জন্য। ভারতীয় পণ্যে মোট ৫০ শতাংশ আমদানি শুল্ক চাপায় আমেরিকা। এবার তাকে ১৮ শতাংশ করায় ‘জয়’ দেখছেন মোদীর সঙ্গীরা।
গয়ালের দাবি, কৃষি ও ডেয়ারি ক্ষেত্রে ভারতের স্বার্থ রক্ষা করেই হয়েছে চুক্তি।
ট্রাম্প সোশাল মিডিয়ায় চুক্তি সম্পর্কে যা লিখেছেন তার সঙ্গে যদিও গয়াল বা শাহের দাবি একেবারেই মিলছে না। তিনি বলেছেন ৫০০ বিলিয়ন ডলার আমদানি করতে বাধ্য থকবে ভারত। আমেরিকার পণ্যে কোনও আমদানি শুল্কই থাকবে না। জ্বালানি, প্রযুক্তি, কৃষি সহ একাধিক ক্ষেত্রে আমদানি করতে রাজি হয়েছে ভারত।
গয়াল বলেছেন, আমেরিকা প্রথমে টুইট করেছে কারণ ওরাই শুল্ক কমাতে রাজি হয়েছে। তিনি বলেছেন, আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তির ঘোষণা হবে বিধি অনুযায়ী বাকি কয়েকটি কাজ সেরে ফেলার পরই। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী কৃষি ও ডেয়ারি শিল্পকে রক্ষা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেসকে দেশকে আরও কঠিন বাণিজ্য চুক্তির পথে ঠেলে দিতে চাইছিল।
কিন্তু ভারত কি আমেরিকার পণ্যে আমদানি শুল্ক শূন্য করবে? ৫০০ বিলিয়ন ডলার আমদানি করতে বাধ্য থাকবে? এমন প্রশ্নের জবাব দেননি গয়াল।
Trade Deal Goyal
‘প্রতিবেশীদের তুলনায় শুল্ক কম’, বাণিজ্য চুক্তির সাফল্য বর্ণনায় গয়াল
×
Comments :0